ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব

 

 

সদ্যপ্রয়াত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম জগতে একজন সফল অনুকরণীয় মানুষ হিসেবে উদাহরণযোগ্য ব্যক্তিত্ব বলতে পারি। গরীব পরিবারে জন্মেছিলেন। অথচ, নিজের মেধার জোরে কেবল রাষ্ট্রপতি না, সফল বিজ্ঞানীও হয়েছিলেন। ছিলেন অসাধারণ বক্তা। যখন যেখানে যা বলেছেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়েই শুনেছে মানুষ। তিনি নিজের জীবন হতেই তাঁর অভিজ্ঞতার সারগর্ভ যা কিছু শিখেছেন তারই সফলতার উদাহরণযোগ্য বক্তব্য দিতেন। জীবনের শেষের দিনটিতেও তেমনি করে গেলেন চলে হঠাৎ বক্তৃতার মাঝেই চুরাশি বছর বয়সের সহজ জীবনযাপনপ্রিয় মানুষটি। মেঘালয়ের শিলং শহরে বেসরকারি বেথানি হাসপাতালের সকল প্রয়াস বিফল করে অচিনপুরে পাড়ি দিলেন। শিলং এ একটি অনুষ্ঠানে প্রধান হিসেবে বক্তৃতা কালেই বুকে ব্যাথার জন্য আয়োজকরা দ্রুত বেথানি হাসপাতালে নিলেও চলেই গেলেন তিনি। ভারতে তিনি বিষম জনপ্রিয় ছিলেন। বক্তা হিসেবে তরুণদের প্রাণিত করে গেছেন সারাটি জীবন। তাঁর জীবনে তিনি শিশু বয়সে পরিবারকে সাহায্য করতে নিয়েছিলেন কাগজ বিক্রেতার কাজও। এভাবেই এগিয়ে গেছেন নিজের লেখাপড়ার খরচ নিজেই যুগিয়ে। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন এভাবে একদিন। অতঃপর ‘এ্যারোস্পেস’ বিষয়ে পড়াশোনা করেন। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের নকশা বানিয়েছেন। তখন প্রবাদপ্রতীম বিজ্ঞানী সারাভাই-র নজর কাড়েন তিনি। আবুল কালাম কে নিয়োগ দেয়া তখন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য বিজ্ঞান উপদেষ্টার পদে। ‘ডিআরডিও’র সেক্রটারির দায়িত্বভার সামলিয়েছেন। সফল পরমাণু পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সফলতার নায়ক হন ভারতে। ১৯৯৭ সালে ভারতরত্ন পুরষ্কারে ভূষিত হন। ২০০২ সালে ভারতে আবদুল কালাম একাদশ রাষ্ট্রপতির আসনে বসেন। তাঁর সফলতার জীবনাচার উদাহরণ আজ জগতে।

তাঁর স্মরণযোগ্য উক্তি রয়েছে বহু। সেসব আজকের তরুণদের প্রাণিত করবে বলে আমার প্রিয় উনার মাত্র চারটি উক্তি লেখায় যুক্ত করছি তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর বিনম্র সশ্রদ্ধ সালাম জানিয়ে –

১। জীবন এক কঠিন খেলা। এই খেলায় জয় তখনই সম্ভব , যখন তুমি ব্যক্তি হিসেবে জন্মগত অধিকারকে ধারণ করবে।

২। জীবনে সমস্যার প্রয়োজন আছে। সমস্যা আছে বলেই সাফল্যের এত স্বাদ।

৩। স্বপ্ন সত্যি হবার আগেই তোমাকে স্বপ্ন দেখতে হবে।

৪। আকাশের দিকে তাকাও। আমরা একা নই। পুরো মহাবিশ্ব আমাদের প্রতি বন্ধুসুলভ। এবঙ এই মহাবিশ্ব তাকেই অকাতরে দিতে প্রস্তুত – যে স্বপ্ন দেখে ও কাজ করে।

এমন একজন আবদুল কালাম জগতে বিরলপ্রজদের অন্যতম হিসেবে ঠাঁই পাবেন। তাঁর বিদেহী আত্মা অচিনপুরে চিরশান্তিতে ঘুমোক। শেষ সালাম তাঁকে। বাংলাদেশের লিখিয়েদের একজন হিসেবে এই লেখাটি উৎসর্গিত করছি তাঁরই স্মরণে।

শ্রাবণ। ১৪২২ বঙ্গাব্দ।
ঢাকা। বাংলাদেশ।