ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা যে পতাকা পেয়েছি, তাকে ছিন্ন ভিন্ন করেছে সেই স্বাধীনতা বিরোধীরা যারা ৪২ বছর আগেও এদেশের মানচিত্রকে জন্মের আগেই নিশ্বেষ করে দিতে চেয়েছিল। ভাষার এই মাসে তারা শহীদ মিনার ভেঙে চুড়মার করে দিয়েছে। বাংলাদেশকে তারা আবার রক্তাক্ত করে দিয়েছে। কিন্তু আমি মোটেও অবাক হইনি দেশদ্রোহিদের এমন র্কীতিকলাপে; আমি অবাক হই যখন দেখি বিএনপি এইসব হায়েনার দল ঘাতক-দালাল, রাজাকার, আলবদরদের ডাকা হরতালে সমর্থন দেয়। অবাক হই যখন দেখি এই বিএনপিতেই রয়েছেন কত শত মুক্তিযোদ্ধা, যারা ৭১’এ দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন; যারা জনগনকে প্রতিশ্রুতি দেয় ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধীদের উপযুক্ত বিচার করার, যারা নিজেদেরকে মুক্তযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে দাবী করে! হায়! ক্ষমতার লোভের কাছে কি ‘দেশপ্রেম’ কিছুই না?

বাংলাদেশের চেতনাবিরোধী এইসব গোষ্ঠী সব সময়ই এদেশের বিরূদ্ধে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে এসেছে। কিন্তু এতদিন তা ছিল আড়ালে আবডালে; আর এবার তারা পতাকা আর শহীদ মিনারের অবমাননা করে সরাসরি আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল তারা কতটা দেশ আর স্বাধীনতাবিরোধী। এই বাংলাদেশকে আরেকটা আফগানিস্তান বা পাকিস্তান বানানোর জন্য তারা প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দিবে। এই তাদের ইসলামী চেতনা? দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ। আর একটি দেশের পতাকাকে সম্মান জানানো দেশপ্রেমেরই অঙ্গ। সেই জাতীয় পতাকাকে যখন তারা ছিড়ে পদদলিত করে তখন কোথায় থাকে তাদের ইমান? হায়রে ধর্মের নামে আর কত ব্যাবসা দেখতে হবে!!!

ধর্মকে পুঁজি করে এইসব ব্যবসায়ীরা এটা জানে না যে, আমরা আমাদের জাতীয় পতাকার অবমাননা কোন ভাবেই মেনে নেব না। তারা যতই সহিংসতা করুক তারুন্যের জোয়ার কোনো ভাবেই থামবে না। যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় না পেলে আমরা আন্দোলন থামাবো না। একবার গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙে দিয়েছে তো কি হয়েছে, আমরা হাজার বার তা গড়ে তুলবো। স্বাধীনতা আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছে, দেশকে কলঙ্কমূক্ত করতে আমরা জীবন দিতেও প্রস্তুত আছি। দেশের শত্রুরা যতই তান্ডব চালাক না কেন, তাদের প্রতিহত করতে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচী দেব। বিজয় আসবেই। জয় বাংলা!!!!