ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

আজ দুপুর বেলা বাংলা ম্যেনু রাঁধছি। গরম ভাতের সনে সবুজ ডাঁটাশাক, চিংড়ি-ডাঁটা-টমেটু-আলুর লালঝোল ধনেপাতা-কাঁচামরিচ সহযোগে।

সবুজ ডাঁটাশাক।। চিংড়ি-ডাঁটা-টমেটু-আলুর লালঝোল।।

মজাদার এবঙ সহজ রেসিপি। বাজারভর্তি এখন শীতের সবজি। তরতাজা সবুজ শাক, ধনেপাতা ও লাল টমেটু, নতুন আলুর সমাহার। দেখলে কিনে রাঁধতে ইচ্ছে হয় না এমন বাঙালি আছে? আমার মায়ের হাতের শাকান্ন আমরা দশ ভাইবোনেরা চেটেপুটে খেয়েই বড় হয়েছি। বড় হবার পর নিজেও বাধ্য হয়েই রাঁধাবাড়া শিখেছি। তখন বুঝেছি সামান্যে দারুণ পদ পরিবেশন করাটাই আসল আর্ট । রাঁধুনী আদতে তারেই বলে। বিরিয়ানিও হার মানতে পারে তেমন বাংলা রাঁধুনীর হাতেই। আর অল্প আয়ের মানুষের বিরিয়ানীর বিলাসিতা কেবল বিবাহের দাওয়াতেই সীমাবদ্ধ। তো, সেই দুঃখপাঁচালি এদেশের অধিকাংশ মানুষের। সে কাহিনীতো চারপাশ জুড়েই। থাক, সে কথা। অফুর দুপুর তাদের কত উপোস কাটে আমরা জানি কতটা তার?

মনখারাপ করা পাঁচালি ছেড়ে রেসিপি দিলাম আমার আজকের দুখানা সহজ পদের।

সবুজ শাকভাজি :
তরতাজা সবুজ যে কোনও শাক আস্ত ধুয়ে কুচিয়ে কেটে চুলায় কড়াইতে কয়েকখানা রসুনকুচি, শুকনোমরিচ গরম তেলে বাদামী রঙ ধরলে শাক ছাড়তে হবে। লবণ, পিঁয়াজকুচি, কাঁচামরিচ কয়েকখানা দিয়ে নাড়তে হবে। শুকিয়ে এলে আরও কয়েকখানা শুকনোমরিচ ভাজা ছড়িয়ে দিয়ে নামাতে হবে।
চিংড়ি-ডাঁটা-টমেটু-আলুর লালঝোল :
কয়েকটি মাঝারি চিংড়ি খোসা সমেত কেটে-ধুয়ে হলুদ-লবন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে লেবুর খোসা মাখিয়ে। ডাঁটা, আলু মাঝারি সাইজে টুকরো করে ধুয়ে রাখতে হবে। চুলায় হাঁড়ি চাপিয়ে তেল গরম করে পিঁয়াজকুচি, দুখানা কাঁচামরিচ ও চিংড়ি ভাজতে হবে। হলুদগুঁড়ো দুইচামচ, মরিচগুঁড়ো একচামচ, একচামচ রসুনবাটা, আধাচামচ আদাবাটা, লবণ দিয়ে কষিয়ে আলু-ডাঁটা ছাড়তে হবে। একটু সিদ্ধ হলেই দুখানা টমেটু কেটে ছাড়তে হবে। টমেটু নরম হয়ে লালঝোলের রঙ ধরলে ধনেপাতাকুচি, কাঁচামরিচ ছড়িয়ে ঢাকনা দিয়ে একমিনিট রেখে নামাতে হবে। এবার খেয়েই দেখুন – গরম ভাতের সনে।

১১-ই ডিসেম্বর। ২০১৫ সাল।
ঢাকা। বাংলাদেশ।