ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

বাংলাদেশ-ইমেজ-ফটোগ্যালারি হতে সংগৃহিত।

প্রিয় বাংলাদেশ,
বিজয়ের বিয়াল্লিশটি বর্ষ ছুঁয়েছো তুমি, ক্যামন আছো? তোমাকে ছুঁয়ে আজও হু-হু-ধূ-ধূ কত কি মন ক্যামন করা ছবিরা হৃদয় কাঁদিয়ে দিয়ে শুধোয় – “ভালো আছো”? কি করে ভালো থাকি – যখন তোমার পাঁজর মাড়িয়ে দাবড়ে বেড়ায় পুরনো শকুনেরা? তোমার মাঠে তোমার ঘাটে তোমার জনপদে একাত্তুরের পুরনো শত্তুর আবারও চক্রান্তরত। ধর্মের মুখোশ এঁটে আঠারো দলের জোটের সঙ্গে জনসভায় বুক ফুলিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবী জানাচ্ছে। যেসব চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা বর্তমানে বিচারাধীন। এই স্বাধীন দেশে চল্লিশ-চল্লিশ বর্ষের বিচারের বাণীটি কেঁদে ফিরেছে তোমার আকাশে-বাতাসে-নদী ও বঙ্গোপসাগরতলে। অতঃপর বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রচেষ্টায় জনদাবীর ফলশ্রুতি হিসেবে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল আইন মেনে তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। এবঙ তাতেই চরম ক্ষিপ্ত বাংলাদেশের পুরনো শকুনের দলটি। পেছনে তাদের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রী মহল। তারা একের পর একেক আগুনে পূড়িয়ে ভস্মিভুত বাংলাদেশ বানাতে চাইছে। জানি, সর্বংসহ তোমার হৃদয় ফেটে চৌচির হয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, তোমার সঙ্গে আমাদেরও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অথচ বড়ো আশায় বেঁধেছি হৃদয় তোমারই সর্বংসহ গর্ভজাত স্বপ্ন ও শিকড়ের শক্তিতে। জানি, তোমার স্বাধীনতা অর্জনে –

“নিঃশেষে যারা দিয়ে গেছে প্রাণ-
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।”

এ শিক্ষা তুমি-ই দিয়েছো প্রিয় বাংলাদেশ। আমরা কি কিছুতে আজ তাদের ক্ষমা করতে পারি – যারা তোমায় একাত্তুরে বানিয়েছিলো “ধর্ষিতা বাংলাদেশ”? আমরা কি তোমার সেইসব ভয়ঙ্করের দিনরাত্তির – নয় মাসের দুঃসহ দুঃখ-পৈশাচিক-তান্ডব-খান্ডব-দহন কিছুতেই ভুলতে পারি? কত না অন্যায়-অত্যাচারের নয়টি মাসের রক্তক্ষরণের অধ্যায় পেরিয়ে বিজয়ের রক্তলাল সূর্যের মুখ দেখেছো তুমি, তোমার সঙ্গেই তোমার সাড়ে সাত কোটি সন্তান রক্তলাল সূর্যোদয়ের চিরভাস্বর প্রহরে একচোখে কান্না ও অন্যচোখে মুক্তির আনন্দ অবগাহনে ভেসেছিলো। হৃদয়ফাটা চেতন-অবচেতনে অভিন্ন একটাই গানের ভাষা –

“এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলবোনা –
আমরা তোমাদের ভুলবোনা।।”

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ ফটোগ্যালারি হতে সংগৃহিত।

আমরা ভুলবোনা তোমার বিজয়ের প্রাক্কালে আমাদের জাতীয় হৃদয়ে নমস্য শ্রদ্ধাভাজন সেসব প্রাজ্ঞজনদের বধ্যভূমিতে চোখ বেঁধে নিষ্ঠুরতম পৈশাচিক উল্লাসে মারবার অন্যায় ইতিহাস। জানি যে তুমি রোজই তোমার সেসব শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জন্য আকুল হয়ে কাঁদছো আজও, তোমার সঙ্গে কাঁদছি আমরাও। আমাদেরও তাঁদের বিয়োগব্যাথা, তাঁদের বিচার চেয়ে ফেরার বিয়াল্লিশ বর্ষের কান্না – কান্নার আগুনে পোড়ায়। যারা তাঁদের অইভাবে বধ্যভূমিতে হত্যা করেছে অই কুলাঙ্গারের দলকে কিছুতে ক্ষমা করতে পারি ??? তারাতো রাষ্ট্রদ্রোহী। বাংলাদেশকে চায়নি। প্রিয় বাংলাদেশ, আমরা ভুলিনি কিছুই। এবঙ ভুলবোনা কোনওদিন।

রায়ের বাজার বধ্যভূমির ছবি, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ ফটোগ্যালারি হতে সংগৃহিত।

প্রিয় বাংলাদেশ, তুমি ক্যামন আছো – শুধোতে গিয়ে নিজেই কেঁদে ভাসাচ্ছি অক্ষরের প্রতিটি বিন্দু – তোমায় আমরা কিছুই দিতে পারিনি আজও তেমন করে – যেমন কথা ছিলো – স্বপ্নের সোনার বাংলা ভরে উঠবে সোনায় – তেমন হবার পথেপথেই পাথর বিছানো – খানাখন্দভর্তি কাঁটায় স্বপ্ন শুধুই রক্তাক্ত বিষন্ন – প্রিয় বাংলাদেশ, আমাদের অপরাধের সীমা ছাড়ানো অন্যায়ভারে তোমার ভূঁইতলফাটা ভুমিকম্পের ধস যেন না নামে – আমরা যেন তোমায় আবারও একাত্তুরের সূর্যোদয়ের মহিমান্বিত প্রহর ফিরিয়ে দিতে পারি – সেই সে আশীর্বাদ চাইছি – প্রিয় বাংলাদেশ, তুমি যে মায়ের অধিক মা, দাওগো আজ তোমার অপরাধী সন্তানে সর্বশ্রেষ্ঠ সেই সে আশীর্বাদখানি – যেন যোগ্য হই – যোগ্য হয়ে উঠতে পারি।।

প্রিয় বাংলাদেশ, বিজয়ের বিয়াল্লিশটি বর্ষে দাঁড়িয়ে তোমায় হাজার সালাম জানাই। হৃদয়ের গভীরতম উচ্চারণে তোমার চরণতলে রাখছি একান্ত নিজস্ব পঙক্তি –

শিরোনাম –

জন্মজন্মান্তরের প্রেম

চল্লিশ-চল্লিশ বর্ষ করে শেষ –
আজি এ বিয়াল্লিশেও প্রিয় বাংলাদেশ
তোমায় গভীরতম ছুঁই
তোমায় ছুঁয়েই শুদ্ধ হই।

তুমিই আজও সূর্যমুখী-চন্দ্রমুখী বই।
তুমিই প্রথম প্রেম প্রিয় বাংলাদেশ,
তুমিই প্রিয়সই।

পৃথ্বী ঘুরেও তুমিই আমার গহন মাতৃঠাঁই।
তুমিই জগতবাড়ি, ঘুমেও তোমারই গন্ধ পাই।
হয়তো আরও হাজার বছর হবে পার।
অজানিত মৃত্যু হতেও পড়বো তোমায় বাংলাদেশ,
প্রিয় আমার।।

বিজয়মাস, ডিসেম্বর, ২০১২ ইং