ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

বরষার জলধারার এক দারুণ প্রিয় ছবি

ছবিটি একজন বন্ধুর পোস্ট আমার ফেসবুক ওয়ালে। আমার দারুণ ভালো লাগলো আষাঢ়স্য শেষ দিবসে .. সঙ্গেসঙ্গেই শেয়ার করলাম .. পদ্মপাতায় জলের কথাতো বহু গানে ও কবিতায় ধরা পড়েছে .. কিন্তু এমন কচুপাতায় বরষার জলধারার ছবি দেখিনি এর আগে। সঘন সবুজ কচুপাতায় বর্ষা ঝরছে .. এদিকে মেঘলা আকাশটা হঠাত রোদের আভায় হেসে উঠলো যেন কবিগুরুর গানের ভাষায় “মেঘের কোলে রোদ হেসেছে বাদল গেছে টুটি .. আজ আমাদের ছুটি ও ভাই” বলতে চাইছে .. কিন্তু ছুটি কি আর সহজে মেলে .. রাজ্যের যত গোমড়ামুখো বসদের কারণে চাকুরিজীবির চাইলেই ছুটতে পারেনা মনও যেন ! আবার নিতান্ত বেকারদের “নেই কাজ তো খই ভাজ” এমন অবস্থায় মেঘবন্দনা কিংবা মেঘলাদিন নিয়ে ভাবতে ভারি বয়েই গেছে ! তাদের বিরস বদন হাস্যোজ্জ্বল করার আশ্চর্য যাদুর কাঠি আমার হাতে থাকলে নাহয় ছুঁইয়ে দেয়া যেতো ! অগত্যা আমারই যেন বা “নেই কাজ তো খই ভাজ” অবস্থা ! একবার আলোয় হেসে ওঠা খোলাজানালা দেখি আরেকবার ব্লগ লিখছি .. “আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে ..” আষাঢ়স্য শেষ দিবস এসে আমায় এই কথাটি বলে যাচ্ছে .. অগত্যা আমি কি তা লিখে পারি .. !

ভাবছি থাকুকগে রাজ্যের যত গোমড়ামুখো হাজার কাহিনী পড়ে .. এমন আষাঢ়স্য দিনটি আর কি জীবনে পাবো ফিরে .. ! জীবনসন্ধে এসে গেলো বলে .. আজ কি আমার তার-ই কথা ভেবে আগাম মনভার-মুখভার করার প্রয়োজন আছে ! তারচে’ এই যে ক্যামন অফুরান প্রহর এলো .. তারেই নিই বরণ করে .. ! কবিগুরু নিশ্চয় এভাবেই কতশতবারই না বরণ করেছেন এক একটি বরষার প্রহর .. ! তবেই না তাঁর অঙুলি লিখেছে আষাঢ়ের বিদ্যুতমাখা সুর ও বাণী “বজ্র মাণিক দিয়ে গাঁথা আষাঢ় তোমার মালা ..” ! সে মালা আমরা কি আর দেখি তাঁর-ই মতো করে .. তবুও কোনও কোনও আশ্চর্য প্রহরে হয়তো দেখতে চাই বলেই খানিক হয়তো দেখি .. আর যা দেখিনা .. তারেই রাখি অধরা মালা গাঁথার মতো করে .. কিঞ্চিত আঁকঝোঁকে বেঁধে একান্ত হৃদয়জ লেখায় .. যদিও তা মনের হয়না কিছুতে .. কিছুতেই .. ! তথাপি যার যা স্বভাব সে কি না করে পারে .. ! সে তা করেই চলে .. !

আদতে আমি সবসময় এই ভেবেই লিখি .. লিখছি .. এবঙ লিখে যাবো বলেই বস্তাপচা থিওরি-থিম এড়িয়ে চলি .. এড়িয়ে যাই চারপাশের নেগেটিভ চিন্তাচেতনাধারীদের .. আমার যা কিছু ভালোলাগার .. তার নিভন্ত শিখাটিকে জ্বালিয়ে যেতে চাই সকল পজিটিভ চেতনাতলে .. এই চেষ্টাই আমায় আজও বাঁচিয়ে রেখেছে .. যে কারণে হয়তো আমি সবচে’ বেশি মন্তব্য করি নবীনতম লেখাটিতেও .. যখনই নজরে আসে .. হয়তো কেউ-কেউ আমায় অযথাই ভুলও বোঝে .. তাতেও ততটা আহত কিন্তু হইনা .. জানি, আহত হওয়া মানেই আমি রিএ্যাক্ট করছি .. যা আমি একদম করতে চাইনা .. আমৃত্যু আমি যেন আমি-ই থাকি .. আমার চাওয়া এই। জানিনা, জগতের প্রতিক্রিয়াশীলের মনে ক্যামন করে প্রতিনিয়ত এত প্রতিক্রিয়ার জন্ম হয় .. ! আর তা দিয়ে নেগেটিভ গ্রুপের সৃষ্টি করেই পজিটিভ চেতনা পুরোপুরি নিভিয়ে দেয়া যায় কি না .. !

আজ যে এই সুন্দর আলোমাখা মেঘলাদিন পেলাম .. আর লিখতে পেলাম .. হৃদয়জাত এইসব সামান্য কথামালা .. কোনওদিন আচমকা এক দমকা অন্ধকারের ধাক্কায় যদি নিভেও যায় .. নিশ্চয় আগামীর কোনও পজিটিভ চেতনা এসে আবার নিভে যাওয়া শিখাটিকে জ্বালিয়ে দেবে .. দেবেই। না দিলেতো জগতবাড়ি অন্ধকার .. কেউই বাতি জ্বালতে আসবেনা আর .. তেমন দিন আসা মানেই জগতবাড়িতে এসে গেছে কেয়ামতের আলামত .. সে যেন আরও হাজার বরষার পরেই আসে .. আজ আমার হার্দিক প্রার্থনা এই।

৩১ আষাঢ় ১৪১৯