ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

মাঝেমাঝে জোছনা রাতে নিঝুম ছাতে একলা চাঁদোয়ায় দাঁড়িয়ে ম্লান আলোয় ভেসে যাওয়া বাড়ি ও ছায়ার খেলা দেখতে মন খারাপ করা সকল বার্তা কেমন ভুলে থাকার মায়াবী প্রহর আসে। যেন বা এ জগতে কোনও মন্দ কোথাও নেই। যেন বা আলো রঙের কোনও কবিতাময়ী কেউ আমায় ভাসাতে এসেছে। এপারের একলা ম্লানমুখী নদীটি আজ ওপারে যাবে আলোর ডিঙি ভাসিয়ে। এমনই একটা স্বপ্ন আমার মাঝে লুকিয়ে থাকা কবিতা হতে বুঝি বা হঠাৎ পাওয়া চাঁদ হয়েছে। তার জোছনা আমি কোথায় রাখি ! পাইনা ভেবে। তাইতো তারে ছড়িয়ে দিতে সবার মাঝে লিখতে বসা আমার। লেখা ছাড়াতো পারিও না তেমন কিছু। মন-ই আমার চালিকাশক্তি। মনের অধিক স্বপ্নবান কবিতা লিখতে জোছনা রাতে নিজেই ভাসি অজানা কোনও ভাবনালোকে। এই আমার এক স্বভাবদোষ। তাই কেবল বসে থাকার জেগে থাকার একা থাকার নির্জনতার নিঝুমপুরে স্বপ্নে ভাসাই ডিঙি। গভীর নীলাকাশতলে তারার ভাষা জোছনা ভাষা জোনাক ভাষা খুঁজতে গিয়ে আমার আমি একলা হই।

একদা এদেশে জোছনা রাতে জোনাকি উড়তো সবুজ আলোমাখা কবিতা হয়ে। তখন ঝোপালো বনের ধারে জগতলোকে যেন কোথাও কারও লুকানো ভাব দুঃখহীন ভাষায় লিখছে চিঠি আমায় – এমনই লাগতো। আজ হারিয়ে গেছে সবুজাভার জোনাকিরা। কোথাও আর খুঁজেও পাওয়া যায়না একটা জোনাকি। কেবল জোছনা আসে গ্রহের নিয়মে। জোছনাপ্রিয় কেউ-কেউ হয়তো কবিতা লিখতে বসে। হয়তো তাই জোছনা রাতগুলি কবিতাময়ী লাগে। হৃদয় জাগে। হৃদয় ডাকে। উধাও হই জোছনা রঙ রাতের মাঝে। একলা ভাসমান কোনও ভাবের আতিশয্য তখন চিত্রকল্প বানায় জীবনে যা নেই তারে। সে হয় মাঝিহীন স্বপ্নের ডিঙি। সে খুব ভাসায় নিঝুম অই দাঁড়িয়ে থাকা একলা স্বপ্নলোকের ভাবের ছবি। আমার মন বলছে – ছবি হয়তো কেবলই ছবি না। সে হয়তো ছবির অধিক আলোক বার্তা কোনও। সে হয়তো আকাশপানা স্বপ্নবাড়ি সবার মনে ছড়িয়ে দিতে এসেছে আজ জোছনাময়ী। অথচ আমি কি আর তেমন পারি? যেমন পারে কবিতা কিংবা গানের মানুষ? আমিতো এক একলা বয়স আগলে বসে থাকার ভেসে যাবার স্বপ্ন দেখার বেকার মানুষ। তাই লিখতে বসে হঠাৎ পাওয়া ভাবনা লিখি ! জোছনা রাতে নিঝুম ছাতে ভাবতে থাকি এদেশে আবারও জোছনাপাশে জোনাকিরা এসেছে ফিরে। আবার সবুজাভায় জ্বলবে ঘরবাড়ি। জাগবে হৃদি। জাগবে নদী ও মানুষ। মন্দ বলতে কিছুই রবেনা আর এদেশে। বিশ্ব অবাক চেয়েচেয়ে দেখবে জোছনাময়ী জোনাকজ্বলা অপরূপা বাংলাদেশ। জানি, ভাবাই সার ! লেখাই সার ! কি হয় লিখে জানিনা। জানতে চাইনা। শুধু চাই যে আমাদের জোছনালোক আমাদের জোনাক রাতগুলো বাঁচুক ছবির ভিতর। বাঁচুক স্বপ্নবান ভাবের সনে শাদাটে চাঁদমাখা নিঝুম রাতের ভাবনা কবিতার ভিতর। লেখার ভিতর। তারাময় কোনও এক এমন ক্ষণ তাহাকে দেখুক নতুন করে। নতুন কবি কবিতা উতসর্গ করুক তাহারেই। নিদেন একটি কবিতা লিখুক নিজের তরে। অথবা আর কারও তরে। কোনও শিল্পী অাঁকুক আলো রঙের ছবি অধিক হৃদয়ভেদী আরও। সে কি আমার অধিক চাওয়া হলো?

জোছনামাখা  রাতের  গানের  ভাষা  হতেই  পারে  সে  হঠাৎ

শ্রাবণ। ১৪২২ বঙ্গাব্দ।
ঢাকা। বাংলাদেশ।