ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী স্টেশনগুলোতে বহুকাল ধরেই বিচিত্র-অবৈধ বাণিজ্যের দৃশ্যে সাধারন যাত্রীরা এক অসহনীয় বিড়ম্বনার শিকার হয়ে প্রায় হতবাক যাতনা অনুভব করেন। স্টেশনগুলোর কাছেই কিন্তু বর্ডার গার্ডের ছাউনি থাকে, একদিকে বাংলাদেশের, অন্যদিকে ভারত-এর। এবঙ রেলওয়ে পুলিশ থাকার পরেও সীমান্তবর্তী স্টেশনগুলোতে ট্রেন আসা মাত্রই হুড়মুড়িয়ে বিধ্বস্ত-বিপর্যস্ত চেহারা-পোষাকের নারীপুরুষ উঠতেই থাকে। ট্রেন ছাড়ার পরেও বিরামহীনভাবে চলে তাদের ঠেলাঠেলি-চেঁচামেচি-খিস্তিখেউড় আর তারই মধ্যে দরজা-জানালা দিয়ে ধাক্কাধাক্কির চোটে শত-শত বস্তা-পুটুলি-মাল ওঠানো। যেগুলোতে বোঝাই থাকে অবৈধ ওষুধ-মাদক থেকে শুরু করে চাল-ডাল-চিনি-মশলা-শাড়ি-কীটনাশক। ট্রেন তখন চলে পিঁপড়ার মতোই ধীর গতিতে। ঘাম-ময়লার গন্ধে দমবদ্ধ হয়ে আসা যাত্রীদের দশা বর্ণনাতীত।

আমি নিজেও ২০০২ সালে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার-এর আমন্ত্রণে কুমিল্লা থেকে যাত্রা করে আখাউড়া জংশন-এ এই অভূত দৃশ্য দেখে অভাবনীয় যাতনাপীড়িত বিড়ম্বনা ভোগ করেছি। যা লেখায় তুলে আনা একরকম অসম্ভব কাজ। তখন দেখেছি যে প্রায় ঘন্টা ধরেই চলে ট্রেনে মালামালের সঙ্গে দরিদ্র মানুষগুলোর ওঠা। যাদের অধিকাংশই মহিলা। আমাদের মতো যাত্রীর বিস্ময়ের মাত্রাও তাতে মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।

আজও অই অভিজ্ঞা আমায় ভাবায়। কি করে যে সদাসতর্ক বর্ডার গার্ডের চোখ এড়িয়ে এই অবৈধ বাণিজ্য চলতে পারে তা মাথায় আসেনা। তবু ভাবি, এ কি তাহলে আমাদের আর্থ-সামাজিক দারিদ্রতার জন্যই সঙ্ঘটিত হয়েই চলেছে ! এবঙ দরিদ্র মানুষগুলো যাতে সামান্য অবৈধ বাণিজ্য করে বেঁচে থাকার একটা উপায় পায় সেজন্য দুই দেশের বর্ডার গার্ড ও রেলওয়ে পুলিশ-কতৃপক্ষ সব জেনেও এমন উদাস ভূমিকায়! আমার মন বলে, দুটোই ঠিক ! বন্ধু ও পাঠকের মত জানতে চাই।