ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

কবি সুফিয়া কামাল-এর ইমেজ, অনলাইন নিউজ থেকে সংগৃহিত।

কবি সুফিয়া কামাল নামটি আমাদের অনেক প্রিয় সর্বজনশ্রদ্ধেয় নাম। যাঁর জীবনভর বলিষ্ঠ-সাহসী ভূমিকা তাঁকে দিয়েছে জননী-সাহসিকা-র ইমেজ। জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশাল-এর এক বনেদী পরিবারে। সেকালে অল্প বয়সে কন্যাকে পাত্রস্থ করা নিয়ম ছিলো বলে মাত্র ১২ বছর বয়সেই তাঁর বিবাহ হয় সৈয়দ নেহাল হোসেন-এর সঙ্গে। যিনি ছিলেন শিক্ষানুরাগী এবঙ নারীশিক্ষার সপক্ষে। এমন স্বামীর অনুপ্রেরণায় যে কালে নারীশিক্ষা সমাজে মোটে সমর্থন-ই পেতোনা তেমন কালে সাহিত্যপাঠে নিবেদিত হবার অবাধ সুযোগ পান। তখনকার মাসিক সওগাত পত্রিকায় তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশ-এর পরেই তাঁর কলম আর থামেনি। ত্রিশ-এর দশকে কোলকাতায় স্বামীর কর্মস্থলে থাকার সুবাদেই তিনি সান্নিধ্যে আসেন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শরতচন্দ্র, বেগম রোকেয়া-দের মতো সে সময়ের খ্যাতিমান সাহিত্য-সাংস্কৃতিক দিকপালদের। ১৯৩৮-এ তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “সাঁঝের মায়া” প্রকাশিত হয় ও সাহিত্য মহলে সমাদৃত হয়। কাব্যগ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।

দেশবিভাগ-এর পরেই সুফিয়া কামাল সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। তারপর জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন উদ্দীপক কর্মকান্ডে। প্রখর স্বাধিকার চেতনা তাঁকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত করেছে। তিনি ‘৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ‘৭১-এর স্বাধীনতা অর্জনে ছিলেন অকুতোভয় এক জননী সাহসিকা রূপেই। ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠা দেন শিশু-সংগঠন “কচিকাঁচার মেলা”। ১৯৬১-তে পাকিস্তান সরকারের রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদী আন্দোলনের অগ্রণী ভূমিকা ছিলো তাঁর-ই। সেই সময় কঠিন বিধিনিষেধ-এর বিরুদ্ধে গিয়ে একদল স্বাধীনচেতা তারুণ্যের সঙ্গেই সমভাবে যুক্ত থেকে গড়েন সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। ১৯৬৯-এ তিনি ছিলেন মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি। তাঁর নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটির সদস্য মহিলারা গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়। সেই সময় তিনি বর্জন করেন পাকিস্তান সরকার-এর দেয়া ‘তমঘা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাব।

আজ খুব করেই মনে পড়ছে আমার অত্যন্ত প্রিয় বন্ধুসম খালাতো বোন ইংরেজী-র অধ্যাপক ও রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কিশোয়ার কামাল-এর সঙ্গে কবি সুফিয়া কামাল-কে দেখতে গেছিলাম ধানমন্ডিস্থ তাঁর প্রিয় “সাঁঝের মায়া”-য়, কবি তখন অন্তিম শয্যায় প্রায়, তেমন করে চিনতে পারেন না কাউকে … তবু কিশু আমার বাবার বাড়ির পরিচয় দিতেই চিনে নিয়েছিলেন … আজও অই দৃশ্যটি আমায় অশ্রুসজল করে দেয়। ১৯৯৯-র ২০ নভেম্বর এই সাহসী-সংগ্রামী-মহিয়সী কবি-র মহাপ্রয়ান হয়।

আজকের তরুণদের এই সাহসী-সংগ্রামী কবি-র কথা কবি-র আদর্শটি ছড়িয়ে দেবার কাজটি করা উচিত মনে করি। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বিজয়-এর লক্ষ্য অর্জনে যোদ্ধাদের অকুতোভয় সহযোগ-সমর্থনা যুগিয়েছেন। এই মহিয়সী নারী জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামাল-এর ১০১তম জন্মদিনে তাঁকে জানাই লাল সালাম। জানাই হার্দিক শ্রদ্ধার্ঘ্য।

২০ জুন ২০১২ ইং