ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

কবির ভাষায় ” ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত ” ! কি অদ্ভুত নৈসর্গিক বার্তা ! হয়তো চারপাশ ভেসে যাচ্ছে বহুল কান্নাভেজা সংবাদে, তথাপি নিসর্গ তার নিজস্ব ভাষায় জানান দেয় ঠিক এই দেখো চলে যাওয়া হেমন্তের হাত ধরেই নিয়ে এলাম শীত, এবার কিন্তু শীতও যায়-যায়, এবঙ তার পায়ে-পায়ে অজস্র ঝরাপাতায় হলুদ-লাল-সবুজ-এর সমারোহে বসন্ত জেগে উঠলো তোমার পাড়ায় ! ওপাড়ায় হয়তো শাদা পাতারা ঘুমন্ত এখনও !

এমন অদ্ভুত বিশ্বেই বাস করি বটে আজ আমরা। তবুও শুনছি বসে জঙ লাগা প্রায় শীতার্ত বাতাসে ঝরাপাতার শব্দ। বাতাসে বইমেলার গন্ধ। একুশ ও ফাল্গুন একাকার স্মৃতির প্রহর বলছেঃ এসো, আমার ভায়ের রক্তজলের অক্ষরে ভেজা বাংলা বর্ণমালায় আজকের সহস্র নতুন শব্দের সারি-সারি চুপ মলাটবন্দী বইদের পাশে দাঁড়াও, কৃতাঞ্জলি জানাও শহীদ ভায়ের তরে। কান পেতে শোনো বাংলা মায়ের রক্তাক্ত ভাসান।

আজকাল যদিও আমার বইমেলায় যাওয়াই হয়না বহুবিধ ক্রণিক অসুখের কারণে , কিন্তু মন পড়ে রয় যেতে না পারা বইমেলায়। মিডিয়ায় দেখি ঝকঝকে সব রঙিন মলাটের বই, ভালোলাগায় ভাসি আর ভাসাই একান্ত সময়। বিষম গভীর এক দায়বোধ জেগে ওঠে সত্যবদ্ধ চেতনা জুড়ে, যা এড়ানো অসম্ভব বলেই গ্লুকোমা আক্রান্ত অপারেশন করা চোখ নিয়েই বসি কম্পিউটারে। যদি কিঞ্চিত হলেও লেখার মধ্য দিয়েই আগামীর জন্য সত্যকথন রেখে যেতে পাই। সামান্য এই চেষ্টার দায়ভার পুরনো হৃদয় ছাড়িয়ে নতুন হৃদয় জগাতেও পারে এই ভেবেই লিখি যখন যা মনে আসে।

জানি বসন্ত আজ, কাল ভ্যালেনটাইন্স দিবস, ফুলেল আয়োজনে মাতবে মানুষ, নিশ্চয় এ অনেক ভালোলাগাময় বার্তা। তথাপি কিন্তু চারপাশের বাতাসে অপমৃত্যুর বর্বর-ভয়াল ভার, এ ভার বহন মাত্রাতিরিক্ত কষ্টসাধ্য। বেদনারা যেন আজ বড় বেশি ভয়ঙ্কর মাত্রাছাড়া। আজ কি বসন্তও কাঁদবে নাকি এমনই ভাবনা কড়া নাড়ছে খুব জোরে বোধের দরোজায়। অদ্ভুতুড়ে ভাবনাজালে আটকা পড়ি, ভাবিঃ আমি কি বসবো একাকী আমারই অজানিত মৃত্যুর পাশে !! কি জানি কি অভূত শঙ্কায় হৃদি ভেসে যায় রোদনভরা এ বসন্তে !!

১ ফাল্গুন ১৪১৮ সাল