ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

অট্টহাসিতে সমুজ্জ্বল একটি মুখ, অনলাইন-ছবি

ছেলেবেলায় পাঠ্য বইয়ে পড়া একটি ছড়া আমার প্রিয় আজও –

“রামগড়ুরের ছানা হাসতে তাদের মানা
হাসির কথা শুনলে বলে হাসবো না-না-না-না।”

পড়তে-পড়তেই হাসির বুড়বুড়ি জমতো পেটে এবঙ হা-হা-হি-হি হাসির শব্দে কেউ না কেউ ছুটে আসতো, আমি আবার পড়তাম, আমার সঙ্গে সবাই হাসতে থাকতো। হাসি বড়োই আনন্দের। বড়োই সংক্রামকও। অন্যদের মাঝেও দ্রুত ছড়িয়ে যেতে হাসির মতো ক্ষমতা আর কিছুতে নেই। অথচ রামগড়ুরের ছানার মতো গোমড়ামুখো মানুষরা হাসির কথা শুনেও হাসতে জানেনা ভেবে আমার বেশ মায়াই জন্মে তাদের জন্য। হাসির কথায় হাসতে না জানাটি একটি দুঃখবোধ জাগায়। মনে হয় – আহারে যে মানুষ হাসির কথায় হাসতে পারেই না সে মানুষটি হয়তো অসুস্থ, চিকিতসার প্রয়োজন।

সম্প্রতি গবেষণাজাত স্বাস্থ্য রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে অট্টহাসিতে অসুখ কমে। তাইতো আজ বিশ্বের বহু শহরে গড়ে উঠেছে “হাসি সঙ্ঘ”। যেখানে সদস্যরা সবাই খোলা আকাশতলে অট্টহাসি চর্চা করেই অসুখের বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয় করে। গবেষকরা বলছেন অট্টহাসির ফলে শরীরে একটি বাড়তি সঞ্চালন প্রক্রিয়া মানুষের অসুখ-রোগভোগে অত্যন্ত সহায়ক শক্তির এক উতস হয়ে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রাণিত করে। অর্থাৎ অট্টহাসি একটি মহৌষধ হিসেবে কাজ করার ফলেই হাসির সুফল ছড়িয়ে পড়ায় তা অসুখ নিরাময়ে সাহায্য করে। তাইতো বিশ্বে অনেক “হাসি সঙ্ঘ”-র সদস্যরা আরও অনেকের মাঝেই এই অট্টহাসির উপকারী শক্তির কথা জানান দিয়ে তাদের যুক্ত করছে নিজেদের সঙ্গে। অথবা “হাসি সঙ্ঘ” গড়তে উতসাহ যোগাচ্ছে। আজকের বৈশ্বিক জটিল জীবন থেকে হাসিরা যখন ক্রমেই দূরে-দূরে তখন এমন একটি সংবাদ নিশ্চয় সুখকর। তাছাড়া নিত্যনতুন রোগের বিস্তারে মানুষ আজ ভয়েই থাকে কখন কি রোগে আক্রান্ত হয় – এমন আশঙ্কাটি এসেই যায়। অনেক মানুষের কঠিন রোগের ব্যায়বহুল চিকিতসা খরচ বহনের সামর্থ না থাকায়, তাদের রোগে ভুগেই মরা ব্যাতীত উপায়ই থাকেনা। আবার অনেকে চিকিতসা করাতে গিয়ে জমিজমার সমস্তই বিক্রির পরেও ধারদেনায় নিঃস্ব অবস্থা। পত্রিকায় সাহায্য চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েও পায়না অত অর্থের যোগানদার কাউকে। এ এক বার্ণিং সমস্যা সমাজে। আমাদের দেশেতো সরকারী-বেসরকারী হসপিটাল-ক্লিনিকে কঠিন রোগের চিকিতসা বিত্তহীনের সাধ্যাতীত বিষয়। অন্যদিকে বিত্তশালীরা সামান্য রোগেও ঊড়ে যান বিদেশে। জীবনের এ এক বিচিত্র বৈষম্য চিত্র।

যাহোক, এই যখন অবস্থা, তখন গবেষণাজাত স্বাস্থ্য রিপোর্টটিতে মানুষের রোগের বিরুদ্ধে লড়াই-এর যোগানদার অট্টহাসি চর্চার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে আরও ব্যাপকভাবে এই বিশ্বাসে এই লেখা। আজই বেরিয়ে পড়ুন তবে বাড়ির পাশের পার্কের দিকে। কোনও “হাসি সঙ্ঘ”-র সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করুন। জয় করুন অসুখকে। রোগ প্রতিরোধের মহৌষধ নিজের শরীরের ভিতর তৈরী করুন অট্টহাসি হেসেই। হা-হা-হা আমিও চাইছি অট্টহাসি হেসেই রোগমুক্তির সহজ চর্চাটি সহজে রপ্ত করতে। বিশ্ব হতেই অসুখ বিদায় নিক অট্টহাসির সঞ্চালনে প্রার্থনা এই।

৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ ইং