ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

 

বাউল সাধক লালনসাঁই-র ১২১তম অন্তর্ধান বার্ষিকিতে কুষ্টিয়ার কালিগঙ্গা তীরবর্তী ছেঁউরিয়ায় লালন মাজার প্রাঙ্গনে ৪দিন ৪রাত ব্যাপী বিনিদ্র ভক্তকুলের মিলনমেলা ভাঙবে আজ। মানবতাবাদী এই সাধক বাউলের জন্ম কুষ্টিয়ার কুমারখালির ভাড়ড়া গ্রামের এক কায়স্থ পরিবারে ১১৭৯ বঙ্গাব্দ-র ১ম কার্তিক। তাঁর মৃত্যুও ১২৯৭ বঙ্গাব্দ-র ১ম কার্তিক। এই আশ্চর্য জন্ম-মৃত্যুযোগ কেবল সাধক আত্মার ক্ষেত্রেই সম্ভব। আমার এই মনে হয়। যদিও তাঁর জন্ম হিন্দু না মুসলিম পরিবারে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিন্তু লালন যে গেয়েছেনঃ

সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে /
লালন কয় জাতের কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।

যার মানে লালন জাতিভেদ মানতেন না। তাঁর গানে হিন্দু-মুসলিম ধর্মের মরমী বাণী যেন এক সুনিপুণ সাধনার দিকেই প্রবাহিত করেছে তাঁকে। সে সাধনা কেবলই সৃষ্টিকর্তার সুবিশাল বৈশ্বিক আয়োজনের ভিতর গভীর-নিবিড়নিষ্ঠ সাধনে-ভজনে। তিনি গেয়েছেনঃ

এমন সমাজ কবেগো সৃজন হবে /
যেদিন হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খৃষ্টান /
জাতি-গোত্র নাহি রবে।

সত্যিইতো। এ বিশ্ববাসভূম নিশ্চয় জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকলের বসবাসের তরেই গড়েছেন সার্বভৌম সৃষ্টিকর্তা। এবঙ এই ছিলো লালনের বিশ্বাস। এমনই আধ্যাত্মিকলোকের সাধক মানব ছিলেন তিনি। তাঁকে মানব ধর্মের লালন ভাবাই উচিত সকলের। তাইতো তিনি কোন ধর্মের তা নিয়ে মতভেদ/বিতর্ক নিতান্তই তুচ্ছ কেবল নয়, অবান্তর মনে হয়। মনে হয় তাতে তাঁর সাধক চারিত্রিক বৈশিষ্টের অবমাননাই করা হয়। আদতেই সকল ধর্মাধর্মের ঊর্ধ্বের সাধক পুরুষ লালন। লালনের মরমী বাণী ও সুরের তুল্য কেবল লালন ও তাঁর সাধন-ভজন। ও জগতে আর কেউ নেই তাঁর মতোন।

বিশ্বময় আজ লালনের মরমীবাদ বিষয়ে বিস্তর গবেষণাধর্মী কাজ হচ্ছে। এ নিশ্চয় আমাদের পরম গর্বের। তাঁর অজর গানঃ
বাড়ির পাশে আরশিনগর /
সেথায় পড়শি বসত করে /
ও আমি একদিনও না দেখলাম তারে

আজ যেন অই গানকে অভাবনীয়ভাবেই সার্থক করে বিশ্বের দূরদূরান্ত পেরিয়ে পড়শিরা এসে ভিড় জমাচ্ছে তাঁর ছেঁউরিয়াস্থ লালনভূমিতে। মেতে উঠছে অভূত লালন বব্দনায়। যেন তীর্থভূমি।

অজর সাধক লালনসাঁই-র ১২১তম অন্তর্ধান বার্ষিকিতে তাঁর পূণ্য আত্মার প্রতি জানাই চির-কৃতাঞ্জলি।

***
৪ কার্তিক ১৪১৮