ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে এভাবেই নৃশংস হত্যাযজ্ঞে শহীদ হন অগণিত বাংলার হৃদয়ে নমস্যজন ....... সংগৃহিত ছবি অনলাইন।

বাংলার মাটি বাংলার হৃদি আজও অশ্রুসজল হয় একাত্তুরের এদেশীয় স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারগঙের অগণিত অপরাধের বিভতসতায়। সেইসব দেশীয় শয়তান পাকিজান্তার দোসর হয়েই অগণিত নৃশংস অত্যাচার-হত্যাযজ্ঞের অন্যায়-তান্ডবলীলায় দেশমাতৃকাকে ক্ষতবিক্ষত-রক্তাক্ত করেছে নয়মাস ধরেই। সেই জখমচিত্র সর্বংসহ এই বাংলাদেশ ধাত্রী মায়ের মতোই শিকড়জলে বহন করেই যাচ্ছে। বাংলার মানুষ নিশ্চয় একাত্তুর ভোলেনি, ভুলবেনা কোনওদিন।

তাইতো আজও যখন দেখি এই বাংলার মাঠে রাজাকাররা আমাদের স্বাধীনতার চেতনামূলে আঘাতের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তখন হৃদয় শঙ্কিত হয়। দেখছি আবারও একাত্তুরের স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বাংলার মাঠে নেমেছে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে। বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে মরিয়া হয়েই হিংস্র আর বেপরোয়া অনেক কর্মকান্ডে লিপ্ত রাজাকাররা। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে বাংলাদেশকে নিপতিত করতে অনেক অপরাজনৈতিক ঘটনা ঘটিয়েই চলেছে এই চক্র। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অনেক অশুভ ততপরতার খবর জেনে আমরা সাধারণরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। দেশে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চলছে ঠিক এই সময়ে জামায়াত-শিবির চক্র দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সন্ত্রাসীদেরকে সংগঠিত করছে এমন খবর প্রায় রোজই প্রকাশিত হচ্ছে পত্রপত্রিকা সহ বিভিন্ন মিডিয়ায়। স্বভাবতঃই আমরা যারা একাত্তুরের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে সযতনে ধারণ করে যুদ্ধাপরাধীদের বাংলার মাটিতে উচিত বিচার দেখবার অপেক্ষায়, আমরা শঙ্কাবোধ করছি। বিশেষতঃ ঈদের দিন দুপুরে বাগেরহাটের রামপালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে হত্যার হুমকি ও জঙ্গী শ্লোগান দিয়ে শিবির-এর মিছিল করবার দুঃসাহসে আমরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়ে পারছিনা। এমন ঔদ্ধত্য ও সাহস এই চক্রটি পাচ্ছে কি করে ??? এই প্রশ্নটি অবশ্যই আসছে। শেখ হাসিনা-কে হত্যার হুমকি যদিও এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন মহলের অপরাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকেই দেয়া হয়েছে, শুধু হুমকি দেয়া নয়, হত্যার ভয়ঙ্করতম চেষ্টাও করা হয়ছে, ২১ আগস্ট যার জ্বলন্ত উদাহরণ বহন করে চলেছে। সেদিনের ভয়ঙ্কর গ্রেনেড হামলায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নেত্রীকে বাঁচাতেই নিজেরা মানব ঢালের মতো বুহ্য রচনা করে নেত্রীর প্রাণ বাঁচান। শেখ হাসিনা কানে প্রচন্ড আঘাত পেয়েও বেঁচে যান। কিন্তু দলের অগণিত নেতাকর্মীরা আজও স্প্লিন্টার-এর ভয়ঙ্কর জখম বয়ে যাচ্ছেন। সেইদিন দলের বর্ষীয়ান সুযোগ্য-ত্যাগী নেতা বাংলাদেশ-এর বর্তমান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান-এর স্ত্রী আওয়ামীলীগ-এর অত্যন্ত আত্মনিবেদিত সুযোগ্য নেত্রী আইভি রহমান মারাত্মকভাবেই জখমিত হন, বোমায় তাঁর দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়েই তিনি চিকিতসকদের আপ্রাণ চেষ্টাকে ব্যার্থতায় পরিণত করেই মৃত্যুবরণ করেন। আওয়ামীলীগের প্রয়াত মেয়র হানিফ নেত্রীকে রক্ষার মানব ঢালের মধ্যেই মারাত্মক আহত হন। এবঙ পরবর্তীতে বিদেশে চিকিতসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ইতিহাসের এই জঘন্যতম গ্রনেড হামলা বাংলার মানুষ ভুলবেনা। বাংলাদেশ-এর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই জঘন্যতম হামলা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েও বেঁচে আছেন। এই নারকীয় গেনেড হামলার পেছনে যারা, তাদের সব তথ্যই আজ বেরিয়ে আসছে। এবঙ বাংলার মানুষ আজ তাদের বিচারিক শাস্তিবিধান অবশ্যই দেখতে চায়।

অথচ, খুব দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক সত্য এই যে, এদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনও বাংলাদেশ-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর যথার্থ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যার্থ বলেই স্বাধীনতাবিরোধীরা আজও বহুবিধ অপরাজনৈতিক ততপরতায় লিপ্ত। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে মিডিয়া বহুবার খবর প্রচার করার পরেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরের স্বাধীনতাবিরোধীদের সনাক্ত করে তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি। বিষয়টি এখন সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নেয়া জরুরী। এই চক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বেই যথাযথ ব্যাবস্থা গৃহিত না হলে বাংলাদেশের ‘পরে আরও ভয়ঙ্করের অশনি নেমে আসতে পারে। তা যেন কিছুতেই না হয় তার জন্য রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সতর্ক পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত।

২৬ আগস্ট ২০১২ ইং