ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

লেখালিখির পুরনো ইমেজ - সংগৃহিত ছবি- ইন্টারনেট।

একদা মানুষ অসভ্য জাতি ছিলো বটে, কিন্তু অসভ্য মানুষই ক্রমশঃ বেঁচে থাকার জন্য আদিম সমাজের মধ্যেই ক্রমান্নয়ে নিজের চিন্তা-ভাবনাকে জুড়তে শিখে গেলো। তারও পরে ধীরলয়ে পাথর কুঁদে নিজের মনোভাব ফোটাতে গিয়ে স্থাপত্যকলা এঁকে ফেললো ! হ্যাঁ সৃষ্টির সেরা মানুষ জাতি এভাবে নিজেদের সৃজনশীল পথ পরিক্রমায় কালের বিষম ঘূর্ণাবর্তে আবর্তনের মধ্যে অনেকভাবে চক্রবুহ্যের জটিল রূপান্তরে রূপান্তরিত হতে হতেই আজকের মানুষ। যে মানুষ আজ এসে পৌঁচেছে এই ওয়ার্ল্ড-ওয়াইড-অন্তর্জালচক্রে। এবঙ সনাতন প্রায় সবকিছু বর্জন করে অর্জন করে ফেলেছে অভাবিত সাফল্য। এ সত্য অস্বীকারের প্রশ্ন ওঠেনা।

কিন্তু তথাপি কিছু অনৈতিকতা আজ সকল অর্জনকে ছাপিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বিবেককে। তখন ভাবতেই হয় – বর্জিত করে এলাম যা-যা, সেসব-এর ভিতর রয়েছে রক্তাক্ত আমাদের ঐতিহ্যগত জন্মগত অতীত। অর্থাৎ আদিস্বত্ত্বার পরিচিতি। সেথায় রয়েছে আমার শিকড়ের বীজও। বীজধান কেবল তারই গর্ভজাত। অর্থাৎ প্রশ্নটি এসেই যাচ্ছে –

অতীত বর্জনীয় হওয়া উচিত কতটা ? কতটুকু বর্জন করলে অর্জন করা সম্ভব আস্থা ?

কেননা, আজকাল আস্থার অভাবেই বিনষ্ট হচ্ছে সম্পর্ক, এতে নিশ্চয় কারও দ্বিমত নেই। অথচ আস্থা একটি বিরলপ্রজ শব্দের মতো ধোঁয়াশা হয়ে উঠেছে যেন। যেন বা মরিচিকাময় অধরা এক অস্তিত্ব। একদা এখানে ছিলো। অথচ এখন হাওয়া। হাওয়ার পেছনে ধাওয়া খাওয়া মানুষরা ধাক্কায় হতচকিত হয়েও পুনরায় ছুটছে অর্জনের তরেই। ছুটন্তকে ধরার অদ্ভুতুড়ে উন্মাদনায়। তারে কি বলবো সৃষ্টিজাল ? তারে কি বলবো অর্জন ? প্রশ্নগুলো সবার মনে অভিন্ন অনুভুতি হয়তো জাগাবেনা। কেননা, যারা অতীত অস্বীকার করতে চায় অনেক অন্যায়ের নামাবলীতে, তারা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় নিজের পরিচয়ের সূত্র বর্জন করে ধোঁয়াশা-গোঁজামিলভর্তি বিস্তর গোলমেলে নব-পরিচিতির আইডি উপস্থাপন করে অন্তর্জালের অবাধ সুযোগ কাজে লাগিয়ে। দিব্যি উচ্চশিক্ষার সার্টিফিকেটধারী লেখক কিংবা ব্লগার হওয়া অত্যন্ত সহজ কাজ। এবঙ অতিথি পাঠক হয়ে মন্তব্য করবার অবাধ অধিকার এখানে। উপরন্তু নাগরিকতার রাইট। “সিনিয়র-সিটিজেন” বলে যে আধুনিক রাষ্ট্রের সন্মানজনক ন্যূনতম অধিকারের বিষয় রয়েছে তার কোনও ভিত্তি টের পাওয়া যায়না কোথাও। এই সত্যটি আজকাল সর্বত্র অদৃশ্য আড়ালভেদী দৃশ্যমান।

