ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 
নির্জন বিকেলের জানলাকাব্য

যখন কিছুই লাগেনা মনে – যখন অফুর দুপুর ঝুপ করেই গড়ায় বিকেলে – আর অর্বাচীনের চিলতে জানলাতলে তীব্রগন্ধী আলোছায়ার সবুজাভ ভেলায় চড়ে চড়চড়িয়ে বিকেলও জানান দেয় – আসছে সন্ধে – তখন হঠাত হৃদয়জাত কিছু কথাজালের কথামালা বাতাস ঘুরে পড়শিদের ছাত পেরিয়ে আসে আমার মনে ! তখন কি আর জানলাকাব্যে মন না দিয়ে উপায় থাকে কারও? তাই ভুলেও যে কোনওদিন লেখেনি দু’চারছত্র – সেও হয়তো কলম ধরতে পারে ! ভুলেও যে কোনওদিন ক্যামেরা ক্লিক করেনি – সেও হয়তো দিব্যি পড়শিদের ছাত ধরতে হাত বাড়াতে পারে ! একদা এইসব অচিন্ত্যনীয় আমাদের সময়ে। অথচ আজতো আমরাও ক্যামন পারি ! যখন আমরা ঊনিশকুড়ি – তখনতো অকল্পনীয় আজকের অন্তর্জালের এই অবাধ বিচরণের চারণভূমি ! কিছুকাল আগেও বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিলো ডিজিটালের যাদুবিদ্যা এতটা সহজ নাগালে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে দিতে।

আদতে আজ সবই ভারি সহজ ! হাতের মুঠোয় বিশ্ব ! ডিজিটালের রমরমা যাদুর কাঠি ! রূপকথার জিয়নকাঠি লাগেনা আজ ! সবই ভারি সহজ ! ক্যাবল একটা মোবাইল / কম্পিউটারে যার যা খুশি লিখতে পারে ! আঁকতে পারে! অর্বাচীনের আর কি তেমন লাগে? এইতো একটুকু চারদেয়াল ঘের, ঘেরাটোপেই দিব্যি ক্যামন পুরাতন রাঁধুনী যেমন রাঁধতে পারে – তারও অধিক দু’চোখ দিয়ে দেখতে জানে – চোখল অতি – অসুখগুলি আদ্যন্ত ভুলতে জানে !

তাইতো শত তারুণ্যজয়ী শীত বাতাসে বুড়ো গোমতিবেলা ডাক পাঠালে – বৃত্তবন্দী জীবনটারে মনোরথে উড়িয়ে দিয়ে – দুপুর-বিকেল-ভরসন্ধের পুরাতন ভ্রমণ কত – প্রাচীন রোম – ভেরোনা হয়ে ভেনিস-প্যারিস-জার্মান অব্দি দেখার সেই তরুণ চোখ – চোখের অধিক আজও ডাকে ! অনেক আজও দেখার বাকি – তাইতো বলি – জীবনভাই, আরেকটু দেখতে দিও – সময় করে লিখতে দিও – অলস আমি – অকাজ করি দিবসরজনী কাটাই বসে – বিশ্বাস করো জীবনভাই, আরেকটু সময় দিলে হয়তো ঠিক লিখেই যাবো – যা কিছু আজও দেখার বাকি।

এইতো আজ বলার ছিলো – এইতো ছিলো লেখার – একটুকু এই মায়ায় পড়া – ঘরের-পরের বাঁধনজালে – এই আছি তো, এই নেই-নেই-নেইরে ! বলি – জীবনভাই, তুমি হয়তো কৃপণ বিষম – তাই হয়তো উড়ুত-ফুরুত পাখি জীবন – এক ফুতকারেই ডানাভাঙা ঘুড়ির মতোন খতম – বলি – জীবনভাই, তুমি এমন ছোট্ট বেলার ছবির মতোন ছোট্ট জীবন কেন? তুমিতো আরেকটু উদার আকাশের মতোন সাগরের মতোন বিশাল ভালোবাসার ঠাঁই হতেই পারতে – কি পারতে না? নাকি তুমিও মানুষের মতোন অক্ষম একটা মাত্র জীবন নামের যাপিত জীবনের ছুটন্ত ছোট্ট বাহন? ধরে রাখার কোনও উপায় নাই কারও? এইটাই একটা মনে ধরার মতোন উপমা বটে তোমার জন্য। তুমিও ঠিক মানুষেরই মতোন স্বল্পায়ু অলপ্পেয়ে জীবনপাখি মাত্র। ডানার গন্ধে প্রাণান্ত দিনগুলি / রাতগুলির মতোন স্বপ্নাদ্যে তোমারও প্রাণভোমরা বিধাতার হাতেই ধরা। তাইতো তুমি কবির বাণীর মতোন –

“লাখ-লাখ যুগ হিয়ে হিয়া রাখনু
তবু হিয়া জুড়ান না গেল” …

কবির অধরা পদাবলীর মতোন তুমিও অধরা আদতে। মাঝেমাঝে তোমাকে পাই – আবার মাঝেমাঝে হারাই। তবু তুমি-ই আমার জীবনভাই। যতক্ষণ শিরা-উপশিরায় রক্তধারায় ধমনী সচল – ততক্ষণ-ই তুমি আমার। যখন থামবে রক্ত চলাচলের যন্ত্র – তখন কে কাহার – সে প্রশ্ন শুধাবেনা তোমায় কেউ আমার / কবির মতোন করে – কেননা তখন জীবন মৃত। মৃতের নাগাল জীবিত জীবনে পায়না আর। অন্যজীবন সে ক্যামন কে জানে ! অচিনপুরে জীবন আছে? কে জানে? কেউ জানে না। কবিও না। জানেন শুধু বিধাতা – অসীম ক্ষমতাধর অই উপরঅলা। উপর হতেই জীবনের সকল চাবি ঘোরান – তাঁর যেমন খুশি তেমন করে নাচান তাঁর রচিত দুনিয়ার তাবত প্রাণ – জেনেও – জীবনভাই তোমায় খুব জড়িয়ে রাখতে আমরা জড়ানো মানুষ জাতি বিষম ভালোবাসি। তাইতো যন্ত্র চালিত যাপিত জীবন ভালোবেসে কত কি করি – কত যে মান-অভিমান-ঝগড়াঝাটি – খেরোখাতায় কাটাকুটিভর্তি লেখালিখির ধুম – দারুণ দুপুর – অফুর প্রেম – একটুতেই সে প্রেম জানলা দিয়ে হাওয়া – শুধু ছবিটি হয়ে স্মৃতির ওড়াউড়ি … তবুও জীবনভাই এসব আমরা মানুষ জাতি বিষম ভালোবাসি।

*হঠাত ভেসে যাওয়া ছবি ও গানের মতো – যা মনে এলো লিখেই গেলাম – হয়তো বেঁচে থাকলে এইখানে আরও কিছুদিন অর্বাচীনের হাবিজাবি কথামালার জলছবি প্রকাশ হবে – হয়তো হবেনা – তবুও অলিখিত আরও যা কিছু হয়নি লেখা – সেসব লিখবে আগামী তারুণ্যের সম্ভাবনার হাতগুলি – তাদের জন্য আমার অগ্রিম অভিবাদন।*

৪-ঠা জানুয়ারী। ২০১৫ সাল।