ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

আজ বাবা দিবস। আজকাল দিবস-এর এতই চল যে রোজই কোনও না কোনও দিবস এসেই যায়। ক্যালেন্ডারের পাতায় লিখিত তারিখটি জানান দেয় আজ এই দিবস … আজ অই দিবস … ! আমাদের কালে আমরা কিন্তু খুবই স্বল্প সংখ্যক দিবস-এর কথাই জানতাম। যেমন “শহীদ-দিবস”, “স্বাধীনতা-দিবস”, “বিজয়-দিবস” এমনই হাতে গোণা গুটিকতক দিবসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলাম বলা যায়। তো, আজ চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রার। বিশেষতঃ “মা-দিবস” / “বাবা-দিবস”-এ বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে মিডিয়া-টিভিতে-ফেসবুকে-ব্লগে এবঙ পারিবারিকভাবেও এই দিবস দুটি পালিত হচ্ছে। ভালোই লাগে যখন ব্যাস্ত ছেলেমেয়েরা এই দিনটি মনে করে একটু পাশে বসে / জড়িয়ে ধরে।

আজ ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়তেই আমার মনে পড়লো আজ বাবা দিবস। আমি ডাইনিং টেবিলে দৈনিক পত্রিকা পাঠরত আমার স্বামীকেই জানাই “হ্যাপি ফাদারস ডে”! তিনি হেসে ওঠেন “ওহ আজ বুঝি ফাদারস ডে”! আমিও হাসি। জানি যে আজ তিন ছেলেমেয়েই তাদের বাবাকে উইশ করবে … হয়তো কোনও রেঁস্তোরায় খাওয়াতে নিয়ে যাবে … এমন ভাবনার সঙ্গে-সঙ্গেই আমার বিষম বাবা-কে মনে পড়ে, যিনি গতবছর মার্চের সাতাশ তারিখ চিরতরেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না-ফেরার দেশে। যিনি অত্যন্ত সহজ-সজ্জন হিসেবেই আত্মীয়স্বজন-পাড়ায় পরিচিত ছিলেন। আমাদের সবচে’ কাছের মানুষ প্রিয় বাবা। যেমন ভালোবেসেছেন আমাদের তেমনই ভালোবাসতেন বাড়ি-বাগান-গাছগাছালি ও মানুষ। তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁরই সাধের বাড়িটি বড়ো প্রাণহীন আজ। গেলেই প্রাণ ক্যামন করে ক্যামন হু-হু-ধূ-ধূ বাড়ি-বাগানপাট কি জানি কি বেদনায় একাকী যেন ! বাবার মৃত্যুর পরে বাবার-বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছেটিও গেছে মরে ! ঢাকার ধূলোময় ধূসর যান্ত্রিক বাতাস ভেদ করে তবুও মাঝেমাঝেই বাবার বাড়ির তীব্র পুরনো সহজিয়া-সবুজিয়া প্রাণের ডাক শুনতে পাই একান্ত একাকী সময়ে। চারপাশ আশ্চর্য সংক্রামিত করেই বাবা যেন ডাক দেন আগের মতোই সস্নেহ ডাক ! জগতে “মা” ডাক-এর পরেই আরেকটি মধুরতম ডাক। আজও অবিকল সেই ডাকটি শুনছি আপন মনে !

এবঙ আজ বাবা দিবসে মনে পড়ছে সেই প্রিয় গান

“কাটেনা সময় যেন আর কিছুতে
বন্ধুর টেলিফোনে মন বসেনা
জানালার গ্রিলটাতে ঠেকাই মাথা
মনে হয় বাবা যেন বলছে আমায় …. আয় খুকু আয় …. আয় খুকু আয়”!

১৭ জুন ২০১২ ইং