ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

দিবস জানতে চাইনা। তবু জগতে দিবসের কদর খুব। দিবস আসে। দিবস যায়। ডামাডোলের মাঝে দিবস পালনের স্মরণমুখরতা দেখে স্মরণ কালের জীবনভর্তি স্মৃতিমালা হৃদয়ে কড়া নেড়েই বলে –

“আমার স্মরণে দিবস লাগে তোমার!”

অধোবদন আমার চোখ সজল হয়। হৃদয় জুড়ে বাবার মুখ, মায়ের মুখ আমারে রক্তজলের ভাষায় সত্য লিখতে এখানে বসিয়ে দেয়। কী লিখি? যে বাবা-মা না হলে এই আমারে চিনতো না জগতে কেউ – যে বাবা জন্মদাতা আমার, জন্মেছি মায়ের গর্ভধারিনীর অপার-অতুল অাঁচলগন্ধে, বাবা-মায়ের স্নেহচ্ছায়ার তুল্য কি আছে জগতে আর কিছুর সনে? তাঁদের স্মরণ করতে দিবস লাগে কি? এই কথাটি আমি আরও অনেকবার বলেছি “বাবা দিবস” অর্থাৎ ইন্টারন্যাশনালি – “ফাদারস ডে” / “মাদারস ডে” পালনের নিয়ম দেখে। হয়তো তারও কোনও মূল্য রয়েছে যন্ত্র জীবনে। পৃথিবী যতই অগ্রসরমান ততই যন্ত্র মনের সেকেলে গভীর অনুভবকে / ভালোবাসাময় নাড়ির বাঁধনকেও করেছে যান্ত্রিক যেন বা ! তো, আমিও আমার যন্ত্র নির্ভরতাকে অস্বীকার করতে পারি কি? পারি না।

তবু, কেন যে মন সেকেলে অই বাবার দুহাত ধরে ও মায়ের অসীম আদরমাখা অাঁচলতল খুঁজে বেড়ায় ! প্রয়াত মা-বাবা দুজনার তুলনাহীন স্নেহচ্ছায়াহীন জগত বড়ো অসার লাগে। কত যে অবাধ্য হয়েছি দুজনার – নিজের অবুঝ বাহানা নিয়ে কত যে জ্বালাতন করেছি – তাঁরা মোটেও বিরক্ত না হয়ে – দূরে না ঠেলে যথাসাধ্য পূরণ করেছেন বাহানা – আমি কি জেনেছি – কি তাঁদের হৃদয়গত চাওয়া পূরণ হয়নি জীবনে? তাঁরা অকাতরেই আমাদের সকল শখ পূরণে সহায়তার দুহাত হয়ে – হঠাৎ একদিন তাঁদের সকল ফেলেই পরপারে গেলেন চলে। জীবনে আর পাবো না তাঁদের আদরমাখা হাত। জগতে চলে যাওয়াগুলি এমনই কঠিনতম সত্য।

অই যে কৃষক বাবাটি / কৃষাণী মা / গরীব ভিখারী বাবা-মা – বাৎসল্য একইরকম গভীর স্নেহময়তায় জড়ানো তাঁদেরও। তাঁরাও সাধ্যমতো মেটাতে চান নিজের সন্তানের চাওয়া – নিজে না খেয়ে সন্তানের পাতেই দেন সারাদিনের খুদকুঁড়ো – যেটুকু জুটেছে সেসব দিয়ে নিজের উপোস থাকার কথা জানান না দিয়ে কাটান রাত – পরের দিনের জোগাড়ে পথে বসেন আবারও।

এই তো এক জীবনভর জগতে সকল বাবা, সকল মায়ের অসীম দায়ভার পালন। যে দায়ভারটির কোনও তুল্য হয় না জগতে অপর কোনও দায়ভারের সনে।  তো, সেই বাবা / মায়ের জন্য দিবস লাগে, তাঁদের স্মরণ করতে আজকের জগত জুড়ে দিবস আসে। আমার তখন তাঁদের প্রতি অপরিশোধ্য ঋণভারে হৃদয় হতে কি এক রক্তজলমাখা গভীর ক্রন্দন কাঁদিয়ে যায় গভীরতম অনুভবে। আমার সকল হৃদয়জাত বোধ দিয়েই লিখি – জগতে যত জীবিত বাবা , জীবিত মা ও প্রয়াত মা-বাবা তাঁরা চিরকালই স্মরণার্হ … তাঁদের হাজার সালাম প্রাপ্য রোজই … তাঁরা থাকুন সদানন্দে … থাকুন সন্তানের ভালোবাসা ও অসীম শ্রদ্ধায়।

২০-শে জুন। ২০১৫ সাল।
ঢাকা। বাংলাদেশ।