ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

যে হাতে একদিন ধরেছিলো স্বামীর স্বামীর হাত সুখের আকাঙ্ক্ষায় স্বামীর হাতেই পুড়লো তার সকল জাগতিক বন্ধন ..

সপ্তাহ খানেক আগের কথা, অনলাইন সংবাদে জেনেছিলাম রেশমা নামের এক নারীর কথা। যে তার সংসারে তারই স্বামী কর্তৃক মারাত্মকভাবেই অগ্নিদগ্ধ হয় ও তার ভাই আবদুল বারী এবঙ এলাকাবাসির তাতক্ষণিক উদ্যোগে পুলিশ-এর সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ-এর বার্ন ইউনিটে গভীর রাতে ভর্তির পরে চিকিতসাধীন রয়েছে। তার মেয়ে ও ভাই আব্দুল বারী-র দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ-সূত্র জানায় প্রায় বছর আঠারোর সংসার জীবনে রেশমার স্বামী দুলাল হাওলাদারের হাতে রেশমা সাম্প্রতিক সময়ে নির্যাতন ভোগ করতো। তাদের ঔরসজাত কন্যা সুমি স্থানীয় এক স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। বিগত কিছুদিন ধরেই রেশমা ও দুলাল-এর তুমুল ঝগড়া-বাকবিতন্ডা হতো দুলাল-এর অপর নারীতে আসক্তি নিয়ে। সম্প্রতি অই নারীকে গোপনে বিবাহ করবার খবর রেশমা জানাতে স্বামী দুলাল-এর সঙ্গে চরম মন কষাকষির সূত্রপাত এবঙ গত সপ্তাহে রাত্রি আড়াইটার দিকে সুমির ঘুম ভাঙে মায়ের আর্ত চিতকারেই। সুমি ছুটে যেতেই দেখে মায়ের সারা শরীরে দাউদাউ আগুন আর পাশেই বাবা দুলাল দাঁড়িয়ে ..সুমির উচ্চকন্ঠ কান্নায় দুলাল এগিয়ে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টায় নিজে সামান্য পোড়ে। এবঙ হসপটালের তাতক্ষণিত চিকিতসাতেই সেরেও ওঠে। দুলাল সেই রাতেই হসপিটাল ছেড়েছে। প্রাথমিক পুলিশি জেরায় দুলাল বলেছে, রেশমা নিজেই নিজের শরীরে আগুন দিয়েছে। অন্যদিকে রেশমার ভাই জানায়, অগ্নিদগ্ধ হয়েও রেশমা মৃত্যুর আগে ভাইকে জানিয়েছে দুলাল তার শরীরে কেরোসিন ঢেলেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো। এবঙ দুলাল এখন পলাতক। পুলিশ দুলালের কোনও মোবাইল নম্বরে দুলালকে পাচ্ছেনা। এক সপ্তাহ ধরে জ্বলন্ত যন্ত্রণা ভোগার পরে রেশমা তার জীবন-এর সকল জ্বালাযন্ত্রণার হাত হতে মুক্তি পেয়েছে গতকাল বিকেলে, এই খবর পড়লাম আজ-ই।

আমাদের দেশেই শুধু না, স্বামীর হাতে উপমহাদেশের বহু নারীর ভাগ্যেই এমন জ্বালাযন্ত্রণা ভোগার সংবাদ হরহামেশাই আমরা পাই। মনটা বেদনায় বিষম ভারাক্রান্ত হলেও আমরা রেশমাদের বাঁচানোর উপায় খুঁজে পাইনা। যে হাত পরম বিশ্বাসে ধরেই রেশমাদের সংসারযাত্রা এবঙ অবশেষে এমনতর জ্বলন্ত জীবন থেকে মুক্তির মর্মান্তিক হৃদয়ক্ষরা চিরবিদায়, বিশ্বাসের হাতেই জীবন্ত অগ্নিদগ্ধের এই পরিণতি কি তাদের ভুলেও কাম্য ছিলো ??? প্রশ্নটি আজ আমায় তাড়িয়ে ফিরছে। আমি জানিনা, দুলালের উচিত শাস্তিবিধান হবে কি হবেনা, সুমিদের মতোন মাতৃহারা অনেক সুমির কি হবে !!! কার ‘পরেই নির্ভর করবে এইসব হতভাগীরা ??? কে নেবে তাদের জীবনের জ্বালাযন্ত্রণাভার-এর সকল দায় !!! স্বামীর হাতে, ভাইবেরাদরের হাতে, প্রেমিক পুরুষের হাতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন উপায়ে নির্যাতিত নারীরা এইভাবে আরও কতকাল জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ হয়ে বা এসিডে ঝলসে কিংবা নৃশংস অত্যাচারেই মারা পড়বে ??? এদের কি কিছুতে বেঁচে থাকার অধিকার-এর বিধান নিশ্চিত করার উপায়ও খুঁজেই পাওয়া যাবেনা !!!

জানি, এখন বিশ্বময় নারীর ‘পরে অন্যায়-এর প্রতিবাদের ঝড় উঠছে, বহু সরকারী-বেসরকারী সংগঠন কাজ করছে, কিন্তু, তবুও নারীরা বাঁচতে পারছেনা নিজের প্রিয় সংসারেও, এ সত্য ভয়াবহভাবে উঠে আসছে সাম্প্রতিক কালের অগণিত নির্মম ঘটনায়। অথচ এইসব নারীরা কত না আশায় অনাগত সুখের স্বপ্নে স্বামীর হাত ধরেই সংসারে নিজেকে নিবেদন করেই অপমৃত্যুর শিকার হয় … জানিনা, কোনও কালেও এইসব রেশমাদের মতো হতভাগীরা বাঁচবার উপায় নিজেরাই আগাম নির্ধারণ করার উপায়টি খুঁজে নিয়েই নিজেদের বাঁচিয়ে তুলতে সক্ষম হবে কি না … তবুও আজ আমার সর্বান্তকরণেই চাওয়া, বেঁচে থাকার অন্ততঃ একটি রাস্তা রেশমাদের জন্য আল্লাহ বিধান করুন … নইলে রেশমাদের জীবন এইভাবে পুড়তে থাকবেই … আমরা অসহায় রেশমাদের সংবাদ পড়তেই থাকবো …

এ নিশ্চয় “অন্যায় যে করে ও অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে”-র মতোই নিতান্ত আপ্তবাণী হয়েই কেঁদে মরার কথাটি বলবে বাতাসে-বাতাসে।