ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশপরগনা জেলার বশিরহাট বিপ্লবী বাদশাহ তীতুমীর-এর জন্মস্থান। এই ঐতিহাসিক বিপ্লবীর জন্মসাল ১৭৮২। জন্মদিন ২৮ জানুয়ারী। যিনি তাঁর শিক্ষাজীবন শেষ করেই নিজ এলাকার বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদপুষ্ট ও তাদের পোষ্য জমিদারদের বিরুদ্ধে প্রজাদের আন্দোলনে উদবুদ্ধ করার কাজে নিবেদিত হয়ে নেতৃত্ব দেন। এবঙ অচিরেই সংগঠিত করেন অনেক কৃষক-প্রজাদের নিয়ে ‘মুজাহিদ বাহিনী’। তিনি ক্রমেই তাঁর বাহিনীকে বিশাল বৃটিশ শক্তির মোকাবিলা করার লক্ষ্যে বিশেষভাবে দক্ষ করে তোলেন ঢাল-তরোয়াল-লাঠির ট্রেনিং দিয়ে। জমিদাররা তীতুমীর-এর এই ক্রমশঃ সুসংগঠিত আন্দোলনে শঙ্কিত হলে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ তাদের স্বার্থে প্রজাবিদ্রোহ দমনে তীতুমীর-বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে একে-একে পরাজিত হতে থাকে। তীতুমীর-এর মুজাহিদ-বাহিনীর হাতে নিহত হয় ইংরেজ কুঠিয়াল ডেভিস, কালেক্টর আলেক্সান্ডার ও জমিদার দেবনাথ রায়।

তখন বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ-এর ‘ইস্ট-ইন্ডিয়া-কম্পানী’ তীতুমীর-এর ‘পরে সসস্ত্র আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ার পরিকল্পনা করে। তখন ১৮৩১ সাল। তখন কিন্তু তীতুমীরও নিজ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গড়েন তাঁর ঐতিহাসিক দূর্ভেদ্য ‘বাঁশের কেল্লা’ নামের দূর্গ।

কিন্তু বৃটিশবাহিনীর আধুনিক কামান-গোলা-বন্দুক সমৃদ্ধ সমরাস্ত্রের কাছে তীতুমীর বাহিনীর সেকেলে অস্ত্র ঢাল-তরোয়াল-লাঠি দাঁড়াতে পারেনি বেশিক্ষণ। দুর্ভাগ্যজনকভাবেই তীতুমীর তাঁর বিপুল লড়াকু বাহিনীসহ বাঁশের-কেল্লার ভিতরেই শহীদ হন। সেদিন ১৯ নভেম্বর ১৮৩১ সাল। ঐতিহাসিক এক রক্তক্ষরা অসম-যুদ্ধের সংগ্রামী নেতা তীতুমীর তাঁর অসম-সাহসিকতায় বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ-এর বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার এমন বীরত্বময় চরিত্রের নাম হিসেবেই বাংলার মানুষের মনে চিরনমস্য এক ব্যক্তিত্ব।

আজ তীতুমীর-এর ২২৯তম জন্মদিনে তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি জানাই সংগ্রামী অভিবাদন, শ্রদ্ধাঞ্জলি।
২৮ জানুয়ারী ২০১২ইং