ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 
IMG_20141202_082808

রাজধানীর উৎকট জঞ্জাল জর্জরিত আবর্জনার মধ্যেও কোনও জায়গায় যখন এইরকম দারুণ বৃক্ষছায়া দেখিতে পাই তখন বৃক্ষমঙ্গলের কথাই মনে পড়িয়া যায়। আজও সুপ্রাচীন বৃক্ষসমৃদ্ধ কিছু জায়গা আছে বলিয়া আমরা হয়তো বাঁচিয়া যাইতেছি। এমন মনে হইলো এই ছবিটি তুলিতে গিয়াই। সঙ্গে আরও মনে হইলো – ভাগ্যিশ অামার একখানা লেনোভো মোবাইল গিফট পাওয়া হইয়াছিলো। তা না হইলে কি অার তুলিতে পারিতাম এমন ছবি? তবে কি আর লিখিতে পারিতাম – জানাইতেও পারিতাম – এমন করিয়া ছবিসমেত পোস্ট লিখিয়া –

– আহ দেখিয়া যাও রাজধানীর দূষিত বাতাসে কি জীবন্ত বৃক্ষছায়া আমাদিগকে ডাকিতেছে – পথিক, একটু বসিয়া যাও – একটু নির্মল ছায়ার ঘ্রাণ লইয়া যাও। তুমুল সবুজ পাতায় শীতকুয়াশার উপর রৌদ্রের সোনালি অালো – অাহা কি অপরূপ ব্যাঞ্জনা – না দেখিলে বিশ্বাস হইবেনা। মুহূর্তে বুঝিলাম বৃক্ষের প্রাণ জীবন্ত কতখানি। ইহাই উপলব্ধি করিয়া স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর আবিষ্কার – বৃক্ষের রহিয়াছে জীবন্ত প্রাণ – আবিষ্কারটি আলোড়ন ফেলিয়া দিয়াছিলো জগতে সেই সময়।

আজিকার মানুষ নির্দ্বিধায় বৃক্ষনিধন করিয়া বিশুদ্ধ ছায়া হইতে বঞ্চিত করিয়া চলিয়াছে আমাদিগকে – আমরা উহাদিগকে কিছুই বলিনা প্রায় – ইহা কি আমাদের অন্যায় নহে? সরকারও বৃক্ষ উৎপাটনকারীদিগকে শাস্তি না দিয়া পালন করিতেছেন কিসের জন্য? যদিও বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনা বৃক্ষপ্রিয় মানুষ বলিয়া প্রতিবছর বৃক্ষমেলা করিয়া মানুষকে বৃক্ষানুরাগী করিবার প্রয়াস চালাইয়া নিজেও বৃক্ষ রোপণে উৎসাহী ভূমিকা রাখিয়া চলিয়াছেন। তথাপি বৃক্ষের প্রতি মানুষ তত ভালোবাসার প্রমাণ রাখিতে ব্যর্থ প্রতীয়মান।

বৃক্ষ বিশাল ছায়ার সঙ্গে ফলফলাদি-ফুলের সৌরভে পৃথিবীর মানুষদিগকে অাহার-আনন্দদানে অকৃপণ – মানুষ সেই বৃক্ষকে কুঠারে কাটিয়া ফেলিতেছে। মানুষ অাদতেই নির্মম-নির্দয়-নিষ্ঠুর জাতি। যে বৃক্ষ মায়ের মতোন স্নেহচ্ছায়া দিয়াই পৃথিবীর মানুষ জাতিকে জীবন ধারণের অাহার জোটাইয়া, নির্মল হাওয়ার অানন্দ উপকরণে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস লইবার প্রধান অক্সিজেন সরবরাহকারী – নির্দয় মানুষ সেই বৃক্ষকে উপড়াইয়া, জ্বালানি বানাইয়া বাণিজ্য করিতেছে। তথাপি এই রাজধানীতে রহিয়াছে অনেক বৃক্ষময় উদ্যান। বলধা গার্ডেন, রমনার উদ্যান, গুলশান লেডিস পার্ক সমেত আরও অনেক জায়গায় প্রাচীন বৃক্ষের সমৃদ্ধ সমাহার হৃদয়ে বৃক্ষমঙ্গলের বাজনা বাজাইয়া ডাকিয়া উঠে –

দেখিয়া যাও মানুষ – বৃক্ষ ক্যামন করিয়া ভালোবাসার স্নেহচ্ছায়া বিছাইয়া রাখিয়াছে – তোমাদিগকে ভালোবাসিয়াছে – তোমরা বৃক্ষনিধনে নিবৃত্ত হও — – —-

মানুষ শুনিয়াও শুনিতে চাহেনা বৃক্ষের কথা। কে আছে আর তেমন নেতা – যে নেতা মানুষকে উদ্বুদ্ধ – উজ্জীবিত করিয়া জাগাইয়া তুলিবে? মানুষকে করিবে অাজিকে প্রকৃত বৃক্ষপ্রেমী??? কি অার বলিবো যে মানুষ মানুষকেই ভালোবাসেনা – সেই মানুষ কি করিয়া বৃক্ষপ্রমী হইবে???

তথাপি আমার ভাব জাগিয়া লিখিতে চাহিছে কাব্যিক কথামালা –

বৃক্ষ বেঁধেছো স্নেহাঞ্জনে
– নুরুন্নাহার শিরীন
****************
বৃক্ষ বেঁধেছো ছায়ায় অাশালতা –
আমি কি লিখিবো অাজ বৃক্ষপ্রেমের কথা?
ভাবনা আমাকে ভাসাইয়া নিয়াছে তোমার বৃক্ষমূলে অইখানে অাশ্রয় ভালোবাসার।
স্নেহচ্ছায়াহীনতায় বাঁচে কি প্রেমের কুঁড়ি?
তুমি রাখো ফুলেফলে তাই পৃথিবীকে পড়ি।
তুমি বিছায়েছো এক মাতৃচ্ছায়া প্রেমময় –
যতই গভীরে যাই তুমিই জীবন মনে হয়।

অগ্রহায়ন। ১৪২১ বঙ্গাব্দ।
ঢাকা। বাংলাদেশ।