ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 
জগতে কত যে  জীবনধারা ...

সে মেয়ে। সূচে রঙিন সূতোয় অাঁকতো অাপন মনের মাধুরীতে নকশি মেধা। সে এক অন্যতর জীবনধারা স্বপ্ন বোনার মতোন চাইতো সূচে সূতোয় গেঁথে ফেলতর। সে চট্টলা নগরবাসী কন্যা – কলিন নাম। দারুণ সূচীকর্ম তাহার। চোখ ফেরানো যায়না এমন কারুকাজ। অামার ননদিনীর সই সে। এই নকশি সূচীকর্মকান্ড কলিন-এর অাঙুলে তৈরী। সে কোন বনময়ুরী পেখম মেলে দাঁড়িয়ে মুখোমুখি দারুণ মায়াবিনী হরিনী যেন জগতলোতে বেড়াতে এসেছে। এমনই ছবিটি হয়ে সে যেন বলতে এসেছে – ‘দেখো, পাখিজীবন সেও কেমন স্বপ্নাদ্যের পাথেয় লয়ে তোমাদেরই হৃদয়হরণ ছবি হয়েছে ! ‘

কলিন সূচীকর্মখানা বাঁধিয়ে উপহার দিয়েছে অামার ননদিনীকে। অামি ননদিনীর দেয়ালে ঝুলানো কলিনের সূচীশিল্প সেথায় গেলে মুগ্ধনয়নে দেখি। অামার চট্টলা এবঙ কলিনকে তখন মনে পড়তে থাকে। মায়াবী মুখের মেয়েটি এখন কেমন অাছে জানিনা। নিপুন অাঙুলে যে মেয়েটি মনের রঙে রঙিন সূতো জড়ানো জীবনেরই কোনও স্বপ্নসম নকশি ভাষা বুনতো, অাজ তারও কালচক্রে বয়স বেড়েছে, এইতো জাগতিক নিয়ম । হয়তো চোখের নজরও কমেছে। এখন কি অাগের মতো তেমন অাছে কলিন? স্বপ্নগুলি বুনতে-বুনতে কতটা বুড়িয়েছে কলিন? কতকাল দেখিনা তারে। দেখিনা চট্টলারে। অামার চট্টলা যাওয়া হয়ই না অাগের মতো। পড়েছি অসুখে, অামার কিছুই অার অাগের নিয়মে বাঁধানো নেই। কেবল কিঞ্চিৎ লেখার স্বভাবদোষটুকু অাজও অাজও অাছে অাগের মতো ! তাইতো যখন-তখন লিখি যা অাসে মনে ! লোকজনের তেমন ধরেনা মনে ! তাতে কি? চার দেয়ালে চব্বিশঘন্টা নিয়মেরই ছকবাঁধা জীবনে কত কি লাগেনা মনে! অামি কি অাছি অাগের মতো হৃদয়হরণ তেমন? অামারেই অামার অার লাগেনা মনে ! তাহার তবে লাগবে কেন অামারে অার অাগের মতো তেমন মনে?

যাহোক, কি ভেবে সেদিন অামি হঠাত ননদিনীর ড্রয়িংরুমের দেয়ালে ঝুলানো কলিনের অসাধারণ সুনিপুণ সূচীশিল্পটির একটা ছবি উঠাই মোবাইলে। এবঙ অাজ হঠাত সেই ছবিটি নিয়েই লিখছি ! কলিন কোনওদিন জানবেও না অামি তারই সূচীশিল্পের সচিত্র পোস্ট লিখছি মধ্যরাতের প্রহরে ঝুঁকে ! যেমন করে কলিন সূচে অাঁকতো স্বপ্নধারা, তেমন না হলেও কিছুটা কাছাকাছি ধাঁচের হয়তো বা … এমন কথাটি ভাবছি। চট্টলাকে ভাবছি। কলিনকেও … সে সদানন্দে থাকুক। চট্টলা বহমান থাকুক কর্ণফুলির গতিধারায় … ভেসে চলুক সদানন্দে।

IMG_20150522_203013

জৈষ্ঠ। ১৪২২ বঙ্গাব্দ।
ঢাকা। বাংলাদেশ।