ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

আজ আমার গর্বে হৃদয় ভরে উঠলো আবারও যখন লাখোকন্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত গাইলো দুইলক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার মানুষ মীরপুরের জাতীয় প্যরেড গ্রাউন্ডে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও লাখোকন্ঠের সঙ্গে মিলিয়েছেন কন্ঠ। তাঁরই ঐকান্তিক ইচ্ছের জোরে বাংলাদেশের স্বাধীনতাদিবসে এই বিশাল আয়োজনটি সার্থকতার ধাপ পেরুলো।

আমারও বিষম ইচ্ছে ছিলো যে অই বিশাল সারিতে দাঁড়িয়ে কন্ঠ মিলিয়ে গাইবো – “আমার সোনার বাংলা” … কিন্তু পারিনি। বাদ সেধেছে শারিরীক সমস্যা। তাতে কি? টিভি তো আছে … টিভির সামনে দাঁড়িয়ে সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানের সামিল হয়ে গেয়েছি। আহ সে এক অভূত মাহেন্দ্রক্ষণ। টের পেয়েছি হৃদিরক্তধারায় অশ্রুধারার মিশে যাওয়া … একাত্তুরের স্বাধীনতার সেই মহান লক্ষ আত্মত্যাগের রক্তজলে অর্জিত প্রাণবাজি বাংলাদেশ। প্রাণপ্রিয় নেতার বজ্রকঠিন অঙ্গীকারের দিকনির্দেশনা … যা ধারণ করেই মুক্তিযোদ্ধারা প্রস্তত হয়েছে যুদ্ধের জন্য। এবঙ নয় মাসের গেরিলা আক্রমণেই হারিয়েছে পশ্চিম পাকিস্তানের হায়েনাদের। মিত্রশক্তি হিসেবে পাশে পেয়েছে ভারতের মিত্রবাহিনী। আজ তেতাল্লিশটি বর্ষ পেরিয়ে গেলেও ভুলিনি। আজকের ২০১৪-র ২৬শে মার্চের স্বাধীনতা দিবসে সব মুহূর্তে বড়ো জীবন্ত হয়ে উঠলো।

একাত্তুরের এই দিনটি স্মৃতিতে আজও অম্লান। আবেগাপ্লুত হই আজও সেইসব অজর স্মরণার্হ ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মরণে। সেদিন ২৬শে মার্চ-এর সকালে রেডিওর ফ্রিকোয়েন্সিতে প্রথম চট্টগ্রামের কালুরঘাট ট্রান্সমিশনের স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্র হতে বারংবার প্রচার হচ্ছিলো টেলিগ্রাফে বঙ্গবন্ধুর লিখিত স্বাধীনতার ঘোষণাপাঠ। আমিও শুনেছিলাম। বাড়ির সবাই শুনে আবেগে শিহরিত হয়েছিলাম। সেদিনের সেই সে ঐতিহাসিক মুহূর্ত মনে করেই আজ আবার শিহরিত হোলাম। আনত হোলাম।

শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে হৃদয় দিয়েই প্রার্থনাবনত হয়ে বঙ্গবন্ধু ও সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর বিনম্র কৃতাঞ্জলির হাত উঠাই – “হে আল্লাহ আমরা যেন বঙ্গবন্ধু ও শহীদদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাতে কুন্ঠিতচিত্ত না হই কোনওদিন। এই বাংলাদেশ যাঁদের আত্মত্যাগের দান তাঁদের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ যেন শ্রদ্ধাবনত থাকে জীবনভর। বাংলাদেশকে বিশ্বজয়ী আরও গৌরবান্বিত অর্জন দিন। আমীন।”

 

২৬ মার্চ ২০১৪ ইং