ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

এদেশে রমজানের অনেক আগ হতেই ইফতার বাণিজ্য শুরুর পরিকল্পনা চলে। এবঙ এই ইফতারের হরেক পসরা নিয়ে হাজির হয় খাবার বাণিজ্যের ব্যাবসায়ীরা রাজধানী ও সকল জেলা উপজেলার মার্কেটগুলোতে। ঈদউল ফিতর উপলক্ষ্যে শহর-বন্দর-গ্রামীন সব পোশাক ব্যাবসায়ীদের নতুন উতসাহ উদ্দীপনার জোয়ারের মতোন ঢেউ ছেলেবুড়োর নজর কাড়তে প্রায় আছড়ে পড়ে পথের ধারের বিপনী হতে বিশাল মার্কেটগুলোর সুসজ্জিত নিয়ন বাতির ছটায়। একদিকে ঘরেঘরেই সাধ্য মতোন মাহে রমজানের পবিত্র আবহে আবর্তিত ইফতারির আয়োজন এবঙ তারাবীহ আদায় করার চমতকার এক ধর্মীয় পরিবেশ। একইসঙ্গে অন্যদিকে ঈদের রমরমা বাণিজ্য পসরার প্রচার মিডিয়া জুড়েই। এই চিত্রটি বহু কালের প্রায় সার্বজনীন উতসবের প্রস্তুতি শেষে প্রতিফলিত পশ্চিমাকাশে রমজানের চাঁদ দেখার খবর পাওয়া মাত্র। গ্রামীন জীবনযাত্রার চিত্র খানিক ভিন্ন শহর হতে। তবুও সর্বত্রই একটা উতসাহ ছড়ানো জড়ানো। কেবল হত দরিদ্রদের জীবন ব্যাতীত।

রমজান মানেই রাজধানী ঢাকার নিত্য দিনের যানজটের মাত্রা আরও বহুগুণ বৃদ্ধির ফলে নাগরিকের নাভিশ্বাস। তবুও ছোটার বিরাম নেই। আটকা পড়া যানজটের জটাবদ্ধতা উদ্ধার প্রাপ্তি কিভাবে যেন ঘটেও যায় নাগরিকের কপালে অর্থাৎ ঘরে ফেরাও হয় গলদঘর্ম হয়ে। বিত্তবানের এসি গাড়ির ইঞ্জিন উত্তপ্ত হয়। মধ্যবিত্তের বাসযাত্রা অথবা সিএনজি কিংবা রিক্সার তিনচাকাও ঘোরে ঠিকই ধীরে হলেও। সাইকেল, হোন্ডা ও টেম্পু-ঠ্যালাওয়ালাও ক্যামন করে উপচে পড়া সড়কে ফাঁকফোকর ঠেলেই চলে। পদযুগল ভরসা যাদের শ্রীচরণ ভরসা বলে তারাও কোনওমতে বাড়িতে ফেরে। যে যার মতোন ইফতারির টেবিল সাজিয়ে বসে সপরিবারে। ছাত্র জীবন যাদের তাদের হলে-মেসে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে একসঙ্গে আড্ডার মাঝে ইফতারের ভাগাভাগি। মসজিদের চিত্রটাও একটু পালটায় বৈকি। বিত্তবানের সওয়াব কামানো প্রধান একটা লক্ষ্যণীয় বিষয় হয় মসজিদ ও এতিমখানায় ইফতার পাঠানো হয় বলেই। এটি অনেক মন্দের ভালো্র মাঝে একটি অন্যতম বিষয়। যদি বছর ভরে এমন হতো তাহলে হয়তো বিত্তবানের সওয়াব কামানো উপলক্ষ্যে হলেও হত দরিদ্র মানুষগুলো কিছুতো পেতো – অর্বাচীনের রমজান এলেই এমন ভাবনা আসে। অনেকে আবার আমার এই ভাবনা সমালোচনাযোগ্য ভাবেন। তাতে আমার ভাবনার তেমন হেরফের ঘটেনা।

সে যাহোক, শুনেছি রমজানে প্রতিবছর পাঞ্জাবীর বিশাল বাণিজ্যিক চাহিদা। আমার আশপাশের পথে যেতেই চোখে পড়ার মতোন অনেক পাঞ্জাবীর দোকানে ঝুলন্ত দারুণ কারুকাজ সূচিত বাহারী পাঞ্জাবী। দৈনিকের পাতায় বড়বড় বিজ্ঞপ্তি সুলভে পাঞ্জাবী মিলবে কোথায়। সত্যি ঈদের দিন শিশু-তরুণ-বুড়ো পাঞ্জাবী পড়েনা এমন পুরুষের নমুনা মসলিম সমাজে মিলবেনা। বাড়ির দারোয়ান-ড্রাইভার-পিয়ন প্রায় সবাই মালিকের নিকট নতুন একটা পাঞ্জাবী পায়ই। ঈদউল ফিতর তাই পাঞ্জাবী ব্যবসায়ীদের দারুণ এক বাণিজ্য রূপে আদৃত। যারা নতুন ব্যাবসার বিষয়বস্তু খুঁজছেন তাদের জন্য আমার পরামর্শ পাঞ্জাবী বাণিজ্যটি ধরতে। এতে ঠকার সম্ভাবনা সম্ভবতঃ নেই।

যদিও এমন রমজানেও চারপাশে অসাধুপনা, অন্যায়ের কমতি নেই। পবিত্র মাসটিতেও রোজই শতাধিক চরম অন্যায়ের খবর পাঠ করতে হয় দৈনিক পত্রিকার পাতায়। অথবা টিভিতে দেখি। মনটা ভারাক্রান্ত, বিষণ্ণ হয়। ধর্মীয় সংযমের মাসেও মানুষের রিপুর তাড়না থামেনা। কেন এমন মানুষ নামের অমানুষগুলো – ভেবেও কূলকিনারা পাইনা। মানুষকে আল্লাহ যেন সুমতি দেন – প্রার্থনা এই।

৪ঠা রমজান  ১৪৩৫ হিজরী।।

১৯শে আষাঢ় ১৪২১ বঙ্গাব্দ।।