ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

পথে বেরুলে দূরে বা কাছের কত নজরকাড়া ছবি হৃদয় হরণযোগ্য দেখার চোখ থাকলে যেমন দেখাও যায়, তেমন একটা ক্যামেরা থাকলেই ছবিও তোলা কঠিন কাজ না। শিশুও এ যুগে দারুণ ছবি ওঠায়। বাবার/মায়ের মোবাইলে শিশুরা আজকাল অনায়াসেই ক্লিক করতে শিখে যাওয়া কলি যুগের শিশু। আমার বাসার কাজের মেয়োটিও দারুণ ক্লিক করতে জানে। মাঝেমাঝেই যখন নিজেও ছবি হইতে সাধ – তখন কাজের মেয়ের হাতে ধরাই মোবাইল। এবঙ বলি – “দেখাতো দেখি একটা দারুণ চমতকার ক্লিক করতো দেখি – কেমন ক্লিক জানিস” ! সে মহা খুশিতে হাসতে-হাসতে গলে পড়েই ক্লিক করতে থাকে যতটা সম্ভব ততটা ! তার মাঝেই বেশ অনেকগুলো ক্লিক ভালোই আসে ছবিটি হয়ে ! তারও দুই চারিটা ছবি আমি-ই তখন করতে থাকি আনন্দচিত্তে ক্লিক। অতঃপর কাজের মেয়েও খুশি। আমিও খুশি। এইতো ছবিময় দুনিয়াদারি কলি যুগের। যদিও আমরা আদ্দি কালের প্রায়। তাতে কি ! আমরাও বেশতো পারি। আমাদেরও প্রায় সবার হাতে এখন মোবাইল দুনিয়াদারি। ক্লিক সবাই পারি। ওদের সনে আমরা পাল্লা দিয়েই ফেসবুকে এবঙ ব্লগে যখন-তখন কত যে ছবি সমানে আপলোড করতে থাকি ! ভাবতে খুব অবাক হই – হাজার-হাজার ছবিরা আঁটে কি করে অন্তর্জালে ! কতটা বিশাল সে ! রোজই সেকেন্ডে-সেকেন্ডে আপলোডেড ছবিরা যায় তাহার গর্ভে ! ক্যামন গর্ভ তাহার ! জানি, এসব আমার বিষয় নয়। আমার শুধু লেখালিখির কাজ। আর যে একটু-অধটু ক্লিক করতে পারি – সেসব ছবি / ছবিরে নিয়ে লেখার কাজ।

তো, এই ছবিটা করেছি ক্লিক হঠাত ঢাকা চট্টগ্রামের হাইওয়ে ধরেই ঢাকায় ফেরার পথে। এমন প্রায় গোধূলি লগ্নছোঁয়া আকাশ-ঝিলের যুগল সন্মিলনের ছবিরে ক্লিক না করে পারি ! হাতের মুঠোয় যখন মোবাইল তখন ক্লিক করলে সে হয় দারুণ ছবি ! তারপর তো সে আমার নিজের মোবাইলবন্দী পাখি ! আমার ইচ্ছে হলেই যখন যেখানে খুশি করতে পারি ডাউনলোড / আপলোড / ডিলিট। ইচ্ছে হলেই আবার গুগল, ফেসবুক অথবা ব্লগে শেয়ার করে লিখতে পারি যা খুশি। ইচ্ছে হলেই হাওয়া করেও দিতে পারার অধিকার আমার শুধু। তখন ছবি সে শুধুই আমার খেয়াল-খুশির বন্দী পাখিটি যেন ! কি কান্ডটাই না অসম্ভবকে সম্ভব করার মতোন করে ফেলার কলিযুগে দাঁড়িয়ে আমরাও অংশী। এক একটি ছবিময় দুনিয়াদারি উপভোগ করছি! এত পাওয়া লুকিয়ে রাখার নয়। তো, তারে পাখির মতোন উড়িয়ে দেয়াই ভালো। সে হোক সবার চলার সাথী। পথের সাথী। অবকাশের সে হোক কবিতাপাখি।

দেখেছি পথে যেতে  ---  ছবি ক্যাপশন: ঢাকা চট্টগ্রামের হাইওয়ে তে এমন ছবি যে কেউ ওঠাতে পারেন ভালো মানের মোবাইল ক্যামেরা থাকলেই। আমিও আমার মোবাইলেই ধারন করেছি পথের এ ছবি দারুণ লেগেছে বলে।

তাহলে ছবির ভাষায় আমারই “জীবনপুঁথি”-র একটা ছবিকাব্য শেয়ার করবার ইচ্ছেটা খারিজ করতে পারছিনা বলেই অবশেষে আজিকে এই ছবির সনে দিলাম জুড়ে –

জীবনপুঁথি * পর্ব ৬ *
***********
আমাকে কি কেউ বলেছিলো না বলা না জানা ছবি –
তারেও লিখোতো দেখি তুমিই কি সেই ছন্নমতি কবি !
নিজেই বুঝেও যাই , না, আমি নই অন্য কেউ –
অর্বাচীন আমি না বুঝেই খুঁজে বেড়াই বাংলাঢেউ !
অযথা আমাকে খুঁজে না পেয়ে লিখতে চাই –
রাজ্যের জঞ্জাল যত যাদের ধারেকাছেও কাব্য নাই !
লোকজনও বলছে তাই –
কোথাকার কে লিখছে বসে যখন যেমন যাচ্ছেতাই !
কতবার গালমন্দ খেয়ে লিখবো না ভেবেছিও ভাই –
অই যে আমার রক্তে ঘোড়ারোগ, লেখা খুঁজে যাই !
কোথায় কে কাঁদে, কে আবার আমারেই চায় –
বুঝি অলেখাই আমি, দাঁড়িয়েছি হতশ্রী পাতায় !

*জীবনপুঁথি।। পৃষ্ঠা ১৩।।
*আদর্শ।। ২০১৫।।

বৈশাখ। ১৪২২ বঙ্গাব্দ।
ঢাকা বাংলাদেশ।