ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

আমরা সারা বছর জাম্বুরা বাজারে পাই। দেশজ ফল হিসেবে জাম্বুরা দারুণ খেতে। ভিটামান সি এবঙ এন্টি অক্সিডেন্ট এর একটি অন্যতম প্রধান ফল হিসেবে সমাদৃত এদেশে জাম্বুরা। খোসাটি ছাড়ালে রসালো আভাময় গোলাপ রঙের লম্বাটে নরম দানাদার জাম্বুরা দেখতে চোখ জুড়ানো সুন্দর। কিছুই না মিশিয়ে খাওয়া ভালো। সকাল, দুপুর, বিকেল যে কোনও বেলায় জাম্বুরা খাওয়া যায়। অনেকে জাম্বুরায় একটু বিট লবণ, গোলমরিচগুঁড়ো, ধনেপাতা ও সরিষার তেল মাখিয়ে খেতে ভালোবাসেন। যে ভাবেই খাওয়া হোক তাতেই শরীরে রোগপ্রতিষেধক ক্ষমতা বাড়ায়। তাহলে রোজ একটি জাম্বুরা পরিবারের সবাই মিলেই কেন খাওয়া নয়? দামও নাগালের বাইরে নয়। আপেল, কমলার চাইতে কম দামেই জাম্বুরা পাওয়া যায় বাজারে। জাম্বুরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক একটি ফল। ছেলেমেয়েদেরকে জাম্বুরা খাবার অভ্যেস করালে অল্প বয়সে ডায়াবেটিসের শিকার হবার প্রবণতাটি কমে আসার সম্ভাবনা বাড়বে। ডায়টবেটিস এখন সব দেশেই ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড সুগার, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবনভর মেডিসিনের জীবন এখন মানুষের। অথচ, সচেতন থাকলে ফলাহারে রোগের ঝুঁকি কমতে পারে। দেশজ জাম্বুরা ফলটি ব্লাড সুগার, ব্লাড প্রেসার দুই রোগেই বেশ ফলদায়ক, নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক একটি ফল।

লেখায় খোসা ছাড়িয়ে জাম্বুরার ছবিটি নিজেই তুলেছি মোবাইলে। কারণ, আমি রোজই জাম্বুরা রাখতে ভালোবাসি টেবিলে। বাড়ির কাছের আগোরাতে প্রায়ই যাই। তখন জাম্বুরা আমার কেনা চাই-ই। জাম্বুরার কথায় মনে আসছে – আমার ছেলেবেলার স্মৃতি। বাবার বাড়ির পাশের বাড়িতেই একটি জাম্বুরা গাছে প্রচুর জাম্বুরা ঝুলতো। বাড়ির দেয়াল সংলগ্ন বলেই জাম্বুরাভরতি গাছের ডাল পড়তো প্রায় এলিয়ে আমাদের হাতের নাগালের ভিতর। লোভ সামলানোটা কঠিন তখন। সঙ্গী ছিলেন মরিয়ম ফুপু ও বন্ধুখালা, আমাদের মাথায় বুদ্ধির যোগানদাতা “জিয়া চাচা” (বাবার মামাতো ভাই, কবি বেলাল চৌধুরীর ছোটভাই) দিতেন পরামর্শ , আমরা পরামর্শ মতোন না পারার কারণে নিজেই তখন একটি লম্বা বাঁশের লাঠির আগায় বাঁধতেন বাঁকানো লোহার অাঁকশি, তারপর যখন কেউ কোথাও নেই এমন সন্ধে ঘনালে সাবধানে একটি জাম্বুরাতে অাঁকশি গেঁথে হেঁচকা টানে খসিয়ে আনতেন দারুণ হলদেটে সবুজ জাম্বুরা ! আমরা আত্মহারা ! মা জানলে মহা-বকুনি খেতাম সবাই। জিয়াচাচা হাওয়া হয়ে যেতেন বকা খাবার ভয়ে। অনেক রাতে বাড়িতে ফিরে টেবিলে ঢাকা পেতেন ভাত-তরকারী। মায়ের এমনই স্বভাব ছিলো। কিছুই না বলেও কেমন লেসন দিতেন অন্য রকম। পরদিন জিয়াচাচা-ই মাফ চাইতে থাকতেন মায়ের কাছে – “ও ভাবী, ছেলেমেয়েদের এমন শেখাবো না জীবনে আর, আমারে মাফ করেন” – মা তখন কি আর করেন – বলতে বাধ্য হতেন – “যাও এবারকার মতোন তোমার মাফ।” নইলে জিয়াচাচা পা ধরে রাখতেন মায়ের ! ছেলেবেলার মধুরতম স্মৃতির ভিতর জাম্বুরা জড়িত স্মৃতি বলেই এটি লিখতে গিয়ে হাসির সনে বেদনাজলও রইলো মিশে।

৩০-শে সেপ্টেম্বর। ২০১৫ সাল।
ঢাকা বাংলাদেশ।