ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 
পাতাবাহার  টবে  দারুণ  মানায়  ব্যালকনির  কোণে বরষা  মওসুমে  বাগানে  টবে  লাগানো  যায়  ফুল  ও  পাতাবাহারের  হরেক  চারা।।

আমার বাবার বাগানে বহুবিধ ফুল ও পাতাবাহারের দারুণ সমাহার সবার নজর কাড়তো খুব। আমার মায়েরও বাগানপ্রীতি ছিলো। আমিও হয়তো তাঁদের কাছ হতেই পেয়েছি খানিক শখের বাগান করবার খায়েশ। প্রথম ঢাকায় এসে কলাবাগান বশিরউদ্দিন রোডের একটা ভাড়া বাড়ির টানা চিলতে ব্যালকনিতে লাগিয়েছিলাম কিছু পাতাবাহার, মানিপ্লান্ট, হরেক মওসুমী ফুলের চারা। তখন ভরা বরষা। বাড়ির সামনে একহাঁটু জলের স্রোতে আটকে পড়া মানুষ, রিক্সা, ঠ্যালার ভিড়ে নিজেও বহুবার নাকাল দশায় পড়েছি। তবু, কোথাও বৃক্ষমেলার খবর পেলে যেতাম রিক্সা করেই। বেছে-বেছে অনেক চারা কিনেছি। যত্নআত্তি বিশেষ দরকার হয়না বরষায়। অঝোর ধারাজলে ব্যালকনির চারাগাছগুলো তরতরিয়ে বেড়ে উঠতো। চোখ-মন জুড়ানো সবুজাভা সে এক। বাড়ির সামনে একহাঁটু জলডোবার ভোগান্তি হাওয়া হতো ওতেই।

সামান্য সুখেই মন তখন সুখী দারুণ। কবিগুরুর কবিতাখানি মন দুলিয়ে দিতো বরষাজলে – “জল পড়ে পাতা নড়ে”-র ছন্দে বুঝি বা। আপনা হতেই কাব্যদেবী –

“হৃদয় আমার নাচেরে” /

“মন মোর মেঘের সঙ্গীত”
হয়ে বাজাতো এসে হৃদয়। চিলতে ব্যালকনিতে ভেজা সবুজ পল্লবিত সবুজ ডালপালারা সবুজাভায় হেসে উঠতো। দুই / চারিটা লাইন লেখাও হতো আপনা হতে মনের খোরোখাতার পাতায়। লোকজন সাধে কি আর বলে – “এদেশে কাকের চেয়ে কবির সংখ্যা অধিক” ! লোকজন এদেশে এমনই আদতে। অযথাই সমালোচনাপ্রিয় / দোষারোপপ্রিয়। তাতে কি কবিরা না লিখে বসে থাকবে? কবিতা লিখে তো আর পেটের ভাত জোটে না জানি। তবুও কবিতাপ্রিয় মানুষ বরষা এলেই একটু অধিক কবিতাময় হয়-ই। এদেশে এ সত্য সবার বেলাতেই একটা বয়সের স্বভাবজাত স্বভাব হিসেবে দোষের না তেমন। বিদেশে কি হয় এমনই ! আমার মন বলছে – হয়। না যদি হয়, সেওতো দোষের না। এমন বরষাবিধুর কাল সকল দেশেই ফলজ বলে জেনেছি।
জলধারা গাছের ফলন বাড়ায়। অতি বরষা জলে যদিও বন্যা ভাসিয়ে নেয় ফসল, ঘরদোর – তবুও বর্ষাকালে কবিরা কবিতা লিখতে ভালোবাসে। বৃক্ষপ্রিয়রা গাছ লাগাতে ভালোবাসে।

আজকাল আমার ভালো লাগার অনেক দিয়েছি জলাঞ্জলি। কারণ, এনার্জিহীন এখন আমি। তবুও বরষার বাগান ভালোবাসি। কারও বাগানের খায়েশ, শ্রমে দারুণ সবুজ বাগানভর্তি  বৃক্ষ টবে কি ব্যালকনির কোণায় সবুজাভাময় দ্যূতি ছড়ানো – জড়ানো দেখতে মন জুড়ায়। চোখও জুড়ায়। ভরা বরষা মওসুম এখন। শ্রাবণে লাগানো চারা তেমন জল ঢালার প্রয়োজন পড়েনা। বৃক্ষপ্রিয় মানুষ এমন মওসুমেই লাগাতে পারেন প্রিয় গাছের চারা টবে কি ব্যালকনিতে, বাগানে। এই ভেবেই আমার এ লেখা।

(*ছবি দুইটি অনলাইন লিংক এ সংগৃহিত।*)

শ্রাবণ। ১৪২২ বঙ্গাব্দ।
ঢাকা। বাঙলাদেশ।