ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

তাজরীন গার্মেন্টসের পুড়ে অঙ্গার লাশ শনাক্ত করতে চাইছে স্বজনেরা - অনলাইন নিউজ হতে সংগৃহিত ছবি।

বাংলাদেশ যেন শোকের দেশ – কোথাও আর কোনও সংবাদ নেই – কেবল অগণিত অঙ্গার হয়ে যাওয়া লাশের দাফন – এ ক্যামন বাংলাদেশ আজ !! গভীর শোকাহত আমরা অসংখ্য মৃতের স্বজনের হাহাকারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে হৃদয়ভারাবনত আজ। আমার কিছুতেই বিশ্বাস হয়না যে মানুষ মানুষের ‘পরেই এত নির্মম বাণিজ্য করতে পারে !! মুনাফাখোর এইসব তুখোড় ব্যবসায়ীগঙ আদতে বহুবিধ রাজনৈতিক অসততার সঙ্গেও যুক্ত। যাদের কাছে মানুষ কিংবা শ্রমিক মূল্যহীন, রাজনৈতিক অসত-বাণিজ্য বহুগুণ লাভের এবঙ লোভের। যেন সেখানে মানুষ ও আসবাবের মধ্যে তফাত নেই। বরং আসবাব তাদের কাছে অনেক বেশি প্রাধান্য পায় মানুষ / শ্রমিকের চাইতে !! নইলে কি করে শ্রমিকরা যখন বাঁচার জন্যই আগুনের ভিতর ছুটে মরছে, অনন্যোপায় মরিয়া শ্রমিকরা, তখনও মালিক পক্ষের কারও বিন্দুমাত্র উদ্যোগ দেখা যায়নি শ্রমিকদের রক্ষার্থে !! মালিক তো নয় যেন বা কাপালিক !! লোহার ফটকে লৌহকঠিন তালা !! শ্রমিক পুড়ে মরুক !! মালিকের কি ক্ষতি !! ইন্স্যুরেন্স পলিসি করা আছে না !! চতুর্গুণ পুষিয়ে নেয়া তাদের জন্য কঠিন কিছুই না, তারা কি আর হা-ভাতে শ্রমিকের জাত !! দেশের তারা উঁচুজাতের নাগরিক, ইন্ড্রাস্ট্রিয়ালিস্ট !! অথচ তাদেরই কারণে আজ জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ কয়েক শত শ্রমিক। এখনও অনেক শ্রমিকের স্বজন খুঁজে বেড়াচ্ছে পুড়ে কয়লা হওয়া লাশের স্তূপে কারও বোন, কারও স্ত্রী বা ভাই, ভাবীকে। এ ক্যামন বাণিজ্য !! আমরা জবাব চাই।

তারা যতই ক্ষমতাধরের জাত হউক, তাতে আমাদের কি !! আমরা যারা বাংলাদেশের সজাগ-সচেতন নাগরিকের দল, আমরা তাদের এমন বাণিজ্যের নিকুচি করি। আমরা ধিক্কার জানাই। আমাদের বিবেক তাদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চায়। আমরা সংবাদচিত্রে ও সংবাদভাষ্যে দেখেছি শুনেছি সব। টাকার বিনিময়ে অভাবী শ্রমিক আগুন দিতে উদ্যত হয়েছে এমন সচিত্র প্রতিবেদন দেখে আমরা ঘৃণা জানানোরও ভাষা পাচ্ছিনা আজ। অন্যায় কর্মকান্ডেরও একটা সীমা থাকতে হয়। সীমালঙ্ঘনকারী যারা তাদের আল্লাহ কিছুতে ক্ষমা করেন না, তো, আমাদেরও ক্ষমার প্রশ্ন ওঠেনা। এই বাণিজ্যলোভী ক্ষমতাধররা আজ জনসাধারণের ঘৃণার আগুনে পুড়ে মরুক।

সেইসঙ্গে আমরা আজ জনসাধারণের পক্ষ হতেই তাদের সবার আইনত বিচার দাবী করছি। শুধু জাতীয় শোক পালনে অইসব মুনাফাখোর অসত বাণিজ্যকারী রাজনৈতিক খেলুড়ে মালিকপক্ষের কিছু ক্ষতির সম্ভাবনা দেখিনা। তাদেরকে জরুরী আইনের মাধ্যমে যথোচিত শাস্তির আবেদন জানাই। শ্রমিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর দায়ভার তাদের অবশ্যই বহন করতে হবেই। তা নাহলে বাংলাদেশে সভাবনাময় পোষাক শিল্প ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা বর্তমান সময়ের একটি সঙ্কটকালীন অবস্থায় আরও শোচনীয় পরিণতি-ই বয়ে আনতে পারে। আমরা যারা বাংলাদেশকে সততঃ এক উন্নয়নশীলতামুখী স্বদেশ হিসেবে চাই, আমরা অত্যন্ত অমঙ্গলের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি । উত্তোরণের পথ খুঁজতে হবে সরকার ও সমাজের বিশিষ্টজন সহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের।

মোদ্দাকথাটি এই যে – আমরা বাংলাদেশকে এমন অগ্নিদগ্ধ বিপন্ন বাংলাদেশ দেখতে চাইনা কিছুতে। আর একটা এমন অগ্নিকান্ডের চিত্রও আমরা দেখতে চাইনা। জীবনের এমন অঙ্গার হওয়া লাশের দাফন আর একবারও যেন বাংলাদেশে না হয় তার নিশ্চয়তাবিধান চাই। কবির ভাষাই প্রযোজ্য আজ বাংলাদেশে – এই মহররমের মাসে –

“ত্যাগ চাই মার্সিয়া –
ক্রন্দন চাহিনা।।”