ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

স্মৃতির আলোকশিখা-ইমেজ

এখন মার্চ , বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাস। এ মার্চ যারে উদ্বুদ্ধ করেনা একাত্তুরের চেতনায়, যাহার একুশের প্রহরে লবিং প্রোগ্রাম সিঙ্গাপুরে, ক্যামন নেত্রী ও ক্যামন নৈতিকতা তাহার এই প্রশ্নটি ওঠে নিশ্চয়। সিঙ্গাপুর ফেরত নেত্রী ফিরেই যে ভাষণ দিলেন প্রকাশ্যে এবঙ সমর্থন দিলেন জামাতি-তান্ডবে আমরাতো অবাক !! আবার হরতাল দিলেন !! উদাত্ত আহ্বান জানালেন দেশবাসিকে দলেদলে হরতালের সমর্থনে এগিয়ে আসার … অর্থাৎ দেশবাসি জামাত-শিবির-বিএনপির মতোই গাড়িতে আগুন দিক … পুলিশ হত্যা করুক … অতঃপর ভাষণে নেত্রী চরম উস্কানিতে ফাটিয়ে পড়িয়া বলিতে পারিবেন

“পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করছে সরকারের পুলিশ … গণহত্যা চলছে দেশে … সরকারের নৈতিকতা নেই ক্ষমতায় থাকার … অবিলম্বে ক্ষমতা ত্যাগ করুন … সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে … হরতাল চলবে … অই প্রজন্ম ফ্যাসিবাদী … ”

ইত্যাদি … ইত্যাদি … আমরাতো অবাক হতবাক জনসাধারণের দল !! যেন বা হদ্দ বোকার দল !! নেত্রীর ডাক পাওয়া মাত্র ছুটতে বাধ্য এমন জনসাধারণ জগতে আজ মোটেই নাই এ সত্য নেত্রী আজও বুঝিলেন না !! আহা কি দেশপেরম নেত্রীর !! জামাত-শিবির ক্যাডাররা হিন্দুর বাড়িতে আগুন দিক … তাদের বাড়িছাড়া করুক … নেত্রীর কি আসে যায় !! আহা কি দেশপ্রেম নেত্রীর !! খোলা আকাশতলে আজ পঁচিশ দিন প্রজন্ম একাত্তুরের চেতনা জাগানিয়া শ্লোগানে-শ্লোগানে বিচার দাবী করছে “রাজাকারের ফাঁসি চাই”, তারা যে দাবী আদায়ে অবিচল শপথ করছে তাদের শপথের সঙ্গেই সব ধর্মের জনগণ এবঙ সরকারী-বেসরকারী সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ কোমলমতি শিশুরাও … অথচ নেত্রী তাদের “ফ্যাসিবাদী” নামকরণ করলেন !! যেখানে অহিংস সবাই শান্তির উচ্চারণে সেখানে নেত্রী ফ্যাসিবাদের গন্ধ পেলেন !! আর যাহারা জঙ্গী তান্ডবে বিষিয়ে তুলেছে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক জাতিগত ঐতিহ্য তিনি তাদের সঙ্গে নিজের একাত্মতা প্রকাশ করলেন !! আহা কি দেশপ্রেম নেত্রীর !! একমাত্র নৈতিক অধিকার তাহার বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসার … সততঃ ভাষণ শেষ করেন “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” শ্লোগান দিয়ে !! তাহার জিন্দাবাদে পাকিস্তানের উর্দুপ্রেম … আহা কি চেতনা নেত্রীর !! বাঙালির হৃদয় মরি-মরি করিয়া জাগিয়া উঠিতে না পারুক … নেত্রীর কি দোষ !! দোষ সবই বাঙালির একাত্তুরের চেতনার !! বাঙালি হৃদয়ের !! “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি” বলিয়া আকুল-ব্যাকুল যত্তসব জাতীয় সেন্টিমেন্ট !! কোনও মানেই হয় না অইসব জাতীয় প্যানপ্যানানির !! আমরা ক্ষমতা পাওয়া মাত্রই সব চেইঞ্জ করিয়া বাঙালিদের অবশ্যই “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” বলিতে বাধ্য করিব !! বাধ্যতামূলক করা হইবে আমাদের প্রণীত পাঠ্য-পুস্তকের পূর্বের ইতিহাস, হাসিনা সরকার প্রণীত ফ্যাসিবাদী শিক্ষা-আইন, আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল বাতিল করিব !! ফাঁসির রায় তো বাতিল করিতে হইবেই !! যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানো ফরয কাজ !! ইথাই আমাদের শপথ !! (এসবই নেত্রীর মনের কথা যে … সে আমরা যতই হদ্দ বোকার দল হইনা কেন যেহেতু এ যুগের জনগণই সেইহেতু এটুকু বোঝার ক্ষমতা আমাদের অনেক দেখিয়া-শুনিয়া হইয়াছে।)

ভুক্তভোগী জনসাধারণের একজন হিসেবে আমি কিঞ্চিত লেখালিখির মানুষ বলে আমার দায়ভার হতেই আজ একটি জরুরী আহ্বান বাধ্য হয়েই রাখলাম
ভায়েরা, বোনেরা, এবার আমাদের মার্চের স্মৃতির কসম খাই সবাই। যদি আমরা ভালোবাসি আমার দেশের স্বাধীনতার সেই জ্বলন্ত-জাগ্রত চেতনা, যদি আমরা যে আলোকশিখায় দেখি আমার বাংলা মায়ের মুখ … যেখানে আমাদের শিকড়জাত অবিচ্ছেদ্য নাড়ির রক্তক্ষরা বন্ধন … তবে এবার আমাদের বাংলা মায়ের বুকে পদাঘাতের জবাব চাইতে হবে। হবেই। সেই জবাবদিহিতার জন্য যার যা কিছু তা নিয়ে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য করতে হবে উস্কানিদাতাদের এবঙ জঙ্গীবাদের মদতদাতাদের। আমার দেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা আমার দেশের ধর্মীয় শান্তি বিনষ্টকারীদের ছাড় দেওয়া যাবে না … যাবে না আর। অনেক সহ্য করেছি … অপমান-অসন্মান আমার বাংলা মায়ের … আর সইতে হলে মরণপণ জীবনবাজী যুদ্ধের পথ … একাত্তুরের হাতিয়ার সম হউক আমাদের অঙ্গীকার … শ্লোগানে … লেখায় … গানেগানে প্রতিবাদের উচ্চারণে …

তরুণদের বলি কবির সেই প্রাণিত-শাণিত পঙক্তিখানি

“এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময় …”

এ যুদ্ধ দেশের শান্তির জন্য অশান্তি সৃষ্টিকারী ধর্মীয় উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ … তাদের হিংস্র-সহিংস হামলার বিরুদ্ধে অহিংস চেতনাজয়ী শুভ বোধের যুদ্ধ … এ যুদ্ধে জয়ী হতেই হবে … নইলে জঙ্গীদের চাপাতি-কুঠারে-কুঠারে ফালাফালা অথবা গ্রেনেড-বোমায় ছিন্নভিন্ন মরতে হবে … আমরা আমাদের সন্তানদের তেমন মরণ দেখিতে চাহিনা আর … জয়বাংলা।।

২ মার্চ ২০১৩