ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
rabindranath-03

কবিগুরু কেবল ২৫শে বৈশাখেই নয় হয়তো ১৪০০ সালের পর আরও কত সাল যে স্মরণার্হ হবেন কেউ জানি না। ১৫৪তম ২৫শে বৈশাখে কবিগুরু কি আর জানেন কোন নবিসি বসে আজও পড়িছে তাঁরই গীতাঞ্জলী ! একটা মাত্র অই যে “গীতাঞ্জলী” রচনা করেই পেলেন আসন কবিগুরু-র – এমন কে আর আছে জগতে তাঁর মতোন ! অবাঙচিত্তে ভেবেও যুতসই তেমন লাগেনা কোনও ধারণাই। ধারণাতীত তাই তাঁরই গীতাঞ্জলী হইতে শত গানের সুর ও বাণী-ই শুধু স্মরণে আসে ! এ হেন যিনি কবিগুরু-র আসনে আসীন শতবর্ষ পেরিয়ে তাঁরে স্মরণ করা / না করা নিয়ে কবির যায় আসে না কিছু। কেবল এই বাংলাদেশ যতদিন – ততদিনই বাংলাদেশের মানুষ, ইস্কুলের শিশুরা রোজই গাইবে পতাকাতলে দাঁড়িয়ে এদেশের জাতীয় সঙ্গীত। জাতীয় দিবসগুলিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে পতাকা উত্তোলিত হবে ও সকলে দাঁড়িয়ে গাইবে – বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ রচিত স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতখানি –

“আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি—” ।।

Gitanjali-Rabindranath-Tagores-Approach-to-Love-and-Mysticism

বঙ্গবন্ধু কবিগুরু-র এ গান করে গেছেন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। বঙ্গবন্ধু অনেক ভালোবাসতেন রবীন্দ্র-নজরুল দু’জনকেই। বঙ্গবন্ধু প্রায়শঃ নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে রবীন্দ্র-নজরুল এর গান বা কবিতার দু’চার লাইন দারুণ বজ্র-মন্দ্র স্বরের উচ্চারণে ছড়িয়ে দিতেন জনগণের মনে। আজও মনে আসছে বঙ্গবন্ধুর এবঙ আমাদেরও অনেকেরই প্রিয় কবিগুরুর অবিস্মরণীয় গানের বাণী –

“ও আমার দেশের মাটি তোমার ‘পরে ঠেকাই মাথা … “।।

এদেশে আজ অনেক রবীন্দ্রবিদ্বেষজাত বয়ান / মন্তব্যের লিংক দেখি মিডিয়া / ব্লগে। আমার মূর্খতার অধিক কোনও উপাধি জানা থাকলে সেটি এসব মূর্খদের নামের পাশে ঝুলাতে বলতাম। যাহোক, একাত্তুরেও এইসব জাতীয় বিদ্বেষীদের বিষোদগার ছিলো। আজও আছে। হয়তো অনন্তকাল থাকবে। তাতে কবিগুরুর আসনচ্যুতি ঘটেনি। ঘটবে না কোনও কালে। আমরা স্মরণীয়-বরণীদের স্মরণে কার্পণ্য করবো কেন ! যে কবিগুরু বিশ্বকবি-র আসন জুড়ে – যে কবিগুরুর গানের বাণী সবার যে কোনও সময় – যে কোনও দিবসে উপমা হিসেবে মনে এসেই পড়ে – কে তাঁরে হটায় হৃদয় হতে ! তিনি যে সততঃ পড়েন মনে – সে কোন বাঙালি এড়ায় তাঁরে !

১৩০২ বঙ্গাব্দের ফাল্গূনে কবিগুরু রচেছিলেন – ১৪০০ সাল কবিতাখানি –

“আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছো বসি আমার কবিতাখানি
কৌতুহলভরে,
আজি হতে শতবর্ষ পরে !”

আরও আশ্চর্য – “পঁচিশে বৈশাখ” নামেও কবি একটা কবিতা রচেছিলেন। আজ কবিতাখানা পড়ে অবাঙ আমি –

“পঁচিশে বৈশাখ চলেছে
জন্মদিনের ধারাকে বহন করে
মৃত্যুদিনের দিকে।
সেই চলতি আসনের উপর বসে কোন কারিগর গাঁথছে
ছোট ছোট জন্মমৃত্যুর সীমানায়
নানা রবীন্দ্রনাথের একখানা মালা”।।

আজিকে এই পঁচিশে বৈশাখ ১৪২২ বঙ্গাব্দ আমাকে নম্র নমিত প্রণতি জানাতে লিখতে বসালো একটাই লাইন –
লহো প্রণতি –
কবিগুরু, তোমায় গভীর প্রণতি।।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পঁচিশে বৈশাখ। ১৪২২ বঙ্গাব্দ।