ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

কাগজের নাও রে  অাজ  পড়লো  মনে ...

অজ দুপুর বেলা হঠাত অাকাশভাঙা ঘনালো মেঘরাজি … অতঃপর নামিলো ঝুম ঝড়জলের ধারা। মনের কালো ঘুচিবে কি না জানি না … গ্রীষ্মরাজের দাপট অনেকটা ঘুচিলো বটে। এমন দিনে কত কি মনে পড়ার ছবিমালা ছায়াছবির লাহান জমায় ভিড় মনের মাঝে। মনটা খানিকটা সকল জাগতিক বেদনাকাল হইতে বুঝি বা মুক্ত পাখির লাহান উড়াল দেয়। অামরা প্রায় সবাই শিশুকালে এমন দিনে দারুণ খুশিতে বাড়ির উঠোনের কোণের জমা জলের গর্তে ভাসাইতাম কাগজের বানানো নাও। সে নাও দুলিতো বাতাসে … জলে ভিজিয়া ডুবিয়া যাইতে গেলে অামরা কাঁদিয়া ভাসাইতাম চোখ। বড়রা অাবার অারেকখানা বানাইয়া দিতেই চোখ মুছিয়া মহানন্দে ভাসাইতাম। কাগজের নায়ের মাঝিহীন ভাসিয়া চলা দেখিয়া অামাদের তখন মাঝি হবার সাধ হইতো খুব। তখন জানিতাম না – বুঝিতাম না মাঝিহীন নায়ের যাত্রীদের ডুবিয়া মরা নিয়তি। শিশুকাল অবোধ এমনই। যতই বড় হওয়া – ততই কঠিন এই দুনিয়াদারী।

অাজকাল গাঁয়ের বাড়ির উঠোন দেখা হয় না অামাদের সহজে। নাগরিক ঘেনাটোপের চার দেয়াল ঘেরা কঠিন কলোনিয়াল জীবন। শিশুদের উঠোনহীন চিলতে একটা ঝুলবারান্দাভর্তি ভেজা কাপড় ঝুলিয়া থাকিতে দেখা। কোথায় সে ভাসাইবে তাহার কাগজের নাও? কোথায় তাহার অমল খেলাধুলোর উঠোনতল? সবুজ মাঠগুলি দখলদারের দখলে। শিশুদের অাগলে রাখে মা বিপদ অাসিবার ভয়েই। প্রকৃতির মূলেই অাজিকার মানুষ নামের অমানুষরা কোপ মারিয়া বসিয়াছে বলিয়া ভিত্তিমূলে ফাটল ধরিয়া গিয়াছে। ভূ-কম্পন এখন যখন-তখন। অসহায় অামরা ধর্মভীরু মানুষগুলি অাল্লাহ / ঈশ্বর / ভগবান নামের জপ জপিতে থাকি। উপরঅলা অামাদের সহায় ভাবিয়া বিরামহীন জপি তাঁরই নাম। তিনি কি অামাদের অপরাধের সীমাহীন কালোর ভার অাদতে ক্ষমায় নিবেন? তিনি কি অালোর যাত্রী বানাইবেন অামাদের সুযোগ দিবার একটা উছিলায়? কে জানে ?

যাহা হউক, অাজিকে অকাল বরষা হঠাত নামিলো অামার প্রৌঢ়ত্বের বয়সে। সেই শিশুবেলার জলছবিমালা জানি না কেন অামাকে কাঁদাইয়া দিলোই। অামি নিজেও জানি না অামি কি মাঝিহীন নায়েই হঠাত চড়িয়া প্রায় ডুবিয়া যাইতে-যাইতে খড়কুটো খুঁজিয়া মরিবার সময় শিশুতোষ নাওটি ছিন্ন পাতার শতছিন্নতার জলরঙের ভেলায় ভাসিয়া গিয়া ঠেকিবো সে কোন অচিন পারে? যে পারে কেউ কোথাও নাই।

বৈশাখ। ১৪২২ বঙ্গাব্দ।
ঢাকা। বাংলাদেশ।