ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 
একলা একটি জানলাতলে সব্জিবাটির কর্ণার।।

মাঝেমাঝে একলা থাকার দুপুর আসে। তখন যা পাই হাতের কাছে তা দিয়ে সব্জি বানাই। রাখি টেবিল কর্ণারে সাজিয়ে। আজ আমার তেমনই দুপুর। তাই বানিয়ে ফেলেছি বেগুন-কাচকলা-কুমড়ো-আলুর দারুণ ঘ্যাট-সব্জি। পরোটা / রুটি / লুচির সনে সকালে / দুপুরে / বিকেলে খেতে ভালোই লাগে। পেটও ভরে। সহজ রান্না। চটজলদি খাওয়াপর্ব সারাটি কঠিন না। বাটির ‘পরে একটু ধনেপাতাকুচি, কাঁচামরিচকুচি সাজিয়ে নিলেই ক্লিক করার জন্য যেন সে রেডি।

আদতে রান্নাবান্না সে এক শিল্পসম বিষয় বটে। সে হোক ডাল-ভাত অথবা জল-ভাত অথবা শাক-ভাত অথবা অন্য কোনও ডেলিশাস নাশতা অথবা ফলের সমাহার … খাবার মজাদার লাগতে পারে তেমন সাজিয়ে পরিবেশন করলেই। হয়তো তত মজার রান্না হয়নি মোটে তবুও অই সাজিয়ে পরিবেশন করার কারণেই সে হয় হৃদয়হরণ পদ। একদা রান্না টেবিল ভরে না দিলে মন ওঠেনি শ্বশুরকুলের মানুষের। এখন বুড়ো বেলায় দুই একটা পদ রেঁধেই সারি খাওয়াপর্ব। অতিথি এলে তখন কষ্ট হলেও আনন্দচিত্তে অনেক পদ রাঁধতে চাই … পারি না ঠিক আগের মতো। হাঁপিয়ে উঠি। তাছাড়া রোগশোক রয়েছে। ভুরিভোজন করলে মহা বিপদ আছে। সুগাার বেড়ে যাওয়া / কমে যাওয়া / ব্লাডপ্রেসার হাই / লো হয়ে যাওয়া জনিত বহুবিধ বিপদ পদেপদে রয়েছে। বুঝেশুনে খাওয়াপর্ব সারলে ঝুঁকিটা কমে। আমার স্বামী, ছেলেরা ভোজনপ্রিয় বলেই কোথায় কি পুরনো মজাদার রেসিপি রাঁধে এবঙ মেলে ঢাকায় – কিনে আনানো চাই। খাওয়া চাই। এমন একটি পুরনো খানদানী দোকান “দেশবন্ধু হোটেল” মতিঝিলের জনপ্রিয় খাবার-দাবার বানায়। চলে দারুণ রাত অবধি। দেশবন্ধু হোটেল হতে মাঝেমাঝেই আনতেন আমার স্বামী আলু-বেগুন এর এমনতর ঘ্যাটসব্জি। খবার পরে আমার স্বভাবদোষে নিজেই সেটি বানাতে বসি … সবাই খেয়ে বেশতো “দেশবন্ধু হোটেল” স্টাইল হইসে বলাতেই আমিও মহাখুশি।

আমার এই সহজপাচ্য রেসিপি রাঁধা পারবে ছেলেরাও সহজে। আলু, বেগুন, কাচকলা টুকরো করে খোসাসুদ্ধো ধোবার পরে লবন, আদাকুচি, রসুনকুচি, জিরেগুঁড়ো, হলুদগুঁড়ো দিয়ে চুলোয় সিদ্ধ বসাতে হবে আন্দাজমতো পানিতে। পানি কমলে ডাল ঘুটনি দিয়ে একটু আধাভাঙা করতে হবে। পেপে ও ফুলকপি, কুমড়ো ছোট টুকরো করে কাঁচামরিচ কয়েকটা সমেত দিয়ে আরও কিছুক্ষণ চুলোয় সিদ্ধ করতে হবে। শুকিয়ে এলে পিঁয়াজকুচি, তেজপাতাকুচি, পাঁচফোড়নগুঁড়ো, গরম মশলাগুঁড়ো, শুকনোমরিচ দুটো একটু তেল বা ঘিয়ে বাদামী রঙ ধরলে গোলমরিচগুঁড়ো দিয়ে বাগার দিলেই দারুণ সব্জিঘ্যাট তৈরী।

যাহোক, আজ আমার ভর-ভরন্ত পরিবারটা সংকুচিত হয়েছে। নয়জন দেবর-ননদের কেউ-ই পাশে থাকে না। বিবাহসূত্রে দেশ-বিদেশে তারা। একটা মাত্র মেয়ের বিয়ে দেবার পর আরও ফাঁকা ঘরের পরিবেশ। নাতি-নাতনী এলে ঘরটা ভরে। একলা থাকা ফুরোয় সেইদিন। নইলে সকাল-সন্ধে একদমই একা। কি করা … ভালো লাগলে দুই / তিনটা পদ নিজেই রাঁধি। ছেলের জন্য, মেয়ের জন্য, স্বামীর জন্য, নিজের জন্য রাখি ও কাজের মেয়েকে দিই। অতঃপর বসে থাকার বেলা … নামাজ, দোয়াপাঠ, একটু লেখালেখি, একটু হাঁটাহাঁটি … একলা গৃহকোণ সাজানো … বইপত্তর গুছেনো … ব্যাস। আমার দিন ফুরালো।

৮-ই ডিসেম্বর। ২০১৫ বঙ্গাব্দ।
ঢাকা। বাংলাদেশ।