ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

কি শোভা কি ছায়াগো —- আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি —- সংগৃহিত নিজস্ব-ফাইল ছবি।

জামাত-শিবিরের হরতালের দিনে কেউই মানছে না যে হরতাল সেই চিত্রটি দেখলাম একটি জরুরী কাজেই বের হয়েছিলাম বলে। বাড়ির কাছের বাজার সংলগ্ন শাহজাদপুরের বাড্ডা লিংক রোডে যেতেই দেখি অনেক মানুষ এবঙ বাস-ট্রাক-রিক্সা-ঠ্যালার সঙ্গে অনেক প্রাইভেট গাড়িও চলছে … তখন আমার কবিগুরুর আর নজরুলের অসংখ্য গানের বাণী জাগিলো মনে —- অগত্যা ব্লগে না লিখে পারছি না —- প্রথমে বন্দনা করি-র মতো একেএকেই শেয়ার করছি —-

প্রথমেই যে গান এলো মনের মাঝে –

“এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে
জয় মা বলে ভাসাও তরী”

এ গান এবঙ গানের সুর-বাণী-তাল-লয় সবই বলছে এবার তরী ভাসাতে হবে মরা গাঙেই —- এবঙ “জয় মা” বলে না হোক, “জয়বাংলা” বলেই লাইনে দাঁড়াতে হবে জামাত-শিবিরের অলীক জিহাদের জোটের সমর্থকদেরও। নইলে লাইচ্যুত হয়ে সলিল সমাধি অপেক্ষমান —- এই চিত্রকলাটি আমার হয়তো কবিতার পঙক্তিমালায় প্রকাশ করা উচিত ছিলো —- কিন্তু না, মন বলছে – “কবিতা তোমায় আজিকে দিলাম ছুটি” !

তো, আমার ব্লগই মনের কথা লেখার একমাত্র পাতাটি হয়ে –

“ও মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে” –

আমিও মনের পালে লাগাই জোর —- তখন নজরুলের গানের বাণী আরও জোর চেতনাময়ী-শক্তিময়ী অকূল গাঙে —- জোরসে গাই আপন মনে – সবার হয়ে – সবার প্রাণে সুরের আগুন লাগিয়ে দিতে –

“আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের স্পন্দনে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার ভাঙা কল্লোলে।
আসল হাসি, আসল কাঁদন,
মুক্তি এলো, আসল বাঁধন,
মুখ ফুটে আজ বুক ফাটে মোর তিক্ত দুখের সুখ আসে /
ঐ রিক্ত বুকের দুখ আসে –
আজ সৃষ্টিসুখের উল্লাসে !

আসল উদাস, শ্বসল হুতাশ,
সৃষ্টিছাড়া বুক ফাটা শ্বাস,
ফুলল সাগর দুলল আকাশ ছুটল বাতাস,
গগন ফেটে চক্র ছোটে, পিনাক-পাণির শূল আসে।
ঐ ধূমকেতু আর উল্কাতে
চায় সৃষ্টিটাকে উল্টাতে,
আজ তাই দেখি আর বক্ষে আমার লক্ষ বাগের ফুল হাসে /
আজ সৃষ্টিসুখের উল্লাসে !

আজ হাসল আগুন, শ্বসল ফাগুন,
মদন মারে খুনমাখা তূণ,
পলাশ অশোক শিমূল ঘায়েল
ফাগ লাগে ঐ দিকবাসে
গো দিগবালিকার পীতবাসে।
আজ রঙন এলো রক্তপ্রাণের অঙ্গনে মোর চারপাশে
আজ সৃষ্টিসুখের উল্লাসে !


মন ছুটছে গো আজ বল্গাহারা অশ্ব যেন পাগলা সে,
আজ সৃষ্টিসুখের উল্লাসে !”

শুনেছি, দেখেছিও অনলাইন নিউজে, জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা তাদের হিটিলিস্টে ১৭জন ব্লগার-এর তালিকা তৈরী করেছে, সেই লিস্টের ২জন নারীব্লগার। দেখেশুনে কিঞ্চিত ভাবিত হয়েছি বটে, শাহবাগের সন্তানতুল্য ব্লগারদের জন্য। সবাই যেন সদাজাগ্রত যুথবদ্ধ হয়েই থাকে … প্রার্থনা সততঃ তাদের জন্য। এবঙ সেইসঙ্গে ব্লগারদের নিরাপত্তা জোরদারের আবেদন জানাই সরকারের নিকট।

তবু আমার আজ সৃষ্টিসুখের উল্লাসেই পাঁজরজাগা চেতনাকাঁপা দৃষ্টির সীমানায় কবিগুরুর-নজরুলের গানের বাণী নতুন করে জাগালো হৃদয় —- তো, এই আজ আমার অবস্থা —- আকাশডানা প্রায় —- সেথায় আরও অজস্র সুর-বাণীতাল-লয় খেলিছে, উড়িছে, আনন্দ বনে-বনে …সেথায় কারও “হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে-মনে” ..আপনমনে ..সবার সঙ্গে সবাই মানবধর্মেই ভাই-ভাই …কোথাও কিন্তু নাই কেবল ধর্মের অধর্মকারী দল ব্যতীত। তারা কেবল অধর্মকারীর দল। তাদের অদ্ভুতুড়ে ধর্মের রাজনীতিতে মানবধর্ম নাই। তারা কি আমাদের ভাই-ভাই হবার যোগ্য??? প্রশ্নটি মনে জাগিলো জোরসে এতোই তাই আজিকে ব্লগার ভাইবোনের সঙ্গে শেয়ার করিলাম। যেন বা মনের মধ্যে অনুচ্চারিত সেই কথাটি –

“আমায় কি মাল্য দেবে দাও … ”

বাংলার নদী ও নৌকা – নিজস্ব-ফাইল-ইমেজ।

৬ ফাল্গুন ১৪১৯