ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ-এর অন্যতম বিরোধীতাকারী যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম অবশেষে গ্রেফতার হলেন। স্বাধীনতার চল্লিশ বর্ষ পরে হলেও এই ঘৃণ্য মানবতা লঙ্ঘনকারীর হাতে হাতকড়া পড়লো। এ যেন অবশেষে সত্য-র জয়। আর অবধারিত সেই জয়ের আভাসমাত্র পেয়েই যেন আজ ” কি আনন্দ আকাশে বাতাসে ” !! যদিও গোলাম আযম বয়সের ভারে কাতর খানিকটা, তথাপি এইসব ঘৃণ্য পাকিজান্তা-র দোসরদের জন্য আজ আর নিশ্চয় নয় কোনও ক্ষমা। ১৯৭১এ এদের প্রত্যক্ষ সহযোগেই বাংলার মাটিতে নির্মম-নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের কর্মকান্ড পরিচালিত করতে পেরেছিলো পাকি-জান্তা, মনে পড়লেই ঘৃণার আগুন দাউদাউ হয় আজও। কত নিরাপরাধ বাঙালি-নিধনের রোমহর্ষক তান্ডব এরা চালিয়েছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে পাকি-জান্তার দোসর হয়ে তার দৃষ্টান্ত বিশ্বে বিরল। এরা তখন নির্দ্বিধায় শিকার বানিয়েছে এদেশের লক্ষ নিরস্ত্র মানুষকে। লক্ষ মায়ের বুক খালি করেছে লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার প্রাণসংহার করেছে নির্মম অত্যাচারে। বাংলার গ্রামকে গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে বিরানভূমি করে ছেড়েছে। লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করে তাদের নিরন্তর লাঞ্ছিত করে নির্যাতন করেছে। লক্ষ পিতার বুক ঝাঁঝরা করে উল্লাস করেছে শত্রুর সনে। তখন এতটুকু মমতা জাগেনি তাদের মনে। তখন তারা এতটুকও কাতর হয়নি এমন নৃশংস নিপীড়নযজ্ঞ চালাতে !! তারাই আদতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রধান শত্রু, তারাই এদেশীয় শয়তানের দল আলবদর-আলশামস-জামাত-রাজাকার-এর দল, পাকিজান্তার দোসর। যাদের অন্যতম পালের গোদা এই গো-আযম। তারই নির্দেশে দেশীয় শয়তানরা এই দেশেই মুক্তিযুদ্ধের নয়মাস ধরেই পাকিজান্তার সহচর হয়ে হত্যা-ধর্ষণ-নিপীড়নযজ্ঞ চালিয়েছে। যখন বাংলাদেশ-এর বিজয় নিশিতপ্রায়, ঠিক সেই সময় তারা তাদের মরণ-কামড় হিসেবেই বাড়ি-বাড়ি গিয়ে আমাদের নমস্য বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে বধ্যভূমিতে নির্মম অত্যাচারে হত্যা করে। মনে পড়লেই দ্রোহের আগুন জ্বলে মনে। এই দেশ কি তবে তাদের হতে পারে !! মন বলেঃ এদেশ তাদের নয়, এদেশ তাদের নয়। মনে হয় দেশমাতাও নিশ্চয় চল্লিশ বর্ষ ধরে অপেক্ষায়, এদের শাস্তি দেখে তবেই শান্ত হবে ধাত্রীমায়ের জ্বলন্ত মাটি।

বাংলাদেশের আপামর জনগোষ্ঠী সহ আজকের প্রজন্মও বাংলার মাটিতে ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীগঙ-এর উচিত শাস্তি দেখার অপেক্ষায়।

আজ আমরাও আশাবাদী যে বিচার যখন শুরু হয়েছে , একে-একে গ্রেফতার হয়েছে অনেক ক্ষমতাধর চিহ্নিত অপরাধী, তখন বিচারবিহীন ছাড় পাবার আর কোনও জো নেই। বিচার হতেই হবে। শাস্তি হবেই হবে। আইনের কোনও ফাঁকফোকর গলে যেন পার পেয়ে না যায় সেজন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কঠোর ভূমিকা কাম্য।

সর্বোচ্চ শাস্তিবিধান হউক এই ঘৃণিত রাষ্ট্রদ্রোহীদের এবঙ এই বিচার এই শাস্তি বহির্বিশ্বে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করুক। বাংলাদেশ যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বিচারিক প্রক্রিয়ার এক মডেল রূপে অনন্য স্বীকৃতি অর্জন করে, স্বাধীনতার চল্লিশ বর্ষে প্রার্থনা এই।

মহান সৃষ্টিকর্তার কাছেও এই প্রার্থনাঃ হে বিধাতা, তোমার অমোঘ বিধান রূপে এই দেশে সত্য-র জয় হউক, বাংলাদেশ-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জয় হউক, আমজনতার চাওয়া পূরণ হউক, আমেন।