ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

সেই শ্রুতির বিকাশ হতেই ভোরে কাকের ডাকে জাগ্রত হবার ঘটনা এদেশের একটি রোজের পুরাণ বলা যেতেই পারে। কাকের ডাক শ্রুতিমধুর এমন মোটেও বলা যাবেনা জানি। এমন কত হাজারবার লেগেছে যে – কাকের কর্কশ গলা টিপে কি বন্ধ করার কোনও উপায় অাছে? না নেই। প্রকৃতির রাজত্বে কাকের অবাধ বিচরণ। এদেশে কাকের বিচরণটি সমধিক। অামার মনে বহুবারই এসেছে এদেশে কাক জাতীয় পাখি হবার যোগ্যতা নিশ্চয় রাখে। অথচ হয়তো কাকের কালো রঙের সঙ্গে কর্কশ কন্ঠ কাক-কে যোগ্যতা বঞ্চিত করে থাকতে পারে।

যাহোক অামি মোটেও যোগ্যতা রাখি না এইসব জাতীয় বিষয়াদি গবেষণার। শুধু স্বভাবদোষে যা বুঝি, না বুঝি – লিখি। এখন একখানা ক্যামেরা যুক্ত ভালোমানের মোবাইল স্বামীর সুবাদে গিফট পেয়ে যখন-তখন ক্লিকও করি। এবঙ এখানে অথবা সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুকেই অাপলোড করি ও ছবিটির বিষয়ে নিজের ভাবনাজাত কথামালা শেয়ার করি। কথায় অাছে না –
“মোল্লার দৌড় মসজিদ-বাড়ি”-র
মতো অার কি। এই অামার দৌড় – বাংলা লিখতে-পড়তে জানি। তো, সিটিজেন জার্নালিজমের সুযোগ দিয়েছে একমাত্র বৃহৎ অনলাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ব্লগ+নিউজ পোর্টাল, সুযোগ কাজে লাগাতে চাই – এখানে সবাইকে ভালোবেসেই। অন্যদেরও যথাসাধ্য উৎসাহিত করি মন্তব্য দিয়ে। অনেকেরই আপা / আপুনি এখানে আমি। আবার কিছু রাজনৈতিক লেখার কারণে গালমন্দ অনেক খাই। তাতে কি? মতাদর্শের ভিন্নতা থাকবেই। এবঙ সেই কারণে উগ্র মতাদর্শের গালমন্দ খাওয়া নিয়ে চিন্তিত হলে চল কি লিখিয়ে মানুষদের? বিজয় মাসে বিডিনিউজ পরিবারের সকলকেই লাল সালাম জানিয়ে অামার অাজকের কাকের ছবি ক্লিকের বিষয়টি লিখতে চেয়ে বসেছি মোবাইল কীবোর্ড চালনায়।

হ্যাঁ, ইতোপূর্বে জানান দিয়েছিলাম প্রাতঃভ্রমণের কথা। এইতো মাত্র ক’দিন শুরু করেছি সকালে হাঁটতে যাওয়া স্বামীর সঙ্গে (*যেহেতু অসুখজনিত হাড়ক্ষয়+হাড় ভাঙার ভয় রয়েছে, তাই একলা তেমন যাইনা অাজকাল কোথাও*)। অাজকে এক চক্কর হেঁটে যেতেই পাই কাকের দলটিকে ব্যাডমিন্টন খেলার চত্বরে। কেন জানিনা, হঠাৎ বিষম ভালো লাগলো কাকের দলের চুপচাপ দলীয় ঐক্যচিত্র। মনুষ্য জাতির ভিতর এই ঐক্যের প্রকট অভাব অাজ সকল দল-মত-জাত-পাত-ধর্মবোধে। অথচ, কাকের দলটি কি দারুণ একতাবদ্ধ, যুথবদ্ধ। কোনওরকম বিভেদ / বিদ্বেষের বিষাক্ত বায়ুদূষণের বিস্তার নেই। যদিও প্রচলিত প্রবাদ অাছে – কাক ও কোকিলের ডিমের গল্প – কোকিল কাকের বাসায় ডিম দেয় ও কাক ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে দেখে – কোকিলছানা! তাহলে কাকের কি দোষ? কাক একদমই নির্মল, নির্দোষ – যতই কালো হউক – অাজ অামার কাকদের দারুণ কালো রঙেই মন মজলো খুব। কাকের দলের একতাবদ্ধ বিচরণ – কাকের কালো চোখের ক্ষুরধার চাহনি – এইভাবে জীবনে অার দেখিনি অামি। অথচ – “কাকচক্ষু জল”-এর উপমা কতবার পড়েছি। বুঝে উঠিনি অাজকের মতোন। এমন বোধনজারিত হবার ক্ষণ জীবনে অার অাসেনি। অনেক কবির কবিতায় কাকের কথা পড়েছি বটে, একলা নিঃসঙ্গ কাকের ছবি দেখেছি বহুবার, অামি যে কাক বিষয়ে লিখবো কোনওদিন সেতো ভাবিনি। অামি যে কাকের ছবি তুলবো নিজে সেও কি জানতাম? অজানা মুহূর্ত অাদতে হঠাৎই জীবনে অাসে। অজান্তে অামূল নাড়িয়ে দেয় বহুকালের চেনাজানা চারপাশের মূল জীবনপাত – বেলা শেষের উপলব্ধির সকাল হতে সায়াহ্নে পৌঁছে যাবার কথাটিও জানান দেয় বোধের গভীর পাতাল ছুঁয়ে। তখন জীবনকে নতুন করে জড়াতে সাধ হলেও সাধ্য থাকেনা অার। তবুও চার লাইন অাসে অর্বাচীনের সদ্যজাত পঙক্তি হয়ে –

“জীবনভাই, দাঁড়াও, তোমায়
অারেকটু দেখার অামার বড়ো সাধ –
তুমি না বুঝলে তবে অামি কি বাঁধিবো বাঁধ –
বালির বাড়িটি ধসে যায় অাদি অববাহিকায়।”

এবঙ সবশেষে কাকের জন্য আরও চারখানা লাইন – যদি পড়ার পরে কারও কাকদের ভালোবাসতে ভালোলাগে –
তবেই আমার ছবি ও লেখা সার্থক হবে —

“কে বলে গো কাক ভালো নয়?
আজিকে আমার কি যে দারুণ লাগলো –
একদল কাক চুপ কাকচক্ষু জলের মতোন যেন বা চোখের আলো –
কে বলে গো কাক ভালো নয়?”

আজিকে আমি কাক-কে বাসিয়াছি ভালো

*কাকদের উৎসর্গিত করলাম ছবি ও অাজকের অর্বাচীনের সদ্যজাত চারলাইন। কেউ যেন না প্রশ্ন করেন – “কাক কি পড়তে জানে? তাতে কি? বেলা শেষের ইচ্ছে পূরণ – হলো তো একরকম। আজিকে তাতেই মহাখুশি আমার মন। জয়তু মন বাবাজী। জয়তু জীবনভাই।*

পৌষ। ১৪২১ বঙ্গাব্দ।
ঢাকা। বাংলাদেশ।