ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আজকাল প্রায়ই ভাবিঃ আমরা যারা প্রিয় বাংলাদেশটির ‘বাংলাদেশ’ হয়ে উঠবার সংগ্রামী ও রক্তাক্ত ইতিহাস লালন ও ধারণ করতে ভালোবাসি বলেই বারংবার বলা / লেখার চেষ্টারত, কিন্তু এ ঐতিহাসিক সত্য নিজের সন্তান-সন্ততিসহ আগামীর শিশুরাও যাতে ভালোবেসে জানতে-পড়তে আগ্রহী হয় তা সেইভাবে বলছিতো ! মানে, আমাদের বলা / লেখায় / উপস্থাপনায় আজকের শিশুরা উতসাহ পায় তো !

যদি পায় তবে তো যারা জীবনে পড়েনি স্বদেশ তারা আজ পড়ার কথা, তবে তো চারপাশ থেকে সকল মিথ্যে / মিথ্যের বেসাতির অবসান ঘটার কথা। অথচ, কই, তেমন মনে হচ্ছে কই ! আজও তো মিথ্যের দাপটে বিস্তর জনগোষ্ঠীর মগজ ধোলাইয়ের কাজটি এতটাই অগ্রসরমান যে অশনির আঁচ যথেষ্টই আশঙ্কার বলেই মনে হয়। তবুও বড়ো এক সত্যবদ্ধ দায় থেকেই বারংবার ইতিহাসের জলছবিদের জীবন্ত করে তুলতে চাই নিজের সামান্য লেখায়। অথচ কিছুতেই তা যেন মনের মতোন ধরা দেয়না। যাতে শত ব্যাধ ও ব্যাধির দাপট অগ্রাহ্য করে শাস্ত্রীয় বাণীর মতোই বলা যায় ‘ রে ব্যাধ, তোর বিস্তার হবেনা, দেখিস ‘ !!

শত ভয়াল থাবার নখরে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ-এর ভবিষ্য প্রজন্ম শিকড়জল থেকে খরা কবলিত মাতৃস্নেহচ্ছায়া বঞ্চিত অসংখ্য মানুষের কাতারে না দাঁড়ায় এই ভেবে কি এক যাতনা তাড়িত কালের আয়নায় অজানা আগামীর মুখ দেখতে গিয়ে নিজের বিবেকের মুখটি আগে দেখে নিই। নিশ্চিত হই। অতঃপর ঐকান্তিক ইচ্ছের তাড়নায় আমার অন্তর্জাল থেকে এযাবত সংগ্রহ করা ছবিমালার ঐতিহাসিক কিছু ছবি উপস্থাপন করবার সিদ্ধান্ত নিই। আমার অগাধ বিশ্বাস জলছবিরা নিশ্চয় সত্য-র ধারক-বাহক।

আজ আমরা অতিক্রম করে এসেছি আমাদের স্বাধীনতার চল্লিশটি বর্ষ। স্বাধীনতার জন্মদাতা মহান বঙ্গবন্ধু সহ সহস্র শহীদের আত্মদান কখনওই কোনও অপপ্রচারে হারিয়ে যাওয়ার নয়। তা আমাদের জাতীয় অহঙ্কার। আমাদের জাতিগত আত্ম-পরিচয়ের ঐতিহাসিক সত্য। এবঙ সব মিথ্যে সব অশনি ভেদ করেই সত্য যুগে-যুগে জয়ী হয় বলেই ভাবিঃ যারা জীবনে পড়েনি স্বদেশ তারাও নিশ্চয় আজ না হোক কাল পড়বে। পড়বেই। দেশ-মাতৃকার অজর কথা না পড়লে যে মাকেই অবজ্ঞা করা হয়। তাতে যে পাপ হয়। আমরা নিশ্চয় আমাদের শিশুরা যাতে অমাদের পাপের ভাগীদার না হয় সেই লক্ষ্যে স্ব-স্ব অবস্থানে থেকেই কাজ করে যাবো বাঁচি যদ্দিন।

১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১২ ইং