ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

আজ আবার এই লেখার সনে বর্তমানের ভাগাড়টির উন্নতিচিত্র না দিলে অন্যায় হয় বলেই দিচ্ছি … জানিনা, মেয়রদের নজরে পড়েই কি না ! তবুও আজ ভাগাড়টিকে বর্জ্যশূণ্য দেখতে পেয়ে দারুণ ভালো লাগলো। রোজ ফজরে ময়লার ট্রাকের বহরে করেই যাবতীয় ময়লা সরিয়ে ফেলায় বর্জ্যশূণ্য গুলশানের এই ভাগাড় আজ। লোকজনও খুশি এতেই। যদিও ঢাকনাঅলা ডাস্টবিনের চাহিদা রয়ে গেলোই … তথাপি বলতে হয় ভালোই হলো কিছুটা স্বস্তিকর – যেন বা মন্দের ভালো।

গুলশানের  সেই  ভাগাড়  বর্জশূণ্য  আজ।।

ক্যাপশন: সিটি  কর্পোরেশনের  ট্রাকে  ময়লা  যেভাবে  ওঠানো  হয়

দিনের  আবর্জনামুক্ত  করেছে  সিটি  কর্পোরেশনের  ট্রাক !!!

ক্যাপশন: দিনের  আবর্জনামুক্ত  করেছে  সিটি  কর্পোরেশনের  ট্রাক!

গতকাল পথচলতি রাজধানির একটা পশ এরিয়া খ্যাত সড়কে আবর্জনার ভাগাড় দেখে করেছিলাম ক্লিক আমার মোবাইলে – রাজধানীর অন্যতম সড়ক জুড়ে ভাগাড়। এবঙ পোস্ট দিয়েছিলাম ফটো হিসেবে। সেই কারণে কিনা কে জানে – আজ আবার সেই পথেই অতিক্রমণ করার কালে নজরে এলো – দুইটা ট্রাকে ময়লা ওঠানোর অসহ্যরকম দৃশ্য। লোকজনের পথ পার না হয়ে উপায় আছে? সে এক অত্যাচার আর কি – মানুষের সহ্যশক্তির উপর। প্রবল বমনেচ্ছা গুলিয়ে ওঠা সয়েই পার হওয়া কোনওরকমে পাশ কাটিয়ে। সিটি কর্পোরেশনাধিন ময়লার ট্রাকের উপর ঢাকনা দেয়া যায় না? সে কি কঠিন সাধ্যাতীত বিষয়?

সিটি কর্পোরেশনাধীন এলাকাবাসিকে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ময়লা ফেলার পরামর্শ প্রচুর দেওয়া রয়েছে বিজ্ঞাপনে, লিফটলেটে, বিলবোর্ডে। রোজই তা দেখে মানুষ। মানুষরা মানুক অথবা না মানুক, সিটিমেয়র তাঁর আওতাধীন কর্পোরেশনের সকল কর্মচারীদের মানতে বাধ্যগত থাকার কড়া নির্দেশের সঙ্গে রাজধানীর সকল এলাকা সদিচ্ছা থাকলে সুন্দর বিশাল ডাস্টবিন ঢাকনাঅলা করে দেওয়া কঠিন কোনও বিষয় না। এবঙ ময়লা বহনকারি সকল ট্রাকে ঢাকনা দেবার কাজও কঠিন না। তাহলে? সমস্যাটা প্রকট কেন? জনদরদি মেয়র এবঙ অধীনস্থ কর্মচারীরা সদিচ্ছা সমেত জনস্বাস্থ্যকর পরিবেশটি কেন জনগণকে দিতে চরম ব্যর্থ হবেন? এই কাজটি অসাধ্য একটি কাজ – এমন অজুহাত মানবে কেন মানুষ? মানা যায় কি?

যাহোক, আরও আশ্চর্য হবার ছবি তুলেছি ফেরার পথেও। ময়লার দুইটি ট্রাক তখন আবর্জনা তোলার কাজ টোটালি কমপ্লিট করেছে আজকের মতোন ! মহা-আশ্চর্যকর বিষয় এই যে – কমপ্লিট কাজের নমুনা এমন হলে যে কাজ কমপ্লিট হয়নি সেটি কেমন হবে ! আমার তোলা নমুনা ছবিটি এখানে জুড়ে দিলাম তা-ই। জানি না, নব-নির্বাচিত মেয়র মহোদয়ের নজরে পড়বে কি না … উনি কি উনার বিশাল কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরে সময় পান অনলাইন-বিডিনিউজ পত্রিকা ও ব্লগে কী ছবি,  কোন খবর, সর্বশেষ কী কথা প্রকাশিত? বিশেষতঃ যে খবরে প্রকাশ পায় নাগরিকের ভোগান্তির প্রমাণ?

সবশেষে বলি যে , বাংলাদেশের আশপাশের দেশগুলি ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া যদি তাদের গোটা দেশকে আবর্জনামুক্ত রাখার আধুনিক উপায়ে পরিচ্ছন্নতার উদাহরণযোগ্য হয় তাহলে বাংলাদেশ হবে না কেন? ক্ষমতাসীন সরকার যেভাবে অগ্রসরমান বাংলাদেশ বলছেন – সেভাবে সত্যচিত্র বলে কি? খোদ রাজধানির পশ এরিয়ার যদি এমন আবর্জনার নমুনা হয়, তাহলে সারা দেশের চিত্র কেমন হতে পারে তা আঁতকে ওঠার মতোন খবর – সন্দেহ কি! কঠিন দুর্বিষহ একটি অবস্থা আদতে আমাদের। তখন কি আর কবিগুরুর – “কঠিনেরে ভালোবাসিলাম” – কিছুতে বলা যায় ! যায় না। তা সে যতই প্রিয় বাংলাদেশ হোক – ময়লা-আবর্জনার সে এক পুঁতিগন্ধময় বাংলাদেশের ছবিটি দেখে –

“আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি” –

সাধের গানটিও গাইতে মন ভালোবাসে না মোটে। এদেশ কবে যে আবর্জনামুক্ত বাংলাদেশ হবে – থাইল্যান্ড কি মালয়েশিয়া কি সিঙ্গাপুরের মতোন ঝকঝকে … এ যেন স্বপ্ন … নাগরিকের এক জীবনে দেখা হবে না। আশা মরিচিকার মতোন তবুও স্বপ্ন … বাংলাদেশ একদিন হবেই আবর্জনামুক্ত … দারুণ পরিচ্ছন্নতার উপমা। স্বপ্নহীন মানুষ কিছুই পারে না। স্বপ্নবান মানুষ দেশকে সফলতার দিকে পরিচালিত করে। সফলতার দিকে পরিচালিত হোক বাংলাদেশ … আগস্টের চাওয়া হিসেবে বিশাল চাওয়া কি? পাঠকরাই পারেন বলতে – আমি আমার চাওয়া লিখেছি। একজন লিখিয়ে নাগরিকের চাওয়া।

আগস্ট। ২০১৫ সাল।
ঢাকা। বাংলাদেশ।