ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

অমানুষিকতায় জগত ছেয়ে গিয়েছে বলে অমানুষের রাজত্বে মানুষ বসবাস করবে এমন ভাবার যৌক্তিকতা দেখিনা। কেন মানুষ নির্বিচারে অমানুষিক মার খাওয়া মানুষ হিসেবে বসবাস করবে পৃথিবীতে? মানুষ অসহায় যতই হোক, তবুও অসহায় মানুষেরও সহায় হবার শক্তি রয়েছে মানুষেরই ভিতরগত প্রতিবাদী সত্ত্বায়। কেবল মানুষ যদি নিজের অসহায় অবস্থানটি হতেই একতাবদ্ধ হবার সাহস দেখিয়ে রুখে দাঁড়ায় একবার। এদেশে এমন নজির আছে। একতাবদ্ধ শক্তির সাহস দেখে চরম অমানুষ খুনীর হাতের ছুরিও যায় থমকে। প্রতিবাদের ভাষার শক্তি অসীম। তাইতো মানুষ প্রতিবাদ করতে জানলে অমানুষিকতা পালিয়ে পার পায়না। পৃথিবীর সকল দেশ, বিদেশে অবস্থানরত মানুষ – এমন কি আপন দেশের মানুষ অমানুষ খুনীরে দেয় ধরিয়ে। তারই উদাহরণ আজ বাংলাদেশ। শিশু রাজন যে খুনীর চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে হারালো প্রাণ – সে ধরা পড়ছে প্রবাসী মানুষের সহায়তায়। অসহ্য বেদনাহত হবার মতোন চরম একটি শিশুর খুনের ঘটনা ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে। সামাজিক সাইটে, মিডিয়ায় দেখানো হচ্ছে বারংবার। এবঙ যা দেখে শিশু-বুড়োদের হৃদয় আঁতকে উঠছে। হার্ট ফেইল হবার মতোন দশা। কি ভয়ংকর নির্মমতার দৃশ্য। এমন করে বারংবার দেখানো উচিত কি না আসছে সেই প্রশ্নটিও। যাহোক, আজকের মিডিয়া এমনই। আমরা কাতরচিত্তে দেখতে থাকি … তবুও বলতে চাই যে – রাজন কে যেভাবে মেরছে অমানুষরা – তাদেরও একইভাবে মারা হলেই রাজনের পরিবারের বেদনাহতদের হৃদয় হয়তো কিছুটা সান্ত্বনা পেতেও পারে।

পৃথিবী হতে অমানুষিকতার বিলোপ হবে কি হবে না – আমরা জানি না। শুধু, এমন হৃদয়হীন মারের চোটে শিশুর মৃত্যু ঘটানো খুনীরা পৃথিবীছাড়া হোক – এমন প্রার্থনা জানাই বিধাতার নিকট। আমরা আইন মানি। আইন না মানা অমানুষরা কেন আইনানুগ শাস্তির অধিক প্রকাশ্যে চরম শাস্তি পাবে না? পশুর অধিক পশুত্বপ্রবণ যারা তাদের বেলায় বিচার কঠিনতম হওয়া চাই। তবেই একদিন হয়তো পৃথিবীটা প্রকৃত মানুষের বসবাসের যোগ্য একটি বাসভূম হিসেবে আগামীর শিশুর পদচারণামুখর দারুণ পৃথিবী হয়ে উঠবে। যেথায় কোনও অমানুষ রবেনা বেঁচে। আমার আজকের চাওয়া এই।

১৩-ই জুলাই। ২০১৫ সাল।
ঢাকা। বাংলাদেশ।