ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

আরাফাতের ময়দানে মুসলমানের কাফেলা আজ হজ্বের মুনাজাত করেছে। কাল মিনাতে দুম্বা কুরবাণীর মধ্য দিয়েই শেষ একটি বছরের হজ্বের পর্ব। এবার দুঃখজনক দুর্ঘটনায় অনেক হাজী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। বাংলাদেশীও রয়েছেন তাঁদের মাঝে। গভীর মর্মাহত আমরা। আগামীকাল ৯-ই জিলহজ্ব কয়েক লক্ষ মুসলমান (২০ লক্ষ প্রায়) মিনায় শয়তানকে সাতটি পাথর ছুঁড়ে মারার পর সবাই কুরবাণী দিবেন। পরশু বাংলাদেশে কুরবাণী পালিত হবে।

কুরবাণীর ঈদ ত্যাগের ঈদ। ঈদুল-ফিতরে যেমন উৎসব মুখর বিপনীগুলো কেনা-বেচায় ব্যতিব্যস্ত সময় কাটায়, ঈদুল আজহা তেমন নয়। যদিও আজকাল এদেশে উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্তদের কেনাকাটার ধুম ঈদুল-ফিতরের মতোই প্রায়। ঈদুল আজহাতেও দেখতে পাই মানুষ কেনাকাটা করছে , কোনও কমতি নেই। একেলে এটি নিয়মে পরিণত। নিম্নবিত্তদের তো প্রশ্নই আসে না কোনও কেনাকাটার। ওদের ঈদুল-ফিতর / ঈদুল আজহা নেই। ভিখারীদের দিন-রাত সমান। কারও দয়ায় কিছু জুটলে অন্নের যোগান হয়। নচেৎ উপোস থাকতে হয়। তো, যারা স্বচ্ছল এদেশে তারা কেমন ধর্মের নিয়ম মেনে চলেন? প্রশ্নটি আসে। কারণ, এক একটি ঈদে এদেশে স্বচ্ছল পরিবারের মাত্রাছাড়া কেনাকাটার ধুম দেখলে হতবাক হতেই হয়। ব্যয়বহুল সে এক প্রতিযোগীতা যেন। সেকালে এতটা ছিলো না। ধর্মভীরু সেকেলে মুসলমান সমাজে ধর্মীয় নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা এখনকার চেয়ে অধিক ছিলো। এখনকার মতো জাহির করে যাকাত দেবার / কুরবাণীর প্রতিযোগীতা ছিলো না। মুসলমানের দান-খয়রাতের খবর হবার প্রবণতা ছিলো না। শয়তান মনের মাঝারে এখনকার মতো ব্যাপক আকারে ছিলো না। বড় শয়তান তো আসলে মনের শয়তান। সে যদি উস্কানিরত প্রতিনিয়ত পথে এবঙ মনে – মানুষ বিপথগামী হবেই।

আমাদের সময়ে আমরা তো ঈদুল-ফিতরে পোশাক কিনতাম, জুতোও কিনতাম। ঈদুল- আজহাতে কিনতাম না কিছুই। কেবল কুরবাণী। আমরা জেনেছি ঈদুল – আজহা ত্যাগের ঈদ। কুরবাণীর পশু কুরবাণীর পর মিসকিনের ভাগ, স্বজনদের ভাগ দিয়েই নিজের ভাগেরটুকু রান্না করতে হয়। সারাবছর যারা গোশত কিনতে পারেন তারা কুরবাণীর গোশত কি যুক্তিতে ডিপ-ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে চান? এমন নাদান মুসলমানদের ধর্ম কেমন? আজকের জিহাদী জিগির ওঠানো মুসলমান তো অন্যায়ের চরম করছেন জগত জুড়ে। অমুসলমানের কি দোষ তাতে?

তবুও, আজকের তরুণদের ‘পরে অনেক আশা-ভরসা আমার। আশাবাদী মানুষ আমি। এদেশে তরুণরা মেধাবী। তারা মেধার চোখ দিয়েই ধর্ম বিষয়ে বাড়াবাড়ি দেখার চোখ রাঙানি দেখবে না, দেখবে ধর্মের মহতি দিক-নির্দেশনা, সঠিক চর্চা-র আলোকপথ – এ আমার আশার আলোকবাতি বলেই বিশ্বাস হৃদয়ে। একদিন এদেশে ধর্মের বাড়াবাড়ির অবসান ঘটবে। আগামীর শিশুরা হবে হৃদয়বান-বিবেকবান মানুষ।

আজ আমার উপরঅলার কাছে কুরবাণীর প্রার্থনা এইটুকুই।

৮-ই অাশ্বিন। ১৪২২ বঙ্গাব্দ।।
৮-ই জিলহজ্ব। ১৪৩৬ হিজরী।।

ঢাকা। বাংলাদেশ।