ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

প্রিয় জয়, তোমাকে ছুঁয়েছি এক শিশুতোষ ঘোরে। এ যেন দ্রোহী কবিতার মতোই একরোখা গোমতি-র তীব্র কলরোলে জেগে ওঠার দিনমালা। যেরকম হু-হু ভয়াল প্রহরে ভোরগুলি ছুঁয়ে লিখেছি জয়বার্তা। লিখেছি উদাসকাল কাঁপা হৃদিপাশে। যেরকম জ্বেলেছি শুকনো ধারাগুলি ঘাসে-ঘাসে, যেন খানাখন্দগুলি বুঝেশুনে চলি। যাতে শত্তুরের মুখ চাই হয়ে আসে। তখন বাতাসে মর্মরিত পথগুলি উড়িয়ে-পুড়িয়ে প্রিয় গ্রামগুলি রেখেছি পাঁজরে। দ্রোহতলে উতসর্গ করেছি সমস্ত দগ্ধ দিনরাত্রি, জানি, একদিন বসন্তে বসবো ঠিক সবুজ তোমার পাশে। তখন আগুনমাখা মৃত্যুর আঙুল থেকে খুলে নেবো মুক্তির হিঙুল আংটি। সমস্ত বর্বর রাত্রি ভুলে সমস্ত অন্যায়যজ্ঞ ভুলে তোমার দু’হাতে তুলে সেবো ঠিক আমাদের ধস্ত নদী, স্বপ্নাদ্যের মাঠ, মাঠের উড়াল আর দুঃখজঞ্জাল।

প্রিয় জয়, আমরা পুড়ছি আজও অযুত কান্নায়। পিতৃহীন-ধাত্রীহীন আমাদের উতস কুঁকড়ে আছে অব্ধকারের থাবায়। নদীদের-বৃক্ষদের-পাহাড়ের-মেদিনীর বুকফাটা আজ হাজার কুঠারে-কুঠারে বঙ্গপোসাগর তবু বয়ে যায়। তবুও আমরা জাগি সহস্র পাঁজরজাগা ছায়াতুর মাতৃভাষায়। আমাদের আগামীর অঙ্কুরিত অনন্তের গান ধায় নব-নব ফসলিত গাঁয় চির-নতুনের আশায়-আশায়। জানি, একদিন হার হবে সব অশুভ ও অশনির। একদিন সব নীড়হারা অতিথি পাখিরা ফিরে পাবে নীড়। যদিও আপদকাল সহজে কাটেনা। জখমিত মেঘাকাশে সূর্যালোক সহজে হাঁটেনা।

প্রিয় জয়, তথাপি তোমাকে ছুঁই নদীতুর সুতীব্র ভাষায়। জানি, জগতের জয়বার্তা এভাবেই জগত ছাড়িয়ে যায়। জানি, জগতের জয়বার্তা এভাবেই জগত ছাড়িয়ে যায়।

প্রিয় জয়, তুমি কি জানতে পাও তোমাকে ছুঁয়েছি বলে এ পাঁজর নিযুত অন্ধকারেও আগুনিয়া হয় ! তুমি কি দেখতে পাও তোমাকে ছুঁয়েছি বলে দগ্ধ আলো জয়ের উতস হয় ! তুমি কি বুঝতে পাও এদেশের সব নদী সব হৃদি ভাইবোন হয় ! তুনি কি লিখতে চাওঃ জয় কোনও ভয়ে নত নয়, জয় কোনও ভয়ে নত নয় !