ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

বাংলাদেশে কিছু সৌদিআরব ফলোয়ার এলাকা গড়ে উঠেছে যারা বিগত কিছু বছর সৌদিআরবে ঈদের চাঁদ উঠলে ঈদের নামাজ পড়ে এদেশে ! কি আশ্চর্যরকম ভক্তির নমুনা ! ‘অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ’ বুঝি বা ! সে যাহোক, আমরা বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকরা দেশের কোথাও চাঁদ ওঠার খবর শুনেই – ‘ রমযানের অই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ – গানের সনে ঈদের নামাজ পড়তে তৈরী হওয়া / ঈদ বাজারে সর্বশেষ কেনাকাটার জন্য ছুটতে ভালোবাসি।

রমযানের প্রকৃত সংযম সাধন যদিও উধাও ঘটমান নির্মমমতার ঘটনাবলিতে, তবু ঈদের চাঁদের খবরে মনে খানিক আনন্দদোলা লাগে। আগের আমলের অনেক নির্মল খুশির ঈদ – ঈদের স্মৃতি মনের মাঝা’রে আসে ও আবেগতাড়িত করে। তখন সত্যি এদেশে ঈদ আসতো অনেক খুশির চাঁদ ওঠার খবর লয়েই। ঊনত্রিশ না কি তিরিশ রোজা – তা নিয়ে দারুণ সে এক উত্তেজনা সবার মনে। আমরা মাঠে / ছাতের কোণে দাঁড়িয়ে থাকতাম ঈদের একফালি রূপালি চাঁদের ঝিলিক দেখার আশায়। প্রথম চাঁদের স্থায়িত্বকাল খুবই কম সময় হওয়ায় ঈদের চাঁদ দেখার ভাগ্য সহজে হয় না সবার। তবু, তা নিয়ে আক্ষেপ জাগেনা মনে। কারণ দেশের কোথাও চাঁদ দেখার খবরটি মোটেও কম খুশির লাগতো না। এদেশে তখনও এমন সৌদিভক্ত এলাকা গড়ে ওঠেনি বলে ঈদের চাঁদ ওঠার খবর টিভিতে শোনামাত্র ছড়িয়ে পড়তো খুশির আমেজ সবার মনে। ধনী-গরীব ভেদাভেদ ঘুচানো মসজিদে ঈদের নামাজ শেষের কোলাকুলি ঈদের একটি দিনের দৃশ্যাবদ্ধ দারুণ দৃশ্য লাগতো।

মনের কালিমা ঘোচানো সহজ না জেনেও মন ঈদের একটি দিনের আনন্দালোকে আলোকিত হবার মতোন সে এক ঈদ আসতো সেকালে এদেশে। এখন আসে না আর। এখন কেবলই সে এক ক্ষণিকের চাঁদের রূপালি ঝিলিক লয়ে আকাশে উঠলেও সবার মনে খুশির আলোর ঝিলিক ছড়ায় না। সে এক অসম খুশির বার্তা প্রকাশ করে বলেই আজকাল এদেশে ঈদ মানেই দুই রকমভাবে ভিনদেশি প্রথার প্রবর্তনের খবর। শিশুমনে সে এক প্রশ্নবোধক জিজ্ঞাসা আনে। আমার বিষয়টি বিষম অদ্ভুতুড়ে লাগে ও ভাবনাতাড়িত করে। কেমন মেকি একটা আনন্দবারতা সে। ঈদের নির্মল খুশির দৃশ্যপট এখন আর দেখি না। এমন কি এমন সিয়াম সাধনের মাসেও খুনোখুনির খবরে খুশির বদলে হৃদিতলে মাতম ওঠে। চরম নীতিহীনতার রাজনীতির খেল দেখতে-দেখতে জগতে অসহায় জনগণের দল তবুও কি যেন আশায় আবারও হৃদয় বাঁধে। ঈদের প্রকৃত খুশির বদলে নির্মমতার শিকার জনগণ। অবোধ শিশুও পায় না ছাড়। কেবল বাংলাদেশ না, পৃথিবী জুড়েই এমন মমতাহীনতার খবর এখন কাঁদায় হৃদয়। ক্ষমতাবান নির্মম খেলারামগণ খেলেন আর আমরা জনগণ দেখতে থাকি। না দেখে উপায় কি ! চারপাশেই মহাব্যস্ত মিডিয়া জগত। যতই ‘মন্দ দেখবো না, শুনবো না, বলবো না’ – ভাবতে পারি – ভাবের সনে মেলেনা মোটে চরম বাস্তবতা।

তবুও ঈদের চাঁদ সে মেঘলাকাশেও জখমিত বাঁকানো রূপালি ঝিলিক জাগিয়ে ওঠে। হৃদয় জাগাতে হৃদয়ে বার্তা পাঠায় ঈদের প্রথম চাঁদ –

‘দেখোগো আমিতো আগের মতোন রূপালি
সেই চাঁদের হাসিটি লয়ে জাগাতে এসেছি !
সেই প্রথমোল্লাস ভুলেছো জানি তোমরা জগতবাসি
তবুও চাঁদোয়াতলে জেনো আছে কিছু ভালোবাসাবাসি।’

নীলাকাশে  একফালি  সে  রূপালি  চাঁদের  হাসি

১৭-ই জুলাই। ২০১৫ সাল।
ঢাকা। বাংলাদেশ।