ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব

আমাদের অনেক ভাগ্য যে জগতবিখ্যাত এক বিজ্ঞানী জন্মেছিলেন এই দেশে, যিনি প্রথম আবিষ্কার করেন বৃক্ষেরও আছে প্রাণ, বৃক্ষও প্রাণ-ধারণের জন্য প্রকৃতি থেকে শিকড়গত বৈশিষ্টে সালোকসংশ্লেষণ-এর মাধ্যমে জীবন-জৈবিক ক্রিয়ায় বাঁচে, বাঁচায় ধরিত্রী-র মানুষদের জীবন-জীবিকার প্রাকৃতিক চক্রকে, তিনি এদেশের সন্তান স্যার জগদীশচন্দ্র বসু। আজ তাঁর ১৫৩ তম জন্মবার্ষিকী।

ঢাকা-শ্রীনগর-দোহার-এর সড়ক পথ ধরে টুরিস্ট স্পট হিসেবে প্রায়শঃই মুখরিত থাকে স্যার জগদীশচন্দ্র বসু-র ঘন সবুজের সমারোহময় বাড়িটি। কৌতুহলী লোকজন-শিক্ষার্থী আর দেশী-বিদেশী গবেষকদের পদচারণামুখর বাড়িটি দূর থেকেই আকর্ষণ করে। কিন্তু আশ্চর্যের যা তা এই যে বিজ্ঞানী-র মূল বসতবাটি ভবনটির করুণ দশা। প্রায় ৩০০ বছরের বেশি পুরনো ঐতিহ্য মন্ডিত বিজ্ঞানী-র স্মৃতিজড়িত বাসভবন-এর এমন অবহেলিত অবস্থা বেদনার এবঙ কাম্য নয় মোটেও। তাঁর আবিষ্কার নিয়ে আইনস্টাইন-এর মন্তব্য মনে পড়ছেঃ স্যার জগদীশ-এর প্রতিটি আবিষ্কারের জন্য একটি করে স্তম্ভ করা উচিত। আর আমরা কি না জানিওনা ভালো তিনি কি-কি আবিষ্কার করেছেন ! এমন কি তাঁর জন্মদিন-মৃত্যুদিন পর্যন্ত জানা নেই আমাদের অধিকাংশের ! তো, কোনও কর্মসূচীতো দূরের কথা ! এ কি উচিত আমাদের !

২০০৯ সালে বিজ্ঞানী-র বাড়িতে যাদুঘর ও উন্নয়ন-এর ঘোষণা দিয়েছিলেন বর্তমান সরকার-এর তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। অই ঘোষণা পর্যন্তই। ৩ বছরেও কাজ কিছুই নয়। আজকের সিনটিতে এ বিষয়ে জরুরী পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আবেদন জানাই।

নিজ মাতৃভূমে জগতবিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসু-র এমন অনাদর নিশ্চয় ক্ষমাহীন অপরাধ আমাদের। তাঁর ১৫৩ তম জন্মদিনে তাঁকে হার্দিক শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধভার থেকে খানিক মুক্তি পাবার আশায় আমার এই লেখাটি নিবেদন করছি।