ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

৩১ শে জানুয়ারির সকালে প্রিয় চিলতে বারান্দায় বিবর্ণ বুড়ো  ক্যাকটাস

অাজ ৩১ শে জানুয়ারির সকালে দেখি – চিলতে বারান্দায় বাবার দেয়া ক্যাকটাসের বুড়ো বিবর্ণ দশা। একেতো শীতকাল। এবঙ মাঘ মাসের হাড়কাঁপা শীতের ধূলিধূসর ছাপ তো সর্বত্র। যদিও মাঘের প্রথমেই হঠাৎ মূষলধারায় অাসমানভাঙা বর্ষণে গাছপাতালতা, প্রকৃতি ধুইয়ে দিয়ে গেছিলো, তখন খনার বচন মনে পড়ার দিন –
যদি বর্ষে মাঘের শেষ –
ধন্য রাজা, পূণ্য দেশ।।
সেদিন কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করেছি – মাঘের প্রথমের মতোন শেষের বর্ষণে ধোয়া হয়েই যেন বাংলাদেশের প্রকৃতি অার মানুষদের সর্বোত মঙ্গলময় হয় জীবন। কিন্তু অবস্থা দিন-দিন অধোঃপাতময়।

সেই কথাটি অাজ লিখতে বসিনি। অাজ অন্যরকম কথাজাল ঘিরেছে অামায় সকাল বেলা। বহুকালের পুরনো ক্যাকটাসটি মনে পড়িয়ে দিলো – অামিো বুড়ো, তুমিও তা-ই। অামার অসুখজনিত কারণে অাজকাল একদমই জল-মাটি-কাদা ধরতে পারিনা। সঙ্গেসঙ্গেই ইনফেকশন। তবুও অযত্নে টবের গাছ-লতাগুলি বেড়েই চলে! ক্যাকটাসের জল তেমন প্রয়োজন হয়না। অার বাবার দেয়া ক্যাকটাসটি কেন জানি না ভেঙে গিয়েও অাবার অাকাশমুখো বাড়! বড়োই অদ্ভুত অাবার অানন্দের।

কাজের মেয়েকে যতই বলি মোটেও যত্ন নেয়না। অামি মাঝেমাঝে একটু জল দিই বলেই বেঁচে অাজও। একসময় কত যে বৃক্ষমেলায় / দূরের নার্সারি হতে জবা ও যুঁই-বেলি-বনসাই কিনেছি। নিজহাতে অনেক যত্ন নিতাম। তখন যা লাগাতাম তাতে দারুণ সবুজ পাতারা ঝলমল করতো। এমন কি পুঁইলতা ও লাল-সবুজ কাঁচামরিচ ঝুলতো – দেখেও সুখ। তখন অার এখন? ওমর খৈয়াম এর রুবাইয়াতের বাণীর মতোন –

নগদ যা পাও হাত পেতে নাও –
বাকির খাতা শূণ্য থাক।
দূরের বাদ্য? লাভ কি শুনে?
মাঝখানে যে বেজায় ফাঁক।।

তো, বেঁচে থেকে অনেক পাওয়া, অনেক দেখা, অনেক বোঝা, অনেক না বোঝা হলো। সেইতো ঢের। এখানে বিডি পরিবারের জিনিয়া, হৃদয়ে বাংলাদেশ, পাগল মন নামের ভাই-বোন কেউই অাজ নেই। তবুও মনে পড়ছে খুব। সবাই যে যেখানে থাক – থাকুক ভালো। সবার জন্য শুভকামনা অাজ অামার।

অাজ ক্যাকটাসের বয়স হয়েছে ১৩ বছর। অার অামার? হাহাহা — কখন যে ঊনষাটটি ৩১শে জানুয়ারির সকাল ছুঁয়ে ফেলেছি !!! এবঙ বেঁচেই অাছি !!! 😀