ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

আন্তর্জাতিক সংস্থা হু-র পরিসংখ্যান মতে বিশ্বের আত্মহত্যার সংখ্যাটি খুব উতকন্ঠাজনক। বছরে ৪০ লক্ষ মানুষ আত্মহত্যা করার সংবাদ জানার পরে স্বভাবতই ভারাক্রান্ত-আক্রান্ত না হয়ে পারেনা কেউ। প্রত্যেক চল্লিশ মিনিটে একজন মানুষ আত্মহননের পথটি বেছে নিচ্ছে এমন সংবাদ জেনে নিজের দেশের চিত্রটি জানবার জন্যই উইকিতে অনেক খুঁজেও সঠিক পরিসংখ্যান পাইনি। নেই। অর্থাৎ এদেশে বছরে কতজন আত্মহনন করে তার কোনও হিসেব-ই নেই। অথচ রোজ-ই আমরা মিডিয়ার বরাতে অনেক আত্মহনন-এর খবর পাই। বেশিরভাগ আত্মহত্যাপ্রবনতা পুরুষ-এর চাইতে নারীদের মধ্যেই বেশি এবঙ সেই মাত্রাটি আশংকার বলেই আত্মহত্যা প্রতিরোধের উপায়টি নিয়েও ভাবতেই হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অনেকভাবে প্রচারনা ও সহযোগীতার হাত বাড়াচ্ছে। আত্মহপ্ত্যাপ্রবনতা কমাতে যে কোনও সূত্রে কারও আত্মহত্যা চেষ্টার সম্ভাবনা রয়েছে জানামাত্র তাদের টিমওয়ার্কের জোরেই দ্রুত সেই মানুষটির ঠিকানায় পৌঁছেই তার জন্য প্রয়োজনীয় কাউন্সিলিং-এর উদ্যোগ নেয়া হয়। এদেশে যা অকল্পনীয়। পরিবারে যে ছেলে-মেয়ে-ভাই-বোন বা অন্যজন আত্মহনন-এর পথেই যাচ্ছে আত্মহনন-এর ঘটনা ঘটে যাবার পরে তা জেনে মাতমের হাহাকারের চিত্র আমরা হরহামেশাই দেখতে পাই। অথচ, আত্মহত্যা প্রবনতাটি প্রতিরোধ করার বিষয়ে কিঞ্চিত ধারণাও কিন্তু অনেকখানি সহায়ক হয়েই পরিবারের নজরে এনে দিতো যে তাদের ছেলেটি কিংবা মেয়েটি অথবা ভাইবোন-অন্যজন-এর আত্মহত্যাপ্রবন হয়ে পড়ার মতো ডিপ্রেশন বা অপর কোনও সিমটম। তখন তাকে জরুরীভাবে সহমর্মীতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা নিতে পারলে মর্মস্পর্শী আত্মহত্যার ঘটনাটি ঠেকানো যেতো। আবার এও সত্য যে আমাদের আর্থ-সামাজিক বৈষম্য সহ আরও বহুবিধ অন্যায়-অপরাধচক্র এতই বেড়েছে এবঙ এ বিষয়ে আইন থাকলেও কোনও সহায়ক সংস্থা না থাকার কারণে কারও বাড়িয়ে দেয়া হাতটি ধরবার কথাটি পর্যন্ত জানেনা এদেশের অধিকাংশ জনসাধারণ। পরিবারের সবার-ই সচেতনতা বাড়ানোর জন্য যে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা জরুরী সেরকম কোনও অনুষ্ঠানের উদ্যোগ সরকারি-বেসরকারি মিডিয়ায় দেখিনা। নিত্যনতুন চ্যানেল যত বাড়ছে তাতে কেবল সংবাদ-বিজ্ঞাপণ-নাটক-বিনোদন-টক-শো-এর শো দেখতে-দেখতে ক্লান্ত-বিরক্ত হয়ে টিভিটি অবশেষে সুইচ-অফ করতে হয়।

আত্মহত্যা যে একটি অপরাধ ও মহাপাপ, অন্ততঃ এমন ধারণা নিয়েই কিন্তু বিটিভি যদি রোজ-ই কিছু আকর্ষনীয় সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের উদ্যোগটি গ্রহণ করে তাহলে গ্রামাঞ্চলেও সহজে মানুষকে আত্মহত্যার কুফল সম্পর্কে অবহিত করেই আত্মহত্যারোধে একটি সহায়ক অবদান রাখতে পারতো। অথচ, সেটি না সরকার না নির্মাতা কারোর মাথাতেই আসেনা। আগামীতে আসার সম্ভাবনা আছে কি নেই সেই তথ্যটি জানাও সম্ভব না।

তবুও আজ আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-এর প্রতিপাদ্য থিমের বাক্যগুলো আমায় খুব প্রাণিত করলো বলেই এই লেখার জন্ম। যে বাক্যটি বলছে – “লাইট ক্যান্ডেল নিয়ার আ উইনডো” এ যেন সেই জহির রায়হান-এর অবিস্মরণীয় ফিল্মের ভাষা – “লেট দেয়ার বি লাইট” এর কথাও মনে পড়িয়ে দিলো। জানিনা এদেশের মানুষ কোনওদিনও “লাইট ক্যান্ডেল নিয়ার আ উইনডো” সম্পর্কে অবহিত হবে কি না, কেননা অধিকাংশের না আছে ইন্টারনেটের সংযোগ না আছে সঙ্গতি। ডিজিটাল দুনিয়া হতে তারাতো অনেক দূরের সুবিধাবঞ্চিত জাতি ! কে দিবে তাদেরকে জানালাতলে নূন্যতম একটি আলোজ্বলা মোমবাতির ভাষা??? যে ভাষা আলোর মতোই তা সে যতই মৃদু হউক তবুও যোগাবে প্রণোদনা, বলবে – “এ জীবন অনেক মূল্যবান, অনেক সম্ভাবনাময়, দোহাই তাকে মেরোনা, দোহাই বাঁচতে শেখো, নিজেকে হত্যা করোনা, আত্মহত্যা একটি মহাপাপ”।

১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ইং