ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

তালেবান সংস্থা কর্তৃক সদ্যই ইউটিউব-এ ছাড়া হয়েছে তিন মিনিটের একটি বর্বর হত্যাদৃশ্য। যেন বা অপরাধ জগতের কোনও ভয়ঙ্কর ফিল্মি দৃশ্য .. কিন্তু না, এটি মোটেও ফিল্মি দৃশ্য না। এটি একটি নিদারুণ সত্য ঘটনা .. ভিডিওতে ধারণকৃত। আনন্দবাজার পত্রিকার খবর-এর সূত্র থেকে জেনেছি আফগানিস্তান-এর পরোয়ান প্রদেশে বাইশ বছর বয়েসি নজিবা বিয়ে করে স্থানীয় এক তালিবান কম্যান্ডারকে। বিবাহের পর অপর এক কম্যান্ডারের নজিবা-র ‘পরে নজর পড়ে এবঙ অই কম্যান্ডার আকৃষ্ট হয়ে পড়ায় তালিবানদের দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখবার জন্যই নজিবা-র বিরুদ্ধে আনা হয় বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়বার অন্যায় অভিযোগ। এবঙ একটি বিচার সভা বসিয়ে নজিবা-কে দোষী সাব্যস্ত করে। যেখানে নজিবা-র বক্তব্য দেয়ার কোনও অধিকার দূরের কথা নজিবা তার পাশে পরিবারের কাউকে পায়নি ! ভিডিওতে ধারণকৃত দৃশ্যে দেখা যায় যে সারা শরীর ছাইরঙ বোরখা আবৃত পেছনমুখ করে একটি মেয়ে বসা .. এবঙ তাকে ঘিরে রেখেছে শতাধিক লোক .. হঠাত এক দাঁড়িওয়ালা লোক মন্ত্রোচ্চারণের ভঙ্গিতে বিড়বিড় করতে-করতে হাতের এ-কে ৪৭ থেকে এক পশলা গুলি চালালো মেয়েটির দিকে .. মুহূর্তে মেয়েটি রক্তাক্ত লুটিয়ে পড়লো মাটিতে .. আর তা দেখে উল্লাসে ফেটে পড়লো মেয়েটিকে ঘিরে থাকা শতেক লোক “ইসলাম কি জিন্দাবাদ .. মুজাহিদিন জিন্দাবাদ ..” শ্লোগান দিতে-দিতে .. এমন ভয়ঙ্কর বর্বর ভিডিওটি আমায় গত দু’দিন ধরেই আতঙ্কগ্রস্ত করে রেখেছে .. আমি আমার স্বামীর সঙ্গেই শুধু খবরটি-ই শেয়ার করেছি খানিক মুক্তি পাবার জন্য .. অতঃপর ব্লগ-এ শেয়ার করছি .. কিন্তু আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ যাঁরাই ভিডিওটি অনলাইনে দেখেছেন তা যেন ভুলেও সংযুক্তি হিসেবে শেয়ার না করেন .. কেবল বার্তা হিসেবে অসহায় নজিবাদের পক্ষে জনমত গড়ায় কাজ করুন প্লিজ .. এবঙ ভিডিওটি বর্জন করবার জন্য অনুরোধ করুন বন্ধুদের ..

আমার মনে পড়ছে ক’বছর আগেই বাংলাদেশে আফগান-তালেবান-জঙ্গীর ইসলামী জিকিরে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা আতঙ্কগ্রস্ত ছিলাম .. বর্তমান সরকারের বহু অপছন্দের দিক সত্ত্বেও এই একটি সবচে’ সফল দিক-এর জন্যই বিশ্বে বাংলাদেশ আজ গ্রহনযোগ্য। যদিও আজও তালেবানি-মুজাহিদিন সমর্থকগঙ আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকেই ষড়জাল বিস্তারে সচেষ্ট এবঙ তাদের মদতদাতার অভাব নেই বলেই বাংলাদেশ শঙ্কামুক্ত নয় মনে করি। এদেশে অনেক ফতোয়াবাজদের অন্যায় সালিশি সভায় অসহায় নারীরা শাস্তির শিকার হয় বিচার বহির্ভূতভাবে আর সন্ত্রাসি-জঙ্গী-ডাকাতদের পক্ষে মানবতার দাবী ওঠায় “হিউম্যান-রাইটস” জাতীয় সংগঠন। অথচ ফতোয়াবাজ আর সন্ত্রাসী-জঙ্গীদের বিরুদ্ধে এসব সংগঠন তেমন সোচ্চার হয়না। ইসলাম ধর্মের পবিত্র কুরআন-এ আল্লাহ ঘোষনা করেন “কোনো মানুষকে হত্যা করা বা ধ্বংসাত্মক কাজ করার অপরাধে আইন-এর বাইরে কেউ যদি কাউকে হত্যা করে সে যেন গোটা মানব জাতিকেই হত্যা করলো”। আজকের অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় আল্লাহ-র এই ঘোষণা যেন মেয়ে জাতির জন্য নয় ! মেয়ে জাতি যেন মানবজাতিভুক্ত নয় ! অথচ বাংলাদেশ-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান কোনও অংশেই কম না। বিশ্বে বাংলাদেশ-এর মুক্তিযুদ্ধ ও বীরাঙ্গনাদের অবদান জ্বলন্ত সত্য আজ। তবুও তারা স্বদেশে উপেক্ষিত অনেকভাবে।

যাহোক, আজ আমার মনন জুড়েই কিন্তু নজিবা নামে মেয়েটির বর্বর হত্যাদৃশ্য .. অই ভয়ঙ্কর-বর্বর দৃশ্য আমায় বেদনার চাদরে ঢেকে ফেলেছে .. বিবেকের ভিতরে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে পারছিনা কিছুতে .. আমার মনের ভিতর নজিবা-র রক্তের ধারা ঝরছে .. আমার বিবেকের ভিতর মেয়েজন্মের দায়ভারে গভীর রক্তপাত চলছে .. আমি কি করে নিজদেশে / ভিনদেশে নজিবাদের ‘পরে বর্বর হত্যাযজ্ঞ থামাবো .. সে যে আমার সাধ্যের অতীত .. জানিনা জগতে মেয়েজন্ম এই একুশ শতকের সীমানা ছুঁয়েও এতটা প্রশ্নবিদ্ধ .. এতটা জখমিত কি করে হতে পারে .. !! আমার অস্থিমজ্জা ভেদ করেই রক্তপাত হয় .. রক্তপাত হয় ..

১২ জুলাই ২০১২ ইং