ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

কিতাবে বর্ণিত নবীজী (সাঃ আঃ) এর জীবনীপাঠ হতে জেনেছি তাঁর ফুলপ্রিয়তা বিষয়ে। নবীজী (সাঃ আঃ) প্রায়ই ফুল বিষয়ে অনুসারীদের উতসাহিত করে গেছেন। তাই কবির পঙক্তি রচনা –

“জোটে যদি মোটে একটি পয়সা খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি।
দুটি যদি জোটে তবে অর্ধেকে ফুল কিনে নিও হে অনুরাগী।”

  একটি  লাল  গোলাপ  হোক  সবার  আনন্দ  উপকরণ

জগতে আজ ফুলের বাণিজ্য সকল দেশ, বিদেশে। ব্যাংককে চিকিতসার কারণে যাওয়া হলেই নয়নাভিরাম ফুলের সমারোহ দেখতে-দেখতে আমার অর্ধেক অসুখ যেন বা সেরেই যায়। কত যে তরতাজা ঝলমলানো ফুলশোভিত এয়ারপোর্ট। এবঙ হোটেল লবিও তাজা ফুলের সমারোহে হৃদয়হরণ সেথায়। আমাদের বাংলাদেশেও এখন প্রায় সকল জেলাতেই ফুলের চাষ ব্যাপক হারে বেড়েছে। দেশি, বিদেশি ফুলের পসরায় ফুলের দোকানগুলি সত্যি নজরকাড়া। রাজধানী ঢাকার সব এলাকাতেই ফুল পাওয়া যায়। ফুটপাথের ফুল তুলনামূলক অনেক কমে কিনতে পারে ফুলপ্রিয়রা। কাচঘেরা দারুণ সব ফুলের এসি দোকানগুলিতে ফুলের উচ্চমূল্য। তারও বেচাবিক্রি ভালোই। আজকাল বিবাহ শুধু না, অফিসিয়াল অনুষ্ঠানেও ফুলের চাহিদা বিষম। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, মৃতের শ্রদ্ধাঞ্জলি সব কিছুতে ফুলের কদর। এমন কি ড্রয়িং-ডাইনিং-অফিস-রেঁস্তোরার টেবিল ফুলশোভিত দেখতে চোখ-মন জুড়ায়। ভালোবাসা  নিবেদনের প্রধান উপকরণ ফুল প্রাচীন কাল হতেই।

ফুলচাষ একটি সম্ভাবনাময় ব্যাবসা আজ। দেশের সব জেলায় সরকারী, বেসরকারী নার্সারিতে ফুলের চাষের প্রসার ঘটে চলেছে। বেকার তরুণদের জন্য ফুলের ব্যাবসা একটি সম্ভাবনার বিকাশযাত্রায় সামিল হওয়া ভাবি। প্রথমে ছোট আকারে ফুলের ব্যাবসা শুরু করতে নিজ জেলার নার্সারিগুলো হতেই সহায়তা নেওয়া যায়। এ এমনই এক ব্যাবসা যেটি মনকে ফুলেল করতে সহায়ক বলেই ভাবি। যদিও লেনদেনের লাভের হিসেবের খাতায় লোকসান গুনতে হলে ফুলও ভালো না লাগার কথা। তবুও লেগে থাকলে এক সময় লোকসানেও লাভের মুখ দেখতে পাওয়া যাবার কথা। অনেক নজির রয়েছে এরকম জগতে। মনোবল / উতসাহটি না হারালে মানুষ একদিন সফল হয় সকল ক্ষেত্রে। তাহলে ফুলের বেলায় কেন তা হবেনা? কবিগুরু তাই কি বেঁধেছেন গানের বাণী –

“নিশিদিন ভরসা রাখিস হবেই হবে।
ওরে মন হবেই হবে।”

আমার মন বলছে – ফুলে ভরসা রাখা যেতেই পারে। পচনশীল হলেও আমার কাছে ফুলের মূল্য অপরিসীম। ফুল কেনায় ক্ষতির চাইতে দেখনসুখ এবঙ মনোসুখ অনেক। ফুল আমার শৌখিনতার উপকরণ। পথে বেরুলে ফুলঅলা দেখলে না ডেকে পারিনা। মূল্য অধিক হাঁকলেও কিনেই ফেলি। হয়তো তখন ঘরের জরুরী জিনিস কেনাকাটা একটু কমিয়ে সারতে হয়। তাতে কি ! মন খুশি তো অন্য অনেক কিছুর ঘাটতি পাশ কাটানো যায়। আমার কাছে কারণহীন অকারণের সবচে’ সুন্দর প্রকাশ একটি ফুল। যে ফুল ফোটাতে বাগানে একজন মালির চারা গাছের যত্নআত্তিতেই দিবসরজনী কাটাতে হয়। জীবন কাটে মালির ফুল ফোটাতে-ফোটাতেই। গোলাপ-গন্ধরাজ-রজনীগন্ধা-যুঁই-চামেলী-ভুঁইচাঁপা-মাধবীলতা-বেলী অথবা গাঁদা ফুলের সমারোহে হৃদয়ে দোলা লাগেনা যার – তেমন মানুষের হৃদয়গত সমস্যা রয়েছে নিশ্চিত। তেমন মানুষটির মনোচিকিতসার প্রয়োজন।

এখন রমজান মাসের শেষান্ত। এদিকে আষাঢ়ও ফুরিয়ে এলো। বরষা মওসুমে বাগানে / টবে লাগালে একটি ফুলের চারা এবঙ যত্নআত্তি নিলেই সে বাড়বে তরতরিয়ে। নিজের হাতের চারাগাছে যে ফুল ফোটে – সেইতো অমূল্য পাওয়া। যে বোঝে কদর তার জীবনে তার লাগেনা অন্য কোনও দামী উপকরণ। ঈদ বাজারে ধুন্দুমার চলছে কেনাকাটা। যাকাতদাতাদের কারও-কারও লোহার গেইট ভেঙে পদদলিত হয়ে মরছে অভাবী মানুষ – খবরে প্রকাশ। প্রতি বছর ঘটে এমন ঘটনা এদেশে। সওয়াব কামাতে কিছু মানুষ মরলে কি আর !!! মন ভালোর বদলে বিষাদভর্তি হাজার খবর চারপাশে। তবুও আমরা কি পারিনা ঈদ বাজেটে ফুল কেনার জন্য একটু বরাদ্দ রাখতে?

আষাঢ়। ১৪২২ বঙ্গাব্দ।
ঢাকা। বাংলাদেশ।