ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

হরতাল যদিও প্রতিবাদ-এর একটি উপায়, তথাপি আজকাল এতে মোটেও জনসমর্থন না থাকলেও, ভাঙচুর-হামলা-ধরপাকড়ের আশঙ্কা থাকায় একরকম পালিত হয়েই যায়। আর হরতাল যারা ডাকে তারা এটি সফল করার জন্য জনগণকে অভিনন্দন জানায় !! আদতে তথ্য কিন্তু সম্পূর্ণই উলটো। হরতালে কেবল ব্যস্ত সড়কগুলি খানিকটা যানজটমুক্ত দেখায় বটে, রিক্সাওয়ালাদেরও ভাড়া হাঁকানোর দিন যায় ভালো, বেকার-বখাটের সুযোগ আসে পুলিশ-এর প্রতি ঢিল ছোঁড়ার / ভাড়াটে গুন্ডার হাতে আগুনে পুড়ে যায় সরকারি বাস / প্রাইভেট গাড়ি !! এবঙ অগণিত খেটে খাওয়া মানুষরা যারা ‘দিন আনে দিন খায়’ তাদের হয়তো উপোস কাটে। শিক্ষার্থীদের একটি দিনের ক্ষতির কথা ভাবেওনা কেউ। জরুরী কাজকর্মে পথে বেরুনো দূরদূরান্তের মানুষদের চরম ভোগান্তির একটি দিনের কথাও ভাববার প্রয়োজন / অবকাশই নেই হরতাল আহবানকারীর।

আমার প্রশ্নঃ বিদগ্ধ মানুষ / যাননাহন-এর ক্ষতিপূরণ-এর দায়ভার কার ??? আজ কি ‘হরতাল’ নামের ক্ষতিকর প্রতিবাদ-এর প্রক্রিয়াটির বিকল্প সুস্থ একটি প্রক্রিয়ায় যাওয়া জরুরী নয় ? বিশ্বের কোথাও কি এমনভাবে হরতাল পালিত হয় তুচ্ছাতিতুচ্ছ ক্ষুদ্র কারণে জনস্বার্থহীন হীনস্বার্থে ???

ক্রমবর্ধমান ঢাকার সার্বিক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ-এর জন্য ঢাকা দুভাগ হলে জনস্বার্থের কি এমন ক্ষতি হবে আমার স্বল্প জ্ঞানে তা কিভুতেই বোধগম্য না। কিন্তু এটুকু পরিষ্কার বুঝি যে হরতাল-এর নেতিবাচক-ক্ষতিকর দিকগুলির জন্যই আজ হরতাল পরিত্যাজ্য হওয়ার সময় হয়েছে। আগামীতে যাতে হরতাল-এর বিকল্প দাবী আদায়ের যথার্থ পন্থা আবিষ্কৃত হয় নতুনের হাতে আজকের চাওয়া এই। পুরনো বিদায়ের মধ্য দিয়েই নতুনকে স্বাগত জানানোর ইতিবাচক অধ্যায় তৈরী হউক বাংলাদেশের বিজয় মাসে আজ প্রার্থনা এই।