ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাস্থ্য

আজ ৭-ই এপ্রিল ২০১৪-র বিশ্ব স্বাস্থ্যদিবস-এর শ্লোগান –

“মশা-মাছি দূরে রাখি রোগবালাই মুক্ত থাকি”

বাংলাদেশের সকল পত্রপত্রিকায় এই বিষয়ে বিভিন্ন ফিচার সহ স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। এটি সত্য যে আজকের বাংলাদেশে হাজার রোগবালাই হতে নিরাময়ের বেশ সচেতনতা গ্রামগঞ্জেও পরিলক্ষিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বহুবিধ প্রকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও পরিবেশগত উন্নয়নের চিত্র ততটা আশাব্যাঞ্জক না যতটা হলে জনমানুষ বিশুদ্ধ পরিবেশের আলোহাওয়ায় রোগবালাই মুক্ত থাকবে। আর মশা-মাছির কথা কি আর বলি! দিনরাত্রির তফাত বোঝেনা মোটে বাংলাদেশের মশামাছির দল। একদা এককালে সরকারের মশকনিধন আয়োজন ইশকুলবেলায় আমাদের শহর কুমিল্লায় দেখেছি। জমকালো পোষাকে হেলমেট-মাস্ক লাগানো লোকজন শহরে খুব বিকট আওয়াজের মেশিনে স্প্রে ছিটাতো। আমরা দরজা-জানলা বন্ধ করেছি দৌড়ে মায়ের নির্দেশেই। নইলে বাইরের সমস্ত মশামাছি ওষুধে তিষ্ঠাতে না পেরে বাড়িঘরেই ঢুকে পড়তো। অনেক সময় হেলিকপ্টারেও ওষুধ ছিটানো হয়েছে। তাতে সত্যিই কিছুমাস মশামাছির দাপট কমতো।

আজকাল তেমন উদ্যোগ নেওয়া কেন যে হয়না ভালো বুঝিনা। আমরা হয়তো আধুনিক হয়েছি খুব। তাইতো সিটি করপোরেশন আধুনিক পন্থায় মশার কয়েল / মরটিন স্প্রে অফিসকক্ষে ছিটিয়ে আরামে এসি চালান! জনগণ সেটিই নিজ উদ্যোগে ফলো করুক! বিজ্ঞাপণের কমতি নাই বাংলাদেশে। এমন কি পাঠ্যপুস্তক হতে মশার চিত্রসুদ্ধো উধাও মায়ের হাতের মরটিন স্প্রে করা মাত্র! এমন বিজ্ঞাপণ টেলিভিশনে দেখে মশার কামড়ে অস্থির ছাত্রছাত্রীদের অবস্থা ভেবে হাসবো নাকি কাঁদবো ভেবে পাইনা! আমার বাসায় প্রায় সময় নাতি / নাতনী আসে বেড়াতে। ওদের না আবার মশার কামড়ে ডেঙ্গুজ্বর হয় – তারই ভয়ে সারাবাড়িতে স্প্রে ছিটাই। শত স্প্রেতেও মশারা মরেনা বলে নিত্যনতুন চটকদার বিজ্ঞাপণের ভাষ্যমতে আগোরা  গিয়ে কিনতে থাকি হরেক রকম মশামাছির কয়েল ও বিগসাইজ দারুণ দেখতে স্প্রের বোতল। সপ্তাহ যায়না একটাতে। কারণ বাথরুম, বারান্দা, রান্নাঘরেও ভালো মতোন স্প্রের ফলেই ঘন্টা কয়েক মশামাছিরা ঘেঁষেনা ধারেকাছে। একসময় স্প্রে করলে মশামাছিরা বেশ মরতো। ঠিক মরতো বলা যায়না, আধমরা দশায় ঘরময় লুটিয়ে পড়া মশামাছিরে পায়ে দলেই মারা লাগতো। আজকাল মশামাছিরা স্প্রেতে আধমরাও হয়না! কোথায় যেন লুকিয়ে পড়ে! স্প্রে কড়াগন্ধ যতক্ষণ ছড়ায় ততক্ষণ মশাদেরও লুকিয়ে থাকার পালা! গন্ধের অবসানে সদলে পোঁপোঁ বাঁশরী বাজায় কানের কাছে। হাতের আন্দাজ / নিশানা ঠিক থাকলে থাবড়া মারলে দেখা যায় যে রক্তচোষা একটা পেটফোলা মশা মরেছে বটে! হাতের চেটোয় রক্তের চিটচিটে কালচে রঙ জানান দেয় মশার মৃত্যু ঘটেছে। মাছি? সে কিন্তু সহজে মরেনা। অসম্ভব জীবনীশক্তি মাছিদের। রোগবালাইভর্তি মনুষ্য সমাজে “মাছিমারা কেরানী” বলে যে প্রবাদ আছে সেইটা শুধু মাছির চিত্র হুবহু কপিপেস্টকৃত কেরানী জীবনের! মাছিরা সেই সেকেলে মান্ধাতার আমল হতেই জাঁকিয়ে বঙ্গদেশে জীবানু বিস্তারে অক্লান্ত! আমাদের যখনতখন সংক্রামক ভাইরাস আক্রান্ত করে! চিকিতসার অভাবে মানুষ মরে! বঙ্গদেশের মাছিদের মরণ নেই। মশামাছির “মৃত্যুঞ্জয়ী” বিষয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন … অর্বাচীনের আজকের ভাবনাজাত উপলব্ধি!

তথাপি বিশ্ব স্বাস্থ্যদিবস যেন মানুষদের জন্য আরও অধিক কল্যাণকর ভূমিকায় অবহেলিত জনগোষ্ঠীর রোগবালাইমুক্ত বিশ্ব গড়তে পারে প্রার্থনা এই।

৭-ই এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্যদিবস ২০১৪ ইং।।