ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

২০০১ সাল। সদ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতেছে বিএনপি চার দলীয় জোট। মানে বিএনপি-জামাত জোট। দেশব্যপী চলছে তাদের আনন্দ-উল্লাস। সেই আনন্দ-উল্লাসের ভয়ঙ্কর শিকার বহু হিন্দু পরিবার। তার মধ্যে অন্যতম আলোচিত ঘটনাটি ঘটে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। অই গ্রামে বসবাসকারী একটি হিন্দু পরিবারে। যাদের কিশোরী কন্যাটি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী, বিএনপি-জামাত জোটের ছাত্রনেতাকর্মীদের গণধর্ষণের শিকার হয়। অই ঘটনায় দেশের সমস্ত মিডিয়া ও সামাজিক মানুষ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। সে সময় উল্লাপাড়া থানায় মামলা দায়ের হয় ১৭ জন আসামীর বিরুদ্ধে। কিন্তু তারা বিএনপির নেতাকর্মী বলে তখনকার থানার কর্মকর্তা ও পুলিশ কোনও এ্যাকশন নেয়নি তাদের বিরুদ্ধে। তাই পরে আবারও মামলা করা হয় সিরাজগঞ্জের আমলি আদালতে। দীর্ঘ দশ বছর পর আজ সেই মামলার রায় হবার কথা — জানিনা আজ কি অবস্থায় পূর্ণিমার পরিবার — জানিনা কি বিচারে স্বান্তনা পেতে পারে অই ভয়াবহ ঘটনার শিকারে পরিণত হওয়া কিশোরী মেয়েটি — ভাবুন তো সেতো হতেই পারতো আমার কি আপনারও আদরের মেয়েটি ! ভাবতে কি শিরদাঁড়া বেয়ে ছড়িয়ে পড়ছেনা অবর্ণনীয় চিনচিনে বেদনা-ভয়ে জর্জর এক বিবমিষাময় অব্যক্ত অনুভূতি ! আমার কিন্তু দশ বছর আগে ঠিক সেরকম এক অভূত অনুভবের বিস্তার সঙ্ক্রমিত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিলো মগজে এমনই যে লিখেছিলাম কবিতায় তার কথা ‘অধর্ম’ শিরোনামেঃ অধর্মের আনন্দ-উল্লাসের নাম আজ ভয়? / কেন পূর্ণিমা অধর্মে পাবে ভয়? / ধর্ম তো অভিন্ন আদিহৃদিপাঠ। এ পাঠশালায় কারা কসাই বানায়? / এই দেশে এইসব মানা যায় ! এত বানোয়াট অন্ধ-জিহাদ কে চায় ! / কে নৃশংস বলেঃ চলে যাও নইলে জবাই ! / আমি বলিঃ পূর্ণিমা কোথায় যাবে কেন যাবে ভাই? / বলিঃ কারা তারে ভয় দেখায় বলাতকারে হতে বলে দেশান্তরী ! / এই দেশ তারও। তারও এই ভিটেমাটিমাঠ। / এই তার আদি-অন্তজ্ঞান — ধর্মাধর্মের ঊর্ধ্বে এই দেশ আমাদের অভিন্ন রক্তের দান। / আমরা অনেক মেঘ অনেক আগুন সয়ে নুনে ও শীতার্ত কাঁটায় জারিত হয়েই / জন্ম নিই বাংলার খরা ও বন্যায়। / আমাদের ভ্রূণাগ্রে রয়েছে মাতৃ স্পর্ধার ওম — / তাহলে পূর্ণিমা কেন যাবে কেন ভয় পাবে? / পূর্ণিমা আমাদেরই বাংলার মেয়ে / পূর্ণিমা আমাদেরই বোন। / সেতো বাংলার মাঠ জুড়ে হাঁটবে নির্ভয়ে — / অথচ আমরা তার অধিকার কেড়ে নিয়ে কোন ধর্মে করছি বলাত্কার ! / ছি ! ধর্ম, ছি !

কবিতাটির এই ছিলো শেষ (আমার ২০১১তে প্রকাশিত ‘ নুরুন্নাহার শিরীন-এর দেশজ কাব্যগ্রন্থের ২২ পাতায়)। আজ আবার পূর্ণিমার সেই ভয়-বেদনাতাড়িত স্মৃতি আমায় তাড়া করছে — পূর্ণিমা ও তার শোকাহত পরিবারটি আজ যেন যথার্থ বিচারিক রায় অন্ততঃ পায় এ আমার ঐকান্তিক প্রার্থনা।

***
nurunnaharshireen@yahoo.com