ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
11.+Malala

মালালা নামটি এখন একজন নোবেলজয়ী কন্যার সুবিখ্যাত নাম। হোক সে অরাজক পাকিস্তানের নাগরিক। সে একজন সাহসী কন্যার অগ্রদূত রূপেই আবির্ভূত এবঙ কন্যা শিক্ষার জন্য লড়াকু সৈনিক হিসেবে চিহ্নিত সমগ্র বিশ্বে। মাথায় গুলিবিদ্ধ মালালা যখন চমকে দিয়েছিলো বিশ্বকে তখন আমরা অনেকেই লিখেছিলাম। মালালার অসীম সাহসে কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে কন্যাশিক্ষার দাবীতে ভূমিকা নিয়ে বিবিসি ব্লগে নিজস্ব আওয়াজ তোলা ও এগিয়ে যাবার বিষয়টি তখন তাকে টার্গেট বানায় চরম উগ্রপন্থীদের। স্কুলের বাসে ওঠার সময় মালালা গুলিবিদ্ধ হয় মাথায়। ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটেনি মালালা বেঁচে ওঠায়। বিদেশে মালালা পায় সর্বোচ্চ নিবিড় চিকিৎসার সেবা। এবঙ ক্রমে মালালা সেরে ওঠায় রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার ও আন্তর্জাতিক সন্মাননায় প্রণোদিত হয়েই কন্যা শিক্ষার অগ্রদূতের ভূমিকা থেমে থাকেনি আর।

আমরা গর্বিত হবোনা কেন যখন সেই মালালা আজ নোবেলজয়ী? কেন আমরা তার নোবেলজয়ে সমালোচনামুখর হবো আমার মাথায় আসেনা। আমরা কি একবিংশ শতাব্দীর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও অন্তর হতে কন্যাজন্মের উচ্চ শিক্ষার অগ্রদূতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করতেই ভালোবাসবো? কেন? আমরা তাতে কি প্রমাণ দিচ্ছিনা আমরাই কন্যাজন্মের প্রতি বিদ্বেষ প্রবণতাকে অন্তর হতে আজও পারিনি তাড়াতে? তবে পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যাবস্থার দোহাই দিয়ে কি হবে? কেন আমরা কন্যাজন্মের উজ্জ্বলতম মালালার নোবেলজয়ে সমগ্র নারীসমাজ আত্মহারা হবোনা আজ? অবাঙ বিস্ময়াহত চিত্তেই প্রশ্নবিদ্ধ লিখাটি লিখলাম। কেননা ব্লগ, মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগের সাইটে যখন মালালার নোবেলজয় নিয়ে সমালোচনামুখর অনেক পোস্ট দেখছি, তখন বিস্ময়াহত না হয়ে পারিনা। বলতেই হয় যে – সত্যি সেলুকাস!

সত্যিই সংকীর্ণতায় আচ্ছন্ন আজও আমরা। অল্প বয়েসী একজন সাহসী কন্যার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত আমরা না কি কন্যাজন্মের সাফল্যবিদ্বেষী এই ভাবনা আমাকে যাতনা দিচ্ছে বিষম। তবুও হৃদয়জাত তাড়নায় আমার এই লেখাটি মালালাকে উতসর্গিত করলাম। সাহসী সৈনিক মালালা, অভিনন্দন। কন্যা শিক্ষার অগ্রদূত মালালা তোমায় সালাম।

আশ্বিন। ১৪২১ বঙ্গাব্দ।
ঢাকা। বাংলাদেশ।