ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

 

ও আমি একদিনও না দেখলাম তারে … বলে যে লালনসাঁই নিজেই সেই না দেখা পড়শির মতোন সুরজালে বাঁধেন হাজার হৃদয় সেই অসীম সহজিয়া সুরের আবাহন আজও আমাদের ভাবায় বড়ো। এমন একজন সাধক সাঁইজী লালন সহজিয়া অথচ আধ্যাত্মিক অসীম সুর সাধনা রেখে গেছেন যার জগত জোড়া ভক্ত এখন লালন গবেষণায় মেতে বেড়ায় খুঁজে তারেই। তেমন কোনও প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নাই লালন সাঁইয়ের। আপন হতে আপনি চারিয়ে যাওয়া গভীরের শিকড়সম শক্তি হৃদয় হতে উৎসারিত তাঁর। নিজের ভাবকে ভজনালয় না বানিয়ে বানিয়েছেন সাধনালব্ধ সহজ কথা ও সুরের লীলাধাম। সেটিই আজ লালন সাঁই-র আখড়া, কুষ্টিয়ার ছেঁউরিয়ায়। একশো পঁচিশতম তিরোধানোত্তোর বছরে সেথায় ভক্তদের মেলায় লালনের হাজার গীতসমৃদ্ধ আসরে দেশ, বিদেশ হতে হয়তো এসেছেন এবার বহু লালনভক্ত। প্রতি বছর বহু গবেষক ও সাধারণ ভক্ত সেথায় রাতদিন খোল-করতালের গীতবাদ্যে লালনগীতি শোনেন, সেথায় আস্তানা গাড়েন দিন কয়েক। খাওয়া-দাওয়াও আখড়াতেই মেলে।

আমার বড়ো সাধ যে একবার বাড়ির পাশের
পড়শি লালনের আখড়া দেখি … অথচ আজও হয়নি দেখা। কি করে হবে ! হৃদয় বলে – দেখাই যদি হবে তো – তবে – “ও আমি একদিনও না দেখলাম তারে”- ফুরায়ে যাবে বলেই তারে না দেখা ভালো। হয়তো হৃদয়ের কথাই ঠিক। এই যে একদিনও না দেখা পড়শির মতোন অসীম লালনসাঁই … সেই লালন ছড়িয়ে আছেন আমাদের গভীরতম শিকড়ের মতোন। শত সুরজালের সে এক আশ্চর্য অসীমতায়। তারে না দেখে তার গানের সহজিয়া ভাষায় সুরের অপরিসীম লীলাভুমে নিজেকে হারিয়ে খোঁজার মতোন লালন আজ অনেক বড় ভাবের, চর্চার বিষয় বটে ! বিশাল সে এক অনুভবের দোলা … যেন বা সর্বস্ব দিয়েই ঐশ্বরিক ভালোবাসার দিকে ধাবিত … এমনই লালনসাঁই। জীবনভর বাড়ির পাশের পড়শির মতোন – ” সে আর লালন এক ঘরেতে রয় / তবু লক্ষ যোজন থাকে / ও আমি একদিনও না দেখলাম তারে” ! এমনতর হাজার গানের স্রষ্টা সাধক ফকির লালনসাঁই। ভক্ত, শিষ্যরা ভালোবেসেই “সাঁইজী” ডাকতো।

মৃত্যুদিনে নিজের প্রিয় একটি গান শুনতে-শুনতেই পরম প্রশান্তিতে বরণ করেন মরণ। একশো পঁচিশতম তিরোধান দিনের স্মরণে আজিকে তাঁকে জানাই হৃদয়জ গভীর প্রণতি।

৩০-শে অাশ্বিন। ১৪২২ বঙ্গাব্দ।
ঢাকা। বাংলাদেশ।