ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশ তার জন্মলগ্ন থেকেই এদেশীয় পাকিপ্রেমী লোকজনের ষড়যন্ত্রের শিকার। বিশেষত ‘৭৫ এ জাতির পিতাকে সপরিবার হত্যার জঘন্য ষড়যন্ত্রটি বীর সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে থাকা কতিপয় পাকিপ্রেমীর ষড়যন্ত্রেই সঙ্ঘটিত হয়। এবঙ তারপর থেকেই এদেশে হত্যা-ষড়যন্ত্র-ক্যু-র মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটির শুরু।

তারপরের ইতিহাসতো এদেশের স্বাধীনতা বিরোধীতাকারীদের ক্রমাগত থাবা বিস্তারের। যারা ক্রমান্নয়ে বিএনপির কাঁধে ভর দিয়ে আজ বিএনপি-জোটের ছত্রছায়ায় ঘাতকের মতোই ওঁত পেতে আছে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের মদদে যদি কোনওভাবে আবারও আজকের বাংলাদেশ-এর গণতান্ত্রিক ধারাটি নস্যাত করা যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদের হয়তো জানা নেই বা জেনেও স্বভাবদোষেই তারা স্বীকার করেনা যে, কি দেশে কি বহির্বিশ্বে কোথাও আজ আর অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতারোহনের অপরাজনীতির মোটেও জনপ্রিয়তা নেই। বিশ্বের প্রায় সব দেশই সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে।

একটি স্বাধীন দেশের সেনাদল তার স্বাধীন দেশের রক্ষক হিসেবেই সদাজাগ্রত প্রহরীর মতোন দায়িত্ব পালনের কঠিন-কঠোর-নিয়ম মেনে চলবে, নিজেদের ‘চেইন অব কমান্ড’ যে কোনও মূল্যে ধরে রেখে বীরের ইমেজ নিয়েই গর্ব ভরে দেশমাতৃকার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করার কাজটি করে যাবে, এটিই আজ সবার একান্ত কাঙ্ক্ষিত।

আর আমরা আজ যারা বাংলাদেশ ও তার জাতিগত ঐতিহ্যে গর্বিত হতে চাই, তারা নিশ্চয় সাম্প্রতিক সেনা-অভ্যূত্থান ঘটানোর অপচেষ্টাটি যেভাবে আমাদের বীর সেনাবাহিনী তার ‘চেইন অব কমান্ড’ এর চমতকার দৃষ্টান্ত রেখে নস্যাত করে দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করলো তা সত্যই এক নতুন দৃষ্টান্ত। কেননা অতীতে এমন নজির নেই। এদেশে জেনারেল জিয়া ক্ষমতা কুক্ষিগত করে প্রেসিডেন্ট পদ ধরে রাখার জন্য ট্রুপে-ট্রুপে সৈনিক হত্যার নজির রেখে গেছেন, যা কোনওদিনও রিপোর্ট দূরের কথা, জাতিকে জানানোর কোনও উপায়ই রাখেননি, আজও জাতি জানেওনা সেইসব হতভাগ্য সৈনিকের নাম। তাই আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবশ্যই ধন্যবাদার্হ। আমরা যারা নিতান্ত সাধারন জনতার দল আমাদের মনেও এক নতুন আশা-জাগানিয়া জয়বার্তাই দিলো যেন আমাদের বীর সেনাবাহিনী যে, তারাও আমাদের মতোই অপরাজনীতিমুক্ত-ষড়যন্ত্রমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ-এর স্বপ্ন দ্যাখে, আজ আর তারা নিছক জনবিচ্ছিন্ন সেনাদল মাত্র নয়, তারাও এদেশের সকল ভালোমন্দের সঙ্গে সম্পৃক্ত জনতার ভালো চায়। আমরা তাই আজ গর্ব ভরেই সালাম জানাই, বলিঃ জয়তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

২১জানুয়ারি ২০১২ইং