আরও ধন্দময় বিষয় যোগ হয়েই চলেছে অধিকারের বহুবিধ প্রয়োগে। এই রাইট যদি মানব সমাজের অন্যায়-অবিচার-অবিবেচনাজাত ঘটনাবলীর পক্ষে জায়েজ করবার কাজটি করে তবে তা রাইটের অনধিকার-চর্চায় সমাজকে বিষিয়ে দিতে সক্ষম হবে। এবঙ হচ্ছেও। তারই আলামত যথেষ্ট টের পেয়েছি সম্প্রতি বিভিন্ন পোস্ট হতেই। যেখানে সবাই লেখক। সবাই জানান দেয় অধিকারের দাপটেই –

“এই যে দিলাম যা খুশি লিখে” …
“এই যে অমুকের লেখায় দিলাম যা খুশি ছবিপোস্ট …মন্তব্য ঠেসে …” – ঠেকায় কার বাপের সাধ্যি ! সেখানে সবিনয়ে যদি বা –

“ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা ভাই” – বলিও, তবু পরিত্রানের উপায় থাকেনা। জবাব না দিলে –

“ও, যাহোক, ভয়েই চুপ” – অথবা –

“জবাব দিচ্ছেন না যে” –

এমনও মন্তব্য আসবেই ! শ্রদ্ধাবোধের বালাইতো কবেই ঘুচেছে হৃদয় হতে। যেন বা একদার সকল আপদ বিদায় করে বেঁচেছে / বাঁচিয়েছে সমাজ হতে ঝেঁটিয়ে বিদায় করাই উচিত আজিকে –

“ছি-ছি এ্যাত্তা জঞ্জাল …” !!!

জানিনা, কি আছে আগামীতে কপালে …তথাপি যেহেতু সনাতন লিখিয়ে, দোয়াত-কলম যুগ হতেই এসে পৌঁচেছি এইখানে অবাধ ব্লগযুগে – তো, ভয় পেলে চলবে …! নিজেরে নিজেই বলি –

“চলবেনা হে …”!

সঞ্জীব বড়ুয়ার গানটি আমার বিষম প্রিয় একটি গান –

“গাড়ি চলেনা – চলেনা – চলেনা রে –
গাড়ি চলেনা – ”

প্রবীনের গাড়িতে তেল অনেক কষ্টে পোড়াতে হয় বলেই গাড়িভর্তি পেট্রল নয় সিএনজি গ্যাস-ই ভরে রাস্তায় নামি। লিখিও মন থেকেই একান্ত নিজস্ব উপলব্ধিজাত অভিজ্ঞা। বানোয়াট কিছুই লিখিনি আজও, লিখবোনা। এবঙ –

“আক্রমণাত্মক-অশ্লীল-মেধাস্বত্ব-চুরি-“র মতো বিষম গুরুতর একটি অভিযোগ নিয়েও হাসবো না কাঁদবো ভেবে না পেয়ে হাসছি-ই – হা-হা-হা-।
তবে আমার কিন্তু তথ্যপ্রমাণ চাই – কোথায় কোন লেখায় (লিংক সমেত) কার “মেধাস্বত্ত্ব”-টি চুরি করেছি। তা নইলে অভিযোগের দায়ভার নিজের কাঁধে বয়েই যাওয়ার মতোই অর্থ দাঁড়াতে পারে। অর্থকে অনর্থক এখানে অনর্থের সঙ্গেই যুঝতে হয় যে !!! এ বিষম অস্বস্তিকর যদিও, তবুও, লিখতে চাইলে মানতে হবে সব-ই। হ্যাঁ, সত্যিইতো, এইখানে আমরা সবাই সমান। বয়সের প্রাধান্যে জুড়ে বসাটি চলবেনা। একদা “শ্রদ্ধাস্পদেষু” লেখার যুগ অচল। এখন সচল অন্তর্জাল প্রোফাইলের যুগ। সত্য-মিথ্যের গোঁজামিলভর্তি ধোঁয়াশাময় প্রোফাইলে লুকোনো সত্য খুঁজেও পাবেনা কেউ। হা-হা-হা- এ বড়ো কঠিন জাল। রহস্যজাল। ভেদ করা আমার মতো সনাতনপন্থীর কাজ না। তবুও ভাবি –

হয়তো নতুন অগ্নিমন্ত্রজালেই ধরা পড়বে মিথ্যের নেকাব। আমার তা দেখাও হবেনা। না হোক। তবু সত্য-র জয় হউক। তবু সত্য-র জয় হউক